টেস্ট ক্যারিয়ারের মাত্র আড়াই বছরের মাথায় হাসান মাহমুদ পঞ্চমবারের মতো ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব দেখালেন। সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, এই পাঁচটি ফাইফার তিনি শিকার করেছেন পাঁচটি ভিন্ন ভিন্ন দেশের মাটিতে। টেস্ট ক্রিকেটের ১৪৯ বছরের দীর্ঘ ইতিহাসে কোনো পেসারের জন্য এটি একটি অভাবনীয় রেকর্ড। এখন পর্যন্ত কেবল অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি স্পিনার ন্যাথান লায়নেরই এই কীর্তি রয়েছে, যার পর দ্বিতীয় বোলার হিসেবে হাসান এই তালিকায় নিজের নাম লিখিয়েছেন। এই সংস্করণের ১৪৯ বছরের সুদীর্ঘ ইতিহাসে এমন রেকর্ড নেই আর কোনো পেসারের। শুক্রবার ফের নতুন বল কাজে লাগিয়ে তিনি যোগ করেন আরও ৪ উইকেট।
চলমান ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিলেট টেস্টে হাসানের বোলিং তোপে প্রতিপক্ষ ৩৫৬ রানে গুটিয়ে গেছে। ম্যাচে ২৪ ওভার বল করে ৯০ রান খরচায় তিনি তুলে নিয়েছেন ৬টি উইকেট। এটি চলতি বছরে তার তৃতীয় ফাইফার এবং ঘরের মাঠে টেস্ট ক্যারিয়ারে প্রথম। এই পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তিনি নিজেকে বর্তমান বাংলাদেশের সেরা পেসার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। হাসানকে বর্তমানে কোনো দ্বিধা ছাড়াই টেস্টে বাংলাদেশের সেরা পেসারের তকমা দেওয়া যায়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিলেট টেস্টেও এই অসামান্য ধারা বজায় থাকল। ভেতরে ঢোকা বল ছেড়ে দিয়ে বোল্ড হয়ে বোকা বনে যান ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসের এই সেঞ্চুরিয়ান। নতুন ব্যাটার জশুয়া বিশপের বিপক্ষে এলবিডব্লিউয়ের আবেদনে আম্পায়ার সাড়া দিলেও পরে রিভিউতে পাল্টে যায় সিদ্ধান্তটি।
হাসানের এই বর্ণাঢ্য যাত্রার শুরু হয় ২০২৪ সালের আগস্টে পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে। ২৭ বছর বয়সী এই পেসারের প্রথম ৫ উইকেট ছিল ২০২৪ সালের আগস্টে, পাকিস্তানের বিপক্ষে রাওয়ালপিন্ডিতে।
এরপর সেপ্টেম্বরে ভারতের চেন্নাইয়ে, আগস্ট মাসে অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনে এবং গত মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাটিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে হ্যাটট্রিকসহ ৫ উইকেট শিকার করেন তিনি। আগুন ঝরিয়ে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং করে দিচ্ছেন চূর্ণবিচূর্ণ।
মাত্র ১৯টি টেস্ট ম্যাচ খেলেই তিনি দেশের টেস্ট ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংখ্যকবার ৫ উইকেট নেওয়া ফাস্ট বোলারে পরিণত হয়েছেন। মাত্র ১৯ ম্যাচ খেলেই তিনি এখন দেশের টেস্ট ইতিহাসে সবচেয়ে বেশিবার ৫ উইকেট নেওয়া ফাস্ট বোলার।
এর আগে ৩৮ টেস্টে চারবার ফাইফার নিয়ে শাহাদাত হোসেন শীর্ষে ছিলেন, এছাড়া নাহিদ রানা ও রবিউল ইসলামের ঝুলিতে রয়েছে দুটি করে ৫ উইকেট।
ম্যাচের দ্বিতীয় দিনে হাসান আরও ধারালো হয়ে ওঠেন। দিনের শুরুতে নতুন বল হাতে নিয়ে তিনি আমির জাঙ্গুর উইকেটটি তুলে নেন। এরপর রোস্টন চেসকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগিয়ে তুললেও তা সফল হয়নি। পরবর্তীতে জশুয়া বিশপকে স্টাম্পিংয়ের মাধ্যমে নিজের পঞ্চম শিকারে পরিণত করেন তিনি। এর পরপরই দ্বিতীয় সেশনের প্রথম ওভারে শামার জোসেফকে বোল্ড করে হাসান তার টেস্ট ক্যারিয়ারের দ্বিতীয়বারের মতো ৬ উইকেটের কোটা পূরণ করেন। বল হাতে নিয়মিত আলো ছড়িয়ে যাচ্ছেন তিনি। ফলে লাল বলের ক্রিকেটে অনন্য এক কীর্তির মালিক হয়ে গেলেন। আরেকটি অর্জনে বাংলাদেশের সব পেসারকে ছাড়িয়ে চূড়ায় উঠে গেলেন হাসান। এদিন প্রথম সেশনে বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত দ্বিতীয় নতুন বল নেওয়ার পর নিজের প্রথম ওভারেই তোপ দাগেন হাসান। দুর্দান্ত চতুর্থ ডেলিভারিতে আমির জাঙ্গুকে ফিরিয়ে দলকে কাঙ্ক্ষিত ব্রেক-থ্রু পাইয়ে দেন তিনি।
ক্রিকেট বিশ্বের অন্যান্য খবর হিসেবে, কোকেন সেবনের দায়ে নিষিদ্ধ হয়েছেন অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার ক্রিস লিন। একই সঙ্গে হাসানের দুর্দান্ত বোলিং নৈপুণ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছে।
Leave a Reply