ভারতের তামিলনাড়ুর থেনি জেলার থেক্কামপট্টি সংশোধনাগারে ভয়াবহ নিরাপত্তা ত্রুটির ঘটনা ঘটেছে। গত ২৬ অক্টোবর রাত সাড়ে ১০টার দিকে একই কক্ষে বন্দি ১৭ জন বিচারাধীন আসামি নাটকীয়ভাবে কারাগার থেকে পালিয়ে যায়। তারা অসুস্থতার মিথ্যা অভিনয় করে জেলকর্মীদের কক্ষের ভেতরে ডেকে এনে অতর্কিত হামলা চালায় এবং মূল ফটক দিয়ে বেরিয়ে যায়। এই হামলায় জেলকর্মী থাঙ্গাপান্ডি মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, এছাড়া আরও দুজন কর্মী আহত হয়েছেন। জেলের ভেতর অসুস্থতার খবর, দরজা খুলতেই জেলকর্মীদের ওপর হামলা এবং এরপর একসঙ্গে ১৭ বন্দির পালানো। পুলিশ সূত্রে খবর, ২৬ অক্টোবর রাত সাড়ে ১০টার দিকে আদিনপট্টির (অ্যান্ডিপট্টি) কাছে ওই সংশোধনাগারে ঘটনাটি ঘটে। তাদের মধ্যে একজনের মৃগীরোগের খিঁচুনি উঠেছে—এমন চিৎকার শুরু হলে পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনজন জেলকর্মী কক্ষের দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় তাদের ওপর আকস্মিক হামলা চালিয়ে বন্দিরা মূল গেট দিয়ে পালিয়ে যান।
ঘটনার পরপরই এলাকাটি ঘিরে ফেলে পুলিশ।
থেনির পুলিশ সুপার প্রভীন গৌতম সংশোধনাগারটি পরিদর্শন করেছেন এবং দক্ষিণাঞ্চলের আইজি বিজয়েন্দ্র বিদারি পলাতকদের গ্রেপ্তারে ১৭টি বিশেষ দল গঠন করেছেন। অভিযানের অংশ হিসেবে শতাধিক পুলিশ সদস্য, স্নিফার ডগ এবং ড্রোনের সহায়তায় আশপাশের জঙ্গলে চিরুনি তল্লাশি চালানো হচ্ছে। মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, জেলের কাছের জঙ্গল থেকে পুলিশ প্রভীন, শিলাম্বরাসন, রাজকুমার ও রাজা সিকান্দর নামের চারজন বন্দিকে গ্রেপ্তার করেছে। এই অভিযানে স্নিফার ডগ ও ড্রোন ব্যবহার করছে পুলিশ।
বাকি ১৩ জন পলাতককে ধরতে থেনি, মাদুরাই ও দিন্দিগুল এলাকা ছাড়াও কেরালা সীমান্তবর্তী ইদুক্কি অঞ্চলে কড়া নজরদারি ও তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ১৯৯৫ সালে ভেলোর দুর্গের বন্দিশিবির থেকে এলটিটিই সদস্যদের সুড়ঙ্গ খুঁড়ে পালানোর ঘটনার পর, তামিলনাড়ুতে এটাই সবচেয়ে বড় বন্দি পলায়নের ঘটনা বলে মনে করা হচ্ছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে এই ঘটনায় প্রশাসনিক মহলে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। বাকি ১৩ জনের খোঁজে একাধিক দল তল্লাশি চালাচ্ছে। এর আগে ১৯৯৫ সালে ভেলোর দুর্গের বিশেষ বন্দিশিবির থেকে সুড়ঙ্গ খুঁড়ে পালিয়েছিলেন ৪৩ জন সন্দেহভাজন এলটিটিই সদস্য।
Leave a Reply