1. admin@deshibanglatv.com : dbtvlipu :
  2. deshibanglatv@gmail.com : dtvbangla :
  3. deshibanglatv0@gmail.com : newsdesk :
November 6, 2026, 6:39 am

ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস দ্বীপে শক্তিশালী ভূমিকম্পে ৩৮ জনের প্রাণহানি

প্রতিবেদকঃ
  • হালনাগাদ সময়ঃ Saturday, August 15, 2026
  • 55 দেখা হয়েছে

ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস দ্বীপের উপকূলে শনিবার ভোরে ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সকাল ৫টা ৫৮ মিনিটে এই ভূকম্পন অনুভূত হয়। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে এবং কেন্দ্রস্থল ছিল পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশের এন্ডে শহর থেকে ৬৮ কিলোমিটার উত্তর-উত্তর-পশ্চিমে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ৩৮ জন নিহতের তথ্য নিশ্চিত করেছে দেশটির দুর্যোগ উপশম সংস্থা বিএনপিবি।

ভূমিকম্পের ফলে বহু স্থাপনা ধসে পড়েছে এবং শত শত বাসিন্দা ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন। বিএনপিবি প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল টিএনআই সুহারিয়ান্ত জানান, প্রায় দুই হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ভূমিকম্পের পর প্রাথমিকভাবে সুনামি সতর্কতা জারি করা হলেও পরবর্তীতে তা প্রত্যাহার করা হয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় আরও দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং অন্তত ১১ জন সামান্য আহত হয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওচিত্রে ভূমিকম্পের ভয়াবহতা ফুটে উঠেছে। এতে দেখা যায়, ভবনগুলো প্রচণ্ডভাবে দুলছে এবং আতঙ্কিত মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি করছেন। নাগেওকেও’র এক বাসিন্দা জানান, মাটির তীব্র কম্পন শুরু হলে তিনি বাজারে ছিলেন এবং পরে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পাহাড়ি এলাকায় আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেন। এছাড়া সিক্কা অঞ্চলের বেশ কিছু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং মাউমেরে বন্দরের টার্মিনালের অপেক্ষাকক্ষের একাংশ ধসে পড়েছে বলে জানা গেছে।

ইন্দোনেশিয়ার জন্য ভূমিকম্পের ইতিহাস বেশ দীর্ঘ ও বেদনার। ১৭ হাজারেরও বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত দেশটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এর ওপর অবস্থিত, যা বিশ্বের অন্যতম সক্রিয় ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা। এর আগে ১৯৯২ সালে ফ্লোরেসের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে প্রায় ৭ মাত্রার ভূমিকম্প ও পরবর্তী সুনামিতে প্রায় ২ হাজার ৫০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন।

দেশটিতে অতীতে আরও ভয়াবহ দুর্যোগের নজির রয়েছে। ২০০৪ সালে সুমাত্রার উপকূলে ৯.১ মাত্রার ভূমিকম্প ও সুনামিতে পুরো অঞ্চলে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার মানুষ নিহত হয়, যার মধ্যে ইন্দোনেশিয়ারই প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার মানুষ ছিল। এছাড়া ২০১৮ সালে লম্বক দ্বীপে আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্প ও পরবর্তী ধারাবাহিক কম্পনে লম্বক ও পার্শ্ববর্তী সুম্বাওয়া দ্বীপে ৫৫০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন।

এতে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পে গুরুতর আহত দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং আরও ১১ জন সামান্য আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে।

৩১ বছর বয়সী এক হাসপাতালকর্মী জানান, হঠাৎ করে ভূমিকম্প শুরু হলে তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

পরবর্তী কয়েক সপ্তাহে একের পর এক ভূমিকম্পে লম্বক ও পার্শ্ববর্তী সুম্বাওয়া দ্বীপে ৫৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়।

হাসপাতালের রোগীরাও বাইরে বেরিয়ে আসেন।

ভূমিকম্পের ঝাঁকুনি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে হাসপাতালের কয়েকটি দেয়ালে ফাটল দেখা যায়।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২৬ দেশি বাংলা টিভি — সর্বসত্ব সংরক্ষিত
Developer By Zorex Zira