বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পী বিপাশা হায়াত তার সৃজনশীল জীবনের নানা দিক ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন। ‘ইউনিফর্মধারীদের ধাওয়ায় তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দেন’—দীপের বক্তব্যে ‘আশ্বস্ত’ হতে পারছে না পিবিআই। প্রতিশ্রুতির পরও থামছে না ‘মব’ সহিংসতায় মৃত্যু। ডেঙ্গুতে একদিনে ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১২৬২। জীবনের প্রথম দিকে পড়া, ভালো লাগা ও মুগ্ধ হওয়া কোনো কবিতার কথা বলতে গেলে ‘প্যাট্রিয়ট’-এর কথা আসবে। এই নাটকগুলোতে যে সংলাপগুলো ছিল, সেগুলো তো কবিতার মতো।
নব্বইয়ের দশকে ছোট পর্দার অসংখ্য নাটকে অভিনয় করে খ্যাতি পাওয়া এই শিল্পী ‘আগুনের পরশমণি’ ও ‘জয়যাত্রা’র মতো কালজয়ী সিনেমায় কাজ করেছেন। অভিনয় ছাড়াও চিত্রশিল্পী ও নাট্যকার হিসেবেও তিনি সমানভাবে সমাদৃত। শোকেসের প্লেট-বাটি শুধু মেহমানের জন্যই কেন। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সিনেমা ‘জয়যাত্রা’য় অভিনয় করেও ব্যাপক প্রশংসা পান তিনি। চিত্রশিল্পী হিসেবে আপনার কাজ নিয়ে জানতে চাই। সারা বিশ্বের ২০ জন শিল্পীকে নিয়ে একটি বই বের করা হয়েছে, যারা ‘আর্ট অ্যান্ড জাস্টিস’ নিয়ে কাজ করেছেন। ইতালি ভাষার এই বইটি অ্যামাজনে পাওয়া যায়। তারা আসলে আমাকে না, আমার কাজকে নির্বাচিত করেছেন। বাংলা সাহিত্যের অনেক কবিতাই আমার পছন্দ। মঞ্চেও অনেক দিন অভিনয় করেছেন।
অভিনয় থেকে সাময়িক বিরতির প্রসঙ্গে বিপাশা বলেন, বর্তমানে তিনি এমন গল্পের অপেক্ষায় আছেন যার মধ্যে সমাজচিন্তা ও দর্শনের প্রতিফলন রয়েছে। ক্যানভাস বা কাগজে যা প্রকাশ করছি, তা হচ্ছে আমার মনোজগৎ। সেজন্যই বলি, আমি ছবি আঁকি না, প্রকাশ করি।
কেবল সংলাপ লিখে নাটক হয় না, এর জন্য প্রয়োজন গভীর জীবনবোধ ও শৈল্পিক তাড়না। কবিতা আপনাকে কতটা পাল্টে দিয়েছে।
তিনি জানান, তৌকীর আহমেদের সাথে তার সম্পর্কের মূল ভিত্তি হলো পারস্পরিক সম্মান ও স্বাধীনতা। দেওয়ান গাজীর ‘কিসসা’ করেছি। ‘অচলায়তন’ করেছি।
তারা একে অপরকে শিল্পী হিসেবে মূল্যায়ন করেন, যা তাদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে প্রভাব ফেলে।
মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে সিনেমা তৈরির বিষয়ে তিনি অত্যন্ত আশাবাদী।
১৯৭১ সালে জন্ম নেওয়া এই শিল্পীর কাছে মুক্তিযুদ্ধ একটি আবেগের জায়গা।
তিনি জানান, কোনো চলচ্চিত্র নির্মাতা হওয়ার আকাঙ্ক্ষা থেকে নয়, বরং নিজের ভেতরকার তাড়না ও দায়বদ্ধতা থেকে তিনি এই সিনেমাটি তৈরি করতে চান। মাহফুজ আনামের কলাম / কেবলমাত্র নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে পারে। তিনি মানুষকে ধরে ধরে তার গল্প বলতে চান। ‘জীবে দয়া করে যে জন’—এ কথাটিও সেখানে বলা আছে। জীবনানন্দ দাশের কবিতায় অসাধারণ বোধ আছে।
বড় বাজেট বা কারিগরি উৎকর্ষের চেয়ে তার কাছে গল্পের সত্যতা ও অনুভূতির প্রকাশই মুখ্য।
আগামী তিন বছরের মধ্যে তিনি এই কাজটি শুরু করতে চান।
নিজের সৃজনশীল পথচলার পেছনে বাবা প্রখ্যাত অভিনেতা আবুল হায়াত ও মায়ের বিশাল ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন তিনি। বাবা তাকে শৈল্পিক অনুপ্রেরণা দিয়েছেন, আর সংসারজীবনে মায়ের কাছ থেকে শিখেছেন ধৈর্য ও জীবনের পাঠ। সবশেষে বিপাশা জানান, শিল্প তার কাছে কেবল বিনোদন নয়, বরং মনোজগত প্রকাশের একটি সর্বজনীন ভাষা। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ এই সর্বজনীন ভাষার মাধ্যমে যুক্ত হন। একজন বীর যখন পৃথিবী জয় করে নিজের শহরে প্রবেশ করেন, তখন তাকে গোলাপ ছিটিয়ে স্বাগত জানানো হয়। আর যখন হেরে যান, তখন তার দিকে পাথর ছুড়ে মারা হয়।
Leave a Reply