
কাতারের প্রবাসীদের কাছে সুপরিচিত বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট ‘ঘরোয়া’। সাম্প্রতিক সময়ে এই রেস্টুরেন্টের খাবারের গুণগত মান নিয়ে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ কিছু অভিযোগ ও সমালোচনা ছড়িয়ে পড়েছে। এ ধরনের নেতিবাচক প্রচারণার প্রেক্ষিতে রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছে এবং প্রবাসী বাংলাদেশি গ্রাহকদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে। কাতারে অন্যতম পরিচিত বাংলাদেশি রেস্তোরাঁ ঘরোয় রেস্টুরেন্ট। সম্প্রতি এর খাবারের মান নিয়ে ফেসবুকে অভিযোগ তোলেন কয়েকজন গ্রাহক। বর্তমান সময়ে কাতারের ব্যবসা-বাণিজ্য নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, বর্তমানে কাতারের ব্যবসায়িক পরিবেশ বেশ চ্যালেঞ্জিং।
এই পরিস্থিতিতে যেকোনো প্রতিষ্ঠানের সেবা বা খাবারের মান নিয়ে আলোচনা ও গঠনমূলক সমালোচনা হওয়াটা স্বাভাবিক। গ্রাহকদের প্রতিটি মতামতকে রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ সম্মান জানায় এবং এই ভুল-ত্রুটিগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে আরও উন্নত হওয়ার চেষ্টা করে। তবে অভিযোগের বিষয়টি সরাসরি কর্তৃপক্ষের কাছে না জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিসহ নেতিবাচক প্রচারণা চালানো এবং এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের সম্মানহানির চেষ্টা কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তারা। এমন পরিস্থিতিতে কোনো প্রতিষ্ঠানের ভালো-মন্দ নিয়ে আলোচনা, সমালোচনা ও পরামর্শ অবশ্যই হতে পারে।
কর্তৃপক্ষের মতে, গ্রাহকদের কোনো অভিযোগ বা অসন্তোষ থাকলে তা আগে সরাসরি রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা উচিত। তারা বলছেন, আগে কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানার সুযোগ দেওয়া হোক। যদি কোনো সমস্যার সমাধান বা যথাযথ উত্তর দিতে কর্তৃপক্ষ ব্যর্থ হয়, তবেই গ্রাহকরা তাদের বিবেচনামতো পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে পারেন। নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করার মতো নূন্যতম সুযোগটুকু তারা গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রত্যাশা করেন। বাংলাদেশি ভাই হিসেবে আমরা আপনাদের কাছ থেকে নিশ্চয়ই এতটুকু সহযোগিতা ও সহমর্মিতা প্রত্যাশা করি। একজন শুভাকাঙ্ক্ষী কিংবা একজন মুমিনের কাছ থেকেও আমরা পারস্পরিক সম্মান, ন্যায়বিচার ও সংশোধনের সুযোগ দেওয়ার মানসিকতা প্রত্যাশা করি।
দীর্ঘ আট বছর ধরে রেস্টুরেন্টটি টিকে থাকার পেছনের কারণ হিসেবে তারা তাদের কর্মী ও গ্রাহকদের পরিশ্রম ও ভালোবাসাকে কৃতজ্ঞচিত্তে স্বীকার করেছেন। তারা মনে করিয়ে দেন যে, একটি রেস্টুরেন্টের সঙ্গে শুধু মালিকের স্বপ্ন নয়, বরং বহু কর্মীর জীবিকা ও তাদের পরিবারের ভবিষ্যৎ জড়িয়ে থাকে। তাই কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট যাচাই করা এবং উভয় পক্ষের কথা শোনার অনুরোধ জানানো হয়েছে বিবৃতিতে। আমাদের পক্ষ থেকে একটি অনুরোধ—প্রথমে আমাদের জানান, আমাদের বক্তব্য শোনার সুযোগ দিন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গঠনমূলক সমালোচনাকে তারা ভয় পায় না, তবে তা অবশ্যই সত্যের ভিত্তিতে এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ হওয়া বাঞ্ছনীয়। কারো সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি করা বা কাউকে ছোট করা তাদের উদ্দেশ্য নয়। ভুল হলে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হোক এবং ন্যায়সংগত অবস্থান গ্রহণ করা হোক—এমনটিই চায় রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ।
সবশেষে, প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি সহযোগী মনোভাব বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। একে অপরের প্রতিপক্ষ না হয়ে সংশোধনের পথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে কর্তৃপক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করেছে যে, গ্রাহকদের ভালোবাসা ও সহযোগিতা নিয়েই ঘরোয়া রেস্টুরেন্ট ভবিষ্যতে আরও উন্নত মান নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে।
Leave a Reply