1. admin@deshibanglatv.com : dbtvlipu :
  2. deshibanglatv@gmail.com : dtvbangla :
  3. deshibanglatv0@gmail.com : newsdesk :
November 6, 2026, 8:11 am

তৃণমূলের সাবেক মন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রয়াণ: উদ্ধার সুইসাইড নোট

প্রতিবেদকঃ
  • হালনাগাদ সময়ঃ Sunday, August 16, 2026
  • 50 দেখা হয়েছে

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সাবেক ডেপুটি স্পিকার ও রাজ্যের সাবেক মন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার সকালে বীরভূম জেলার রামপুরহাটের হাততলা পাড়ায় অবস্থিত তৃণমূল কংগ্রেসের একটি দলীয় কার্যালয় থেকে তাঁর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও পরিস্থিতি নিশ্চিত হতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ ২০০১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত রামপুরহাট বিধানসভা কেন্দ্রের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভায় তিনি স্কুলশিক্ষা ও কৃষিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রামপুরহাট থেকে প্রার্থী হলেও তিনি বিজেপির ধ্রুব সাহার কাছে ২৪ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। দলীয় সূত্রমতে, নির্বাচনের পর থেকেই তাঁকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে খুব একটা সক্রিয় দেখা যায়নি।

তৃণমূলের প্রভাবশালী নেতা অনুব্রত মণ্ডলের জেলা সভাপতি থাকাকালীন সময়ে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় দলের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও তৃণমূলের ১৫ বছরের শাসনের অবসানের পর বর্তমান সময়ে এই মৃত্যুর ঘটনাটি বেশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে দলের অনেক সাবেক বিধায়ক ও নেতা বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগে তদন্তের মুখোমুখি রয়েছেন।

ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া সুইসাইড নোটে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তিনি লিখেছেন, ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও কোনো দুর্নীতির সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন না। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের স্মৃতিচারণ করে তিনি উল্লেখ করেন, রাজনীতিতে মতপার্থক্য থাকলেও তিনি কখনো শত্রুতা তৈরি করেননি এবং সারা জীবন সততার সঙ্গে কাজ করেছেন।

তারাপীঠ-রামপুরহাট উন্নয়ন সংস্থায় নিজের সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে তিনি লিখেছেন, তাঁকে ছোট করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল এবং টেন্ডার কমিটিতেও রাখা হয়নি। তিনি তাঁর পরিবারের সদস্যদের রাজনীতি থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। এছাড়া শিক্ষকতা জীবনের কথা স্মরণ করে তিনি জানান, বিনা পারিশ্রমিকে অনেক শিক্ষার্থীকে পড়িয়েছেন এবং তাদের ভালোবাসা পেয়েছেন। তবে সুইসাইড নোটে তিনি নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করেননি।

পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং উদ্ধার হওয়া সুইসাইড নোটের বিষয়বস্তু যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় কেন এমন চরম সিদ্ধান্ত নিলেন, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তাঁর এই আকস্মিক প্রয়াণ রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়া ফেলেছে।

পুলিশ সূত্র বলেছে, সেখান থেকে একটি কথিত সুইসাইড নোটও উদ্ধার করা হয়েছে।

এমন এক সময়ে তাঁর মৃত্যুর ঘটনা ঘটল, যখন চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের মধ্য দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে এবং দলটির ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটেছে।

কী পরিস্থিতিতে আশিসের মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

দলের অন্যায়কে মেনে নিতে না পারলেও তিনি কখনো প্রতিবাদ করতে পারেননি।

সারা জীবন এক পয়সাও কাজের বিনিময় গ্রহণ করেননি।

সভায় যোগ দেওয়া ছাড়া আর কোনো দায়িত্ব ছিল না।

‘আমাকে অপমান করার জন্য যা করা হয়েছে, তাকে আমি ধিক্কার জানাই।

তাই আমার বংশের ছেলেদের রাজনীতি না করার পরামর্শ দিচ্ছি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২৬ দেশি বাংলা টিভি — সর্বসত্ব সংরক্ষিত
Developer By Zorex Zira