1. admin@deshibanglatv.com : dbtvlipu :
  2. deshibanglatv@gmail.com : dtvbangla :
  3. deshibanglatv0@gmail.com : newsdesk :
November 6, 2026, 7:48 am

তাইওয়ানে সামরিক আগ্রাসন কি শি জিনপিংয়ের ক্ষমতার জন্য বড় ঝুঁকি?

প্রতিবেদকঃ
  • হালনাগাদ সময়ঃ Saturday, August 15, 2026
  • 40 দেখা হয়েছে

তাইওয়ানে চীনের সামরিক আগ্রাসন বেইজিংয়ের জন্য একটি ‘অস্তিত্বের ঝুঁকি’ হয়ে উঠতে পারে এবং এটি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ভুল হিসেবে বিবেচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তাইওয়ানের শক্তিশালী সামরিক প্রতিরোধ এবং সম্ভাব্য হামলার আগাম সংকেতগুলো বিবেচনায় নিলে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং পূর্ণমাত্রার অভিযানে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বেন। এমন অভিযোগও রয়েছে যে, ব্যর্থতার ভয়ে শি জিনপিং তাইওয়ানে সরাসরি হামলা চালাতে দ্বিধাবোধ করছেন, কারণ অভিযান ব্যর্থ হলে তার দীর্ঘদিনের শাসনব্যবস্থা গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

চীনে দীর্ঘদিন কাজ করা সাবেক বৃটিশ কূটনীতিক ও ওবিই সম্মাননাপ্রাপ্ত চার্লি পার্টন ‘দ্য সান’-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তাইওয়ানে হামলাকে ‘অস্তিত্বের জন্য বড় ধরনের জুয়া’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। লন্ডনের রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের (আরইউএসআই) এই সহযোগী ফেলোর মতে, অভিযান ব্যর্থ হলে চীনের অভ্যন্তরীণ ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার মুখে শি জিনপিংয়ের ক্ষমতা হারানোর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

যুদ্ধের ফলে চীনের অর্থনীতি ধসে পড়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। বিপুলসংখ্যক তরুণ সেনার প্রাণহানি জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিতে পারে। এছাড়া অর্থনৈতিক বিপর্যয় বেকারত্ব বাড়িয়ে দেবে এবং সুশাসনের জন্য শির যে ভাবমূর্তি রয়েছে, তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। চার্লি পার্টনের মতে, চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) জন্য তাইওয়ানে সফলভাবে আক্রমণ চালানো অত্যন্ত কঠিন একটি কাজ।

তাইওয়ানে উচ্চঝুঁকির উভচর সামরিক অভিযান চালাতে হলে চীনকে প্রায় ১০০ মাইল উত্তাল সমুদ্র পাড়ি দিয়ে শক্তিশালী প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় সুরক্ষিত দ্বীপটিতে পৌঁছাতে হবে। সমুদ্রের প্রতিকূলতা পেরিয়ে উপকূলে পৌঁছালেও চীনা বাহিনীকে সরাসরি যুদ্ধের কেন্দ্রস্থলে প্রবেশ করতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, তাইওয়ানে অবতরণের উপযোগী সৈকতের সংখ্যা মাত্র ১৩টি। সেখানে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই তাইওয়ানের বাহিনীর হামলার শিকার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া আকাশপথে সেনা নামানোর চেষ্টা করলেও ড্রোন প্রযুক্তির উন্নতির কারণে চীনা সেনারা আকাশেই গুলির মুখে পড়তে পারে।

তাইওয়ান যদি যথাযথ প্রস্তুতি নিয়ে রাখে, তবে দেশটিতে আক্রমণ চালানো চীনের জন্য অত্যন্ত কঠিন হবে এবং তাদের সফল হওয়ার সম্ভাবনাও কমে যাবে। হামলার প্রস্তুতি নিতে গিয়ে চীন যে দীর্ঘমেয়াদী সামরিক মহড়া চালাচ্ছে, তা এক ধরনের দুর্বলতাও তৈরি করছে। বছরের পর বছর ধরে তাইপের কাছাকাছি এলাকায় সক্ষমতা বাড়ানোর ফলে তাইওয়ান সবসময় উচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকছে এবং চীনা তৎপরতার ওপর নিবিড় নজর রাখতে পারছে।

ইতিহাসের সঙ্গে তুলনা করলে তাইওয়ানে সামরিক অভিযান দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ডি-ডে অবতরণের চেয়েও জটিল হতে পারে। ডি-ডে ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সমুদ্রপথে সামরিক অবতরণ, তবে তাইওয়ান প্রণালি পাড়ি দেয়ার দূরত্ব মিত্রবাহিনীর ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেয়ার দূরত্বের চেয়েও বেশি। শি জিনপিংকে বিপুলসংখ্যক সেনা ও সরঞ্জাম প্রস্তুত করতে হবে, যা হামলার বিষয়ে স্পষ্ট সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশ তাইওয়ানকে সামরিক সহায়তা পাঠানোর পর্যাপ্ত সময় পেয়ে যাবে।

তাইওয়ানের চারপাশে অবরোধ আরোপের চেষ্টা করলেও চীন বড় ধরনের সমস্যায় পড়বে। কারণ, এর মাধ্যমে তাইওয়ান প্রণালির গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ বন্ধ হয়ে যাবে, যা এশিয়ার বাণিজ্যের একটি বিশাল অংশ বহন করে। এই রুটটি পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে আফ্রিকা, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বাজারের সংযোগস্থল। বেইজিং এই পথ বন্ধ করলে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে, যার প্রভাব চীনের মূল ভূখণ্ডেও পড়বে এবং ব্যাপক বেকারত্ব ও অস্থিতিশীলতা তৈরি হতে পারে।

একবার তাইওয়ান দখল করতে পারলেও দ্বীপটি নিয়ন্ত্রণে রাখা চীনের জন্য কঠিন হবে। প্রশিক্ষিত সেনাদের পাশাপাশি দীর্ঘস্থায়ী গেরিলা প্রতিরোধের মুখে পড়তে পারে চীনা বাহিনী। মাসের পর মাস বা বছরের পর বছর ধরে চলা গেরিলা যুদ্ধ চীনের জনগণের কাছে রাজনৈতিকভাবে অস্বস্তিকর হয়ে উঠবে। ২০১৮ সালে চীনের প্রেসিডেন্টের মেয়াদসীমা তুলে দেয়ার মাধ্যমে শি নিজের ক্ষমতাকে শক্তিশালী করেছেন এবং টানা ১৩ বছর ধরে তিনি শীর্ষ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। চার্লির মতে, শি জিনপিং ক্ষমতার প্রতি প্রবল আকাঙ্ক্ষার কারণে এমন ঝুঁকি নিতে চাইবেন না, কারণ চীনের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় একবার ক্ষমতার কাঠামো ভেঙে পড়লে তা পুনরুদ্ধার করা কঠিন।

শি জিনপিংয়ের মতো হিসাবি নেতা তখনই তাইওয়ানে হামলার সিদ্ধান্ত নেবেন, যখন ব্যর্থতার আশঙ্কা প্রায় পুরোপুরি দূর হয়ে যাবে। প্রথমত, পিএলএ-কে এতটাই শক্তিশালী হতে হবে যাতে তারা অল্প সময়ে যুদ্ধে জয়ী হতে পারে। দ্বিতীয়ত, শি-কে নিশ্চিত হতে হবে যে যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত তাইওয়ানের সহায়তায় পৌঁছাতে পারবে না। এছাড়া পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মোকাবিলায় চীনকে সম্পদ, সরবরাহ ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত আত্মনির্ভরতা অর্জন করতে হবে। এসব শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাইওয়ান দখলে সামরিক শক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা চীনের কাছে আপাতত ‘পেছনের সারিতে’ রাখাই স্বাভাবিক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রতিদিন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জাহাজ এই পথ দিয়ে চলাচল করে।

বেইজিং যদি এই বাণিজ্যপথ বন্ধ করে দেয়, তাহলে পুরো অঞ্চলে অর্থের প্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।

চীনের মূল ভূখণ্ডও এই বাণিজ্য ব্যবস্থার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হওয়ায় সেখানেও বড় ধরনের অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিতে পারে।

কারণ চীনের রাজনৈতিক ব্যবস্থা বৃটেনের মতো নয়, যেখানে নির্বাচনে হেরে গেলেও কয়েক বছর পর আবার ক্ষমতায় ফেরার সুযোগ থাকে।

কোন পরিস্থিতিতে হামলা চালাতে পারেন শি?

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২৬ দেশি বাংলা টিভি — সর্বসত্ব সংরক্ষিত
Developer By Zorex Zira