যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান তাদের চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় করা এই সমঝোতার আওতায় ৬০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়ে দুই দেশ ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। আনাদোলু এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী ১৭ আগস্ট শেষ হওয়ার কথা। এর আগেই সংঘাত এড়াতে ওয়াশিংটন ও তেহরান মধ্যস্থতাকারীদের কাছে নিজেদের সম্মতির কথা জানিয়েছে।
মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দুই পক্ষই সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছে। তবে ঠিক কত দিনের জন্য এই মেয়াদ কার্যকর থাকবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বর্তমানে এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কূটনৈতিক পর্যায়ে বার্তা আদান-প্রদান চলছে। মূলত মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনে পাকিস্তান দীর্ঘ সময় ধরে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে। এই প্রচেষ্টার ধারাবাহিকতায় গত এপ্রিল মাসে দুই দেশ প্রথমবার যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় এবং ১৭ জুন একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে।
ওই সমঝোতার মূল লক্ষ্য ছিল স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছাতে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া। কিন্তু নিরাপত্তার নিশ্চয়তা এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধ নৌচলাচল নিয়ে মতবিরোধের কারণে আলোচনা বাধাগ্রস্ত হয়। যুদ্ধবিরতির মধ্যেও পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত ছিল না। গত ৮ জুলাই থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলার ঘটনা ঘটে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অভ্যন্তরে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান জর্ডান, বাহরাইন ও কুয়েতসহ কয়েকটি আরব দেশে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও সরঞ্জামে হামলা চালায় বলে জানানো হয়।
এই পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে দুই দেশের সম্মতি আন্তর্জাতিক মহলে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই কূটনৈতিক সমঝোতা অঞ্চলটিতে বড় ধরনের যুদ্ধ এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
Leave a Reply