ময়মনসিংহ নগরের মাসকান্দা এলাকায় মোহাম্মদ রাব্বি নামের এক তরুণকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় আবদুল খালেক (২৭) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১৪। গত বৃহস্পতিবার রাতে নগরের রঘুরামপুর এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়। শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে র্যাব-১৪ ময়মনসিংহের কোম্পানি কমান্ডার মো. সামসুজ্জামান নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার আট ঘণ্টার মধ্যে প্রধান অভিযুক্তকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে বলে র্যাব জানিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের সামনে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন আবদুল খালেক। তিনি দাবি করেন, নিজের বাবাকে অতীতে কুপিয়ে আহত করার প্রতিশোধ নিতেই তিনি রাব্বিকে আক্রমণ করেছেন। খালেক বলেন, ‘আমার বাপেরে ওরা ১৫ জনে কোপাইছে, আর আমরা দুই ভাই মিলে ওরে কোপাইছি।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাব্বি এলাকায় চাঁদাবাজি করতেন এবং যারা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানাতেন, তাদের ওপর হামলা চালাতেন। তবে খালেকের এসব অভিযোগের সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি র্যাব।
নিহত রাব্বি (২৫) নগরের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের মোড়লবাড়ি এলাকার মোবারক হোসেনের ছেলে। তিনি মাসকান্দা এলাকার আকাশ কম্পিউটারে কর্মরত ছিলেন। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে পাসপোর্ট কার্যালয়ের সামনে রাব্বি ও তাঁর ভাই মুহাম্মদ রিয়াদকে দেশি অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়। হামলা থেকে বাঁচতে রাব্বি পাশের একটি দোকানে আশ্রয় নিলে সেখানে ঢুকে তাঁকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনার পর স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তদের বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়, যা পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণে আনে।
খালেক দাবি করেন, ২০১৮ সালে রাব্বির পক্ষের লোকজন তাঁর বাবা ফজলুল হকের ওপর হামলা চালিয়ে হাত বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিল। সেই ক্ষোভ থেকেই এই পরিকল্পিত ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেছেন। হত্যাকাণ্ডে একটি বড় দা বা হাঁসুয়া ব্যবহারের কথাও জানিয়েছেন তিনি। র্যাব জানায়, ঘটনার আগের দিন দুই পক্ষের মধ্যে একটি সালিস বৈঠক হয়েছিল, তবে সেই বিরোধ চাঁদাবাজি-সংক্রান্ত কি না, তা এখনো তদন্তাধীন।
র্যাবের কোম্পানি কমান্ডার মো. সামসুজ্জামান জানান, এই ঘটনায় সরাসরি চারজনের জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া তাদের পেছনে আরও ৮ থেকে ১০ জনের একটি দল থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এদিকে, নিহত রাব্বির বাবা মোবারক হোসেন বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করা হয়েছে।
ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম জানান, র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া আবদুল খালেককে পুলিশের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো পক্ষ বা গোষ্ঠী জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নিজের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়ার কথা তুলে ধরে আবদুল খালেক বলেন, ‘আমার বাড়িঘর পুড়াইছে, লুটপাট করছে কে?
নিহত রাব্বির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে খালেক আরও বলেন, ‘হে (রাব্বি) প্রত্যেক দোকান থাইকা ২০০ টাকা করে চাঁদা তুলত।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে আবদুল খালেক বলতে থাকেন, ‘শিক্ষিত মানুষ আমি।
আপনাগর কাজ যদি আপনারা সঠিক করতাইন, তাইলে আমার এইন আগুন লাগত না, বুঝ্ছইন না।
গতকাল হত্যাকাণ্ডের পর সন্ধ্যায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বাড়িঘরে আগুন দেন বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
কোনো আইনের লোক তো বাঁচাইতে পারল না।
যেইডি নিরীহ, হেইডির ওপরেই জুলুম; সবলগোরে পাইতো না।
আমি বাইরইতে পারলে তাদের কপালে শনি আছে, যারা আমার বাড়িঘর পুড়াইছে।’
আমার এলাকায় গিয়া জিজ্ঞেস করে দেখেন।
আঙ্গর বেশি লোক লাগে নাকি, আঙ্গর কি কইলজা নাই?
তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পূর্বশত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে রাব্বিকে হত্যা করা হয়েছে।
ওই ঘটনার জেরে তাঁদের মধ্যে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ছিল।
Leave a Reply