1. admin@deshibanglatv.com : dbtvlipu :
  2. deshibanglatv@gmail.com : dtvbangla :
  3. deshibanglatv0@gmail.com : newsdesk :
November 6, 2026, 10:29 am

দারিদ্র্য বিমোচনে ইসলামের নির্দেশ ও দিকনির্দেশনা

প্রতিবেদকঃ
  • হালনাগাদ সময়ঃ Friday, October 16, 2026
  • 39 দেখা হয়েছে

মানবজীবনের প্রতিটি সমস্যার সমাধান রয়েছে ইসলামের পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থায়। মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে মুমিনদের নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, ‘হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা পরিপূর্ণরূপে ইসলামে প্রবেশ করো।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ২০৮)। সামাজিক স্থিতিশীলতা ও অগ্রগতি বজায় রাখার জন্য দারিদ্র্য বিমোচন একটি জরুরি বিষয়, যার জন্য ইসলামে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা বিদ্যমান। জীবনের নানা সমস্যা সমাধানে প্রয়োজন ইসলামের পূর্ণাঙ্গ অনুসরণ। এসব নির্দেশনা অনুসরণ করলে সমাজকে দারিদ্র্যমুক্ত করা সম্ভব। হতদরিদ্র মানুষের জন্য প্রথমেই প্রয়োজন আর্থিক সহযোগিতা। সে বলল, এ বিষয়টি ছাড়া আমার আর কিছুই জানা নেই যে দুনিয়াতে আমি মানুষের সঙ্গে ব্যবসা করতাম, অর্থাৎ ঋণ দিতাম।

দারিদ্র্য দূরীকরণে ইসলামের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো জাকাতব্যবস্থা। এটি শুধু একটি ফরজ ইবাদত নয়, বরং সম্পদের সুষম বণ্টনের একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। জাকাত ধনী ও দরিদ্রের মধ্যকার ব্যবধান কমিয়ে সমাজে ভারসাম্য তৈরি করে। আল্লাহ তাআলা সুরা জারিয়াতের ১৯ নম্বর আয়াতে উল্লেখ করেছেন, ‘তাদের সম্পদে রয়েছে প্রার্থনাকারী ও বঞ্চিতের অধিকার।’ রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নির্দেশনা অনুযায়ী, বিত্তশালীদের সম্পদ থেকে জাকাত আদায় করে তা অভাবীদের মধ্যে বিতরণের মাধ্যমে দারিদ্র্য জয়ের পথ সুগম হয় (সহিহ বুখারি, হাদিস ১৩৯৫)। জাকাতের মূল উদ্দেশ্য ধনী-গরিবের বৈষম্য কমানো, সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা এবং দারিদ্র্যমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। দারিদ্র্য বিমোচনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হলো দান-অনুদান।

ঋণগ্রস্ত মানুষের সংকট নিরসনে ইসলাম অত্যন্ত মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে। কোরআনের সুরা তাওবার ৬০ নম্বর আয়াতে ঋণ পরিশোধের জন্য জাকাতের অর্থ ব্যবহারের বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া কোনো ঋণগ্রহীতা অসচ্ছল হলে তাঁর সক্ষমতা না হওয়া পর্যন্ত তাকে সময় বা অবকাশ দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘কোনো ঋণগ্রহীতা ব্যক্তি অসচ্ছল হলে, সচ্ছলতা লাভ করা পর্যন্ত তাকে অবকাশ দিতে হবে।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ২৮০)। দয়ার এই আমল মানুষকে জান্নাতে প্রবেশ করাতে পারে বলে হাদিসে উল্লেখ পাওয়া যায় (সহিহ বুখারি, হাদিস ৩৪৫১)। আর যদি সদকা করে দাও, তবে তোমাদের পক্ষে সেটাই অধিকতর শ্রেয়, যদি তোমরা উপলব্ধি করো।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ২৮০)। আরও বলেন, ‘তোমাদের পূর্ববর্তীদের মধ্যে এক ব্যক্তির কাছে ফেরেশতা তার প্রাণ হরণের জন্য এসেছিলেন। অনেক দরিদ্র ব্যক্তি ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন। ইসলাম তাঁদের ঋণ পরিশোধের জন্য অবকাশ দেওয়া কিংবা ঋণ মওকুফের বিধান দিয়েছে। ঋণ পরিশোধে অবকাশ দরিদ্র মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখে। এরপর তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো, তুমি কি কোনো ভালো কাজ করেছ। তাকে বলা হলো, একটু চিন্তা করে দেখো।

দারিদ্র্য বিমোচনে জাকাতের পাশাপাশি সাধারণ দান-সদকার গুরুত্ব অপরিসীম। দানের মাধ্যমে গরিব মানুষ শুধু প্রয়োজনই মেটায় না, বরং স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রতিটি মুসলিমের ওপর দান-সদকা করাকে একান্ত জরুরি বলে ঘোষণা করেছেন (সহিহ মুসলিম, হাদিস ১০০৮)।

ইসলামে জীবিকা অর্জনের একটি সম্মানজনক উপায় হলো ব্যবসা-বাণিজ্য। ব্যবসা ব্যক্তিকে পরিশ্রমী, দক্ষ এবং আত্মবিশ্বাসী করে তোলে, যা দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পেতে সহায়তা করে। আল্লাহ তাআলা সুরা জুমায় নির্দেশ দিয়েছেন যে, নামাজের পর মানুষ যেন জীবিকা উপার্জনে পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে এবং আল্লাহর অনুগ্রহ তালাশ করে। এই বৈষয়িক প্রচেষ্টার পাশাপাশি মহান স্রষ্টাকে স্মরণ রাখাই সফলতার চাবিকাঠি (সুরা জুমা, আয়াত ১০)। আর বেশি বেশি আল্লাহকে স্মরণ করো, যাতে তোমরা সফল হতে পারো।’ (সুরা জুমা, আয়াত ১০)।

এই নিবন্ধটি লিখেছেন অধ্যক্ষ মুফতি মাওলানা শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী, যিনি বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং আহ্ছানিয়া ইনস্টিটিউট অব সুফিজমের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২৬ দেশি বাংলা টিভি — সর্বসত্ব সংরক্ষিত
Developer By Zorex Zira