যুক্তরাষ্ট্রের সংসদীয় রাজনীতিতে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। ২০২৬ সালের ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে মিশিগান অঙ্গরাজ্য থেকে মার্কিন সিনেটর হিসেবে জয়লাভ করেছেন প্রগতিশীল রাজনীতিক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ আবদুল আল-সাইয়েদ। এ বিজয়ের মাধ্যমে তিনি দেশটির ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেন। নির্বাচনপরবর্তী ৪ নভেম্বর সিবিএস নিউজ তাঁর চূড়ান্ত বিজয়ের পূর্বাভাস প্রকাশ করে। ২০২৭ সালের ৩ জানুয়ারি তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভার উচ্চকক্ষ সিনেটের সদস্য হিসেবে কার্যভার গ্রহণ করবেন। ৪ আগস্টের ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে আল-সাইয়েদ হেইলি স্টিভেন্সকে পরাজিত করে দলীয় মনোনয়ন লাভ করেন।
তবে আল-সাইয়েদের এই জয় কেবল একজন মুসলিম রাজনীতিকের ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্রের প্রগতিশীল রাজনীতি, করপোরেট প্রভাবমুক্ত অর্থায়ন, সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা এবং মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির পুনর্বিবেচনার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। নির্বাচনে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স। কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই নির্বাচনে তিনি রজার্সকে পরাজিত করে ঐতিহাসিক জয় ছিনিয়ে আনেন। আল-সাইয়েদের প্রস্তাব এর পরিসর বাড়িয়ে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার দিকে নিয়ে যেতে চায়। তার রাজনৈতিক পরিচয়ের এই পার্থক্যটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আল-সাইয়েদের ওই পরাজয় তার রাজনৈতিক যাত্রার সমাপ্তি ঘটায়নি।
আবদুল আল-সাইয়েদের জন্ম ১৯৮৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে। তাঁর পিতা মোহাম্মদ ছিলেন মিসরীয় অভিবাসী, যিনি যুক্তরাষ্ট্রে এসে স্থায়ী হন। ফলে আল-সাইয়েদের বেড়ে ওঠার মধ্যে মিসরীয় অভিবাসী পরিবারের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সমাজের বাস্তবতা—উভয়েরই গভীর প্রভাব ছিল। তার বাবা মিসর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল অত্যন্ত কাছাকাছি।
তিনি ইউনিভার্সিটি অব মিশিগান থেকে জীববিজ্ঞান ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি রোডস স্কলার হিসেবে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাবলিক হেলথে ডক্টরেট (ডিফিল) এবং কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে (এমডি) ডিগ্রি লাভ করেন। শিক্ষা জীবন শেষ করে তিনি কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির মেলম্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথ-এ শিক্ষকতা শুরু করেন। সেখানে তাঁর গবেষণার মূল বিষয় ছিল স্বাস্থ্যগত অসমতা এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর সামাজিক কাঠামোর প্রভাব। এরপর কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাবিদ্যা বিভাগ থেকে চিকিৎসাশাস্ত্রে ডিগ্রি নেন। জনস্বাস্থ্য, মহামারি, স্বাস্থ্যব্যবস্থার বৈষম্য ও সামাজিক নির্ধারক নিয়ে তার শিক্ষাগত প্রস্তুতি পরবর্তী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বিশেষ প্রভাব ফেলে। রাজনৈতিক দর্শন: রাষ্ট্র কার স্বার্থে কাজ করবে। আবাসন, চিকিৎসা, শিক্ষা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যয় সামলাতে অনেক পরিবারকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি।
আল-সাইয়েদের কর্মজীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হয় ডেট্রয়েটের জনস্বাস্থ্য বিভাগে। ২০১৫ সালে শহরটি দেউলিয়াত্বের কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাওয়ার পর মাত্র ত্রিশ বছর বয়সে তিনি ডেট্রয়েট স্বাস্থ্য বিভাগের নির্বাহী পরিচালক ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ওই সময় তিনি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বড় শহরের সবচেয়ে কনিষ্ঠ স্বাস্থ্য প্রধান।
তাঁর নেতৃত্বাধীন ডেট্রয়েট স্বাস্থ্য বিভাগটি প্রায় ১৮ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সংশ্লিষ্ট ছিল। সেখানে দায়িত্ব পালনকালে তিনি স্বাস্থ্যকে কেবল হাসপাতাল বা চিকিৎসার বিষয় হিসেবে না দেখে সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার অংশ হিসেবে তুলে ধরেন। তাঁর নির্বাচনী প্রচারণার তথ্য অনুযায়ী, একটি বিশেষ কর্মসূচির মাধ্যমে ডেট্রয়েটের প্রায় তিন লাখ মানুষের সর্বোচ্চ ৭০ কোটি ডলারের চিকিৎসা-ঋণ বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে তিনি ওয়েইন কাউন্টির স্বাস্থ্য, মানবসেবা ও ভেটেরানস সার্ভিসেস বিভাগের পরিচালক এবং স্বাস্থ্য কর্মকর্তা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তার সামনে ছিল স্বাস্থ্যসেবার দুর্বল অবকাঠামো, দারিদ্র্য, শিশুদের মধ্যে সিসার বিষক্রিয়া, মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য, মাদকাসক্তি এবং স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকারের বৈষম্য। তার কর্মজীবনের সঙ্গে শিশুদের জন্য বিনা মূল্যে চশমা সরবরাহ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে সিসার ঝুঁকি দূর করার উদ্যোগ, নালোক্সোন ব্যবহারের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং চিকিৎসা-ঋণ কমানোর কর্মসূচির কথা যুক্ত রয়েছে। এটি এমন একটি প্রস্তাবিত স্বাস্থ্যব্যবস্থা, যেখানে সরকার অর্থায়িত ব্যবস্থার মাধ্যমে সব নাগরিকের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়। ব্যালটপিডিয়ার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তিনি প্রায় ৭ লাখ ৪১ হাজার ভোট এবং স্টিভেন্স প্রায় ৭ লাখ ২৬ হাজার ভোট পান।
আবদুল আল-সাইয়েদের রাজনৈতিক দর্শনের কেন্দ্রে রয়েছে একটি মৌলিক প্রশ্ন—রাষ্ট্রের ক্ষমতা ও সম্পদ কাদের কল্যাণে ব্যবহৃত হবে? তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সুফল সাধারণ জনগণের কাছে পৌঁছাচ্ছে না, বরং বড় বড় করপোরেশন ও ধনকুবেরদের হাতে সম্পদ কুক্ষিগত হচ্ছে।
এ কারণে তিনি রাজনীতিতে করপোরেট অর্থের প্রত্যক্ষ প্রভাব বন্ধের জোরালো দাবি জানিয়েছেন। তাঁর প্রচারণা পুরোটাই সাধারণ মানুষের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অনুদানের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়েছে। তিনি নির্বাচনে করপোরেট অনুদান নিষিদ্ধ করা, রাজনৈতিক লবিংয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং অপ্রকাশিত বা গোপন রাজনৈতিক অর্থায়নের (ডার্ক মানি) বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে অবস্থান নেন। ২০১০ সালে সুপ্রিম কোর্টের বহুল আলোচিত ‘সিটিজেনস ইউনাইটেড বনাম ফেডারেল ইলেকশন কমিশন’ মামলার রায়ের পর করপোরেশন ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর জন্য স্বাধীনভাবে রাজনৈতিক ব্যয়ের যে সাংবিধানিক পথ উন্মুক্ত হয়েছিল, তা ডেমোক্রেটিক কাঠামোর জন্য ক্ষতিকর বলে তিনি মনে করেন। বর্তমান মেডিকেয়ার মূলত বয়স্ক এবং নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য ফেডারেল স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি। মিশিগানের দীর্ঘদিনের ডেমোক্রেটিক সিনেটর গ্যারি পিটার্স পুনর্নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর আসনটি নিয়ে দুই দলের মধ্যে প্রতিযোগিতা তৈরি হয়।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ হিসেবে আল-সাইয়েদের রাজনীতির প্রধানতম স্তম্ভ হলো ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ বা সবার জন্য সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা। তিনি স্বাস্থ্যসেবাকে কোনো বাণিজ্যিক পণ্য হিসেবে না দেখে নাগরিক অধিকার হিসেবে বিবেচনা করেন। ২০২০ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী জো বাইডেনের স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়নবিষয়ক যৌথ টাস্কফোর্সেও তিনি দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেন।
এ বিষয়ে তাঁর লেখা বই ‘মেডিকেয়ার ফর অল: আ সিটিজেনস গাইড’-এ তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে বিদ্যমান মার্কিন স্বাস্থ্যখাতের কাঠামোগত সংস্কার করে সকল নাগরিককে সমান স্বাস্থ্য সুরক্ষার আওতায় আনা সম্ভব।
আল-সাইয়েদের রাজনৈতিক অবস্থানের অন্যতম আলোচিত দিক হলো মধ্যপ্রাচ্য ও ফিলিস্তিন প্রশ্নে তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য। তিনি গাজায় ইসরাইলি সামরিক অভিযানের তীব্র বিরোধিতা ও কঠোর সমালোচনা করেছেন এবং সেখানে ইসরাইলের কর্মকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে তার রাজনৈতিক দর্শনকে শুধু মুসলিম পরিচয় কিংবা ফিলিস্তিন বিষয়ে অবস্থানের মধ্যে সীমাবদ্ধ করলে তার কর্মজীবন ও চিন্তার বড় অংশ অনালোচিত থেকে যাবে। অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী গোষ্ঠী যদি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে, তাহলে নির্বাচনী গণতন্ত্রের আনুষ্ঠানিক কাঠামো থাকলেও জনসাধারণের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব বাধাগ্রস্ত হতে পারে—তার রাজনৈতিক অবস্থানে এই উদ্বেগ স্পষ্ট। শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে তাঁর নিজের সদস্যপদ ও সম্পৃক্ততাও এই অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে তার বক্তব্যের তাৎপর্য শুধু ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল ইসরাইলের নিরাপত্তাকে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির অনড় উপাদান হিসেবে বিবেচনা করে আসছে। কিন্তু আল-সাইয়েদ ইসরাইলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা বন্ধ বা শর্তসাপেক্ষ করার দাবি জানান। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ করদাতাদের অর্থ বিশ্বজুড়ে সামরিক সংঘাত ও মানবাধিকার লঙ্ঘনে ব্যবহার না করে অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন ও মানবকল্যাণে ব্যয় করা উচিত। তাঁর এই অবস্থান তাঁকে একদিকে মার্কিন ফিলিস্তিনপন্থি ও যুদ্ধবিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের আস্থা এনে দিয়েছে, অন্যদিকে ইসরাইলপন্থি লবি ও রক্ষণশীল গোষ্ঠীর তীব্র সমালোচনার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।
২০২৬ সালের সিনেট নির্বাচনে প্রতিপক্ষ রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স আল-সাইয়েদের বিরুদ্ধে একাধিক রাজনৈতিক আক্রমণ পরিচালনা করেন। রজার্স তাঁর বিরুদ্ধে বিতর্কিত সংগঠন ‘মুসলিম ব্রাদারহুড’-এর সঙ্গে যোগসাজশ থাকার অভিযোগ তোলেন। একই সঙ্গে ফিলিস্তিন প্রশ্নে তাঁর অবস্থানকে আমেরিকার পররাষ্ট্রনীতির জন্য ক্ষতিকর বলে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়।
তবে নিরপেক্ষ তদন্ত ও তথ্য যাচাইয়ে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো সমর্থনযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, ভোটারদের মধ্যে ধর্মান্ধতা উসকে দিতে এবং রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করতেই এই ভিত্তিহীন অভিযোগ আনা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত মিশিগানের ভোটাররা এ ধরনের নেতিবাচক প্রচারণা প্রত্যাখ্যান করে আল-সাইয়েদের কাজের অভিজ্ঞতা ও নীতিগত প্রস্তাবনাকেই সমর্থন জানিয়েছেন।
জাতীয় রাজনীতিতে আল-সাইয়েদের এই উত্থান একদিনে ঘটেনি। এর পেছনে ছিল ২০১৮ সালের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের গভর্নর নির্বাচনের বড় অভিজ্ঞতা। সেই নির্বাচনে তিনি ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাথমিক মনোনয়ন লড়তে নেমে প্রগতিশীল মহলে বিপুল আলোড়ন সৃষ্টি করেন। যদিও শেষ পর্যন্ত তিনি দলের চূড়ান্ত মনোনয়ন পাননি এবং গ্রেচেন হুইটমার বিজয়ী হয়ে পরবর্তীতে গভর্নর হন, কিন্তু ঐ প্রচারণা আল-সাইয়েদকে একজন উদীয়মান জাতীয় নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে।
আট বছর পর ২০২৬ সালের ৩ নভেম্বরের সিনেট নির্বাচনে সেই জনভিত্তিই তাঁকে কাঙ্ক্ষিত জয় এনে দেয়। ইউরোপীয় পররাষ্ট্রসম্পর্ক পরিষদের ২০২৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত বিশ্লেষণেও দেখা যায়, ডেমোক্রেটিক পার্টির ভেতরে সংস্কারবাদী ও প্রগতিশীল ধারা জোরদার হচ্ছে। আল-সাইয়েদের এই বড় জয় সেই পরিবর্তনেরই স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে। যেমন কিথ এলিসন ও ইলহান ওমর প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য হয়েছেন।
Leave a Reply