কম্বোডিয়ার ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টারে বন্দিদশা কাটিয়ে অবশেষে মঙ্গলবার দেশে ফিরছেন ৩০ বাংলাদেশি কর্মী। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, থাই এয়ারওয়েজের টিজি-৩২১ ফ্লাইটে করে দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে তাদের ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড ব্যাংককে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম শাখায় চিঠি দিয়েছিল। অনির্বাণ সারভাইভার ভয়েস ফাউন্ডেশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বোর্ডের উপপরিচালক মোহাম্মদ জাকির হোসেনের স্বাক্ষরিত চিঠিতে তাদের দ্রুত প্রত্যাবর্তনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। চাকরির আশায় কম্বোডিয়া গিয়ে ‘স্ক্যাম সেন্টারে’ বন্দী ছিলেন ১৭ দিন, জানালেন দুঃসহ অভিজ্ঞতা।
ঘটনার সূত্রপাত গত ৩ সেপ্টেম্বর, যখন কম্বোডিয়ার নমপেন বিমানবন্দরে দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে পৌঁছান ৩২ জন বাংলাদেশি। পরবর্তী সময়ে দেশটির সরকার নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে গত ৩ সেপ্টেম্বর তাঁরা কম্বোডিয়ার বিমানবন্দরে যান।
ইমিগ্রেশন যাচাইয়ের সময় অবৈধভাবে অবস্থানের কারণ দেখিয়ে দেশটির পুলিশ তাদের আটক করে। পরে দুজন ছাড়া পেলেও বাকি ৩০ জনকে ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানো হয়। জানা গেছে, উন্নত বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে একটি দালাল চক্র তাদের কম্বোডিয়ায় নিয়ে যায় এবং সেখানে জোরপূর্বক সাইবার স্ক্যামিং বা অনলাইন প্রতারণার কাজে বাধ্য করা হতো। এসব কেন্দ্র থেকে পালানোর চেষ্টা করলে তাদের ওপর চালানো হতো অমানবিক নির্যাতন। কম্বোডিয়ায় বর্তমানে প্রায় ১৮০০ কর্মী প্রতারণার শিকার হয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কম্বোডিয়ায় প্রতারণার শিকার ১৮০০ কর্মী, ফেরত আনতে সরকারের সহায়তা কামনা। কিন্তু ইমিগ্রেশন যাচাইয়ের সময় অবৈধভাবে অবস্থানসহ বিভিন্ন জটিলতার কারণে তাঁদের আটক করা হয়। পরে তাঁদের মুক্ত করে দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।
দেশে ফিরতে যাওয়া ৩০ বাংলাদেশির তালিকায় রয়েছেন: মো. হারুন অর রশীদ, মো. আবদুল ওয়াদুদ, মো. তারলিব হাসান তিতুল, সুমিত চন্দ্র দাস, রাকিব হোসেন, বাপ্পি দাস, মো. লাবন শেখ, মো. আবদুর রহমান, মো. বিল্লাল হোসেন, মো. মোস্তফা, নূর নবী, মো. ইমন আলী, মো. বারকাতুল্লাহ, মো. রুবেল মিয়া, আলী আহমেদ, জাহিদুল ইসলাম, শামসুল আলম, মো. আবদুর রহমান, আবু জাহের সবুজ, শাওন, নাহিদ ঢালি, রাজু হোসেন, মো. তৈয়ব আলী শেখ, সাইমন ভূঁইয়া, মো. রাশেদুল, মো. আকাশ আহমেদ, মো. শিমুল আলী, আশিকুর রহমান, মো. আলামিন পিকে ও মোহাম্মদ কবির।
Leave a Reply