নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম বৃহৎ সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটি ইনকের আসন্ন নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৬ অক্টোবর মঙ্গলবার রাতে সোসাইটির নিজস্ব কার্যালয়ে এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে নির্বাচন কমিশন এবং প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। প্রার্থীদের বেশ কয়েকটি প্রস্তাব ও সুপারিশ গ্রহণ করেছে কমিশন। ব্যালট পর্যালোচনা করে প্রার্থীরা বেশ কিছু সংশোধনী ও পরামর্শ দেন। বিশেষ করে কয়েকজন প্রার্থীর নামের বাংলা ও ইংরেজি বানানে অসঙ্গতির বিষয়টি উঠে আসে।
সভায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবু নাসেরসহ নির্বাচন কমিশনের সকল সদস্য উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও প্রতিদ্বন্দ্বী দুই পরিষদের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির ৫ জন করে প্রতিনিধি সভায় অংশ নেন। সভায় নির্বাচনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে
নির্বাচন কমিশনের পক্ষে কমিশনার রুহুল আমিন সরকার নিশ্চিত করেছেন যে, ভোটগ্রহণের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং নির্বাচনী কার্যক্রম নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে পোলিং এজেন্ট সংক্রান্ত যাবতীয় ব্যবস্থা কমিশন চূড়ান্ত করবে। ডাবল ভোট রোধ করার জন্য ভোটার তালিকা এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য বিশেষভাবে যাচাই ও হাইলাইট করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে একজন প্রার্থী কেবল একবার প্রবেশ করতে পারবেন এবং সর্বোচ্চ ১০ মিনিট অবস্থান করতে পারবেন বলে সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কমিশনের অন্য সদস্যরা হলেন বদরুল এইচ খান, মোহাম্মদ শামসুদ্দিন আজাদ, মো. রুহুল আমিন সরকার, আহবাব চৌধুরী, মিঠু হামিদ ও মোহাম্মদ দুলাল মিয়া। ভোটের দিন প্রতিটি কেন্দ্রে কতজন পোলিং এজেন্ট দায়িত্ব পালন করবেন, তা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবু নাসের বলেন, কেবল কমিশনের একক প্রচেষ্টায় একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে প্রতিদ্বন্দ্বী সকল পক্ষের দায়িত্বশীল আচরণ এবং আন্তরিক সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন। প্রার্থীদের পক্ষ থেকেও নির্বাচন কমিশনকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
আগামী ২৫ অক্টোবর, রোববার এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে দুই পূর্ণাঙ্গ প্যানেল এবং সাধারণ সম্পাদক পদে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট ৪৩ জন প্রার্থী ২১টি পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সভার শুরুতে উপস্থিত প্রতিদ্বন্দ্বী প্যানেলগুলোর নেতৃবৃন্দের পরিচিতি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে সেলিম-আলী পরিষদের সভাপতি প্রার্থী আতাউর রহমান সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মোহাম্মদ আলী এবং কুনু-ফিরোজ পরিষদের সভাপতি প্রার্থী আজমল হোসেন কুনু ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী উপস্থিত ছিলেন। নির্বাচন কমিশন আশা প্রকাশ করেছে যে, সকল পক্ষের সহযোগিতায় একটি উৎসবমুখর ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব হবে।
Leave a Reply