দেশের বাদ পড়া ছোট ছোট এলাকায় ভালোভাবে হাম–রুবেলার টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি রোগী ব্যবস্থাপনা জোরদার করার জন্য হামের চিকিৎসা নির্দেশিকা ব্যাপকভাবে ব্যবহারের চিন্তা করা হচ্ছে এবং চিকিৎসকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। গত রোববার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত টিকাবিষয়ক আন্তসংস্থা সমন্বয় কমিটির (আইসিসি) সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়। সভায় সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই), বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফসহ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্যসচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী।
সোমবার মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, হাম নিয়ে আইসিসি গুরুত্বপূর্ণ সভা করেছে। সভায় প্রায় সব ধরনের অংশীজন উপস্থিত ছিলেন এবং বর্তমান সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেছেন। এ সময় তিনি জানান, ‘কিছু পকেটে বা ছোট ছোট এলাকায় ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী সব শিশু টিকা পায়নি। তাদের সবাইকে টিকা দেওয়া হবে। আমাদের কাছে এখনো ১৬ লাখ টিকা আছে।’ স্বাস্থ্যসচিব ছাড়াও সভায় উপস্থিত আরও দুটি প্রতিষ্ঠানের দুজন প্রতিনিধির সঙ্গে প্রথম আলোর কথা হয়েছে। তাঁদের একজন বলেছেন, আগেই হামের ক্লিনিক্যাল গাইডলাইন চূড়ান্ত হয়েছে এবং সভায় সেই গাইডলাইন ব্যাপকভাবে প্রচারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। চিকিৎসকদের গাইডলাইন বিষয়ে প্রশিক্ষণের বিষয়টি নিয়েও সভায় আলোচনা হয়েছে।
আইসিসির সভায় হামে আক্রান্তদের বয়সভিত্তিক পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়। সভায় বলা হয়, আক্রান্ত রোগীর ১০ শতাংশের বয়স ছয় মাসের কম, ৭৪ শতাংশের বয়স ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস, ৫ বছর থেকে ১০ বছর বয়স ১৪ শতাংশের এবং বাকি ২ শতাংশের বয়স ১০ থেকে ১৪ বছর বা তার বেশি। সভায় ছয় মাসের কম বয়সী এবং পাঁচ বছরের বেশি বয়সী শিশুদের হামে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলেও তাদের বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত হয়নি। এছাড়া সভায় নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করতে মাঠপর্যায়ে শূন্য পদে লোক নিয়োগের বিষয়টি গুরুত্ব পায় এবং আগামী বছর টিকার কোনো ধরনের ঘাটতি যেন না হয়, সে জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের ব্যাপারে আলোচনা করা হয়।
গতকাল সন্ধ্যায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ৫ এপ্রিল থেকে গতকাল ১৭ আগস্ট পর্যন্ত ১ কোটি ৯৩ লাখ ৬৩ হাজার ৯১২ শিশুকে হামের এক ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। এসব শিশু ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, হামের উপসর্গ নিয়ে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এ বছর হামের উপসর্গে ৮১৫ জনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ ছাড়া নিশ্চিত হামে মারা গেছে ৯৯ জন। সব মিলিয়ে এ বছর হামে ৯১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের বড় অংশের বয়স পাঁচ বছরের কম এবং তাদের বড় অংশই কোনো টিকাই পায়নি।
Leave a Reply