1. admin@deshibanglatv.com : dbtvlipu :
  2. deshibanglatv@gmail.com : dtvbangla :
  3. deshibanglatv0@gmail.com : newsdesk :
September 21, 2026, 1:20 am

হৃতিক-ক্যাটরিনার সেই চুম্বন দৃশ্য নিয়ে মুখ খুললেন জোয়া আখতার

প্রতিবেদকঃ
  • হালনাগাদ সময়ঃ Tuesday, August 18, 2026
  • 30 দেখা হয়েছে

২০১১ সালে মুক্তি পাওয়ার পর ‘জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা’ কেবল বক্স অফিসেই সফল হয়নি, বরং সময়ের সাথে সাথে এটি হিন্দি সিনেমার অন্যতম জনপ্রিয় রোড ট্রিপ ঘরানার ছবিতে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি ১৭ আগস্ট মুনসুন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে অংশ নিয়ে ছবিটির অন্যতম আলোচিত একটি দৃশ্যের নেপথ্যের গল্প তুলে ধরেন পরিচালক জোয়া আখতার। দ্য হলিউড রিপোর্টার ইন্ডিয়ার অনুপমা চোপড়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি হৃতিক রোশন ও ক্যাটরিনা কাইফের সেই স্মরণীয় চুম্বন দৃশ্যটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

জোয়া জানান, লায়লা চরিত্রটি শুরু থেকেই এমন একজন তরুণী হিসেবে চিত্রিত হয়েছে, যে জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করতে জানে এবং নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নিতে অভ্যস্ত। তবে চিত্রনাট্যে চরিত্রটির এই বৈশিষ্ট্য পুরোপুরি ফুটে উঠছিল না। জোয়ার মতে, লায়লা এমন একজন মানুষ যে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে বিশ্বাসী। তাই বিদায়ের মুহূর্তে এমন কিছু প্রয়োজন ছিল যা তার এই স্বভাবকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলবে। সেই তাগিদ থেকেই অর্জুন ও লায়লার চুম্বন দৃশ্যটি গল্পের অংশ হয়ে ওঠে।

ছবিতে দেখা যায়, অর্জুন যখন লায়লার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে যাচ্ছে, তখন লায়লা বুঝতে পারে যে তাদের হয়তো আর দেখা হবে না। কোনো দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ছাড়াই সে হঠাৎ অর্জুনকে চুমু খাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। জোয়া আখতার এই দৃশ্যটিকে রূপকথার একটি মজার উল্টো প্রতিফলন হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। সাধারণ রূপকথার গল্পে রাজপুত্র চুমু দিয়ে ঘুমন্ত সুন্দরীকে জাগিয়ে তোলে, কিন্তু এখানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন।

পরিচালকের ভাষায়, হৃতিক অভিনীত অর্জুন চরিত্রটি এখানে ‘স্লিপিং বিউটি’ বা ঘুমন্ত সুন্দরী। অর্জুন তখন ক্যারিয়ার, অর্থ উপার্জন ও সাফল্যের ইঁদুর দৌড়ে এতটাই মগ্ন যে জীবনের প্রকৃত আনন্দ থেকে সে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। লায়লা এখানে রাজপুত্রের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে তার চুমুর মাধ্যমে অর্জুনকে সেই ঘোর থেকে জাগিয়ে তোলে। চরিত্র দুটির এই বিপরীতধর্মী অবস্থানই দৃশ্যটিকে তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।

এই দৃশ্যের সাথে জড়িয়ে আছে ক্যাটরিনা কাইফের ক্যারিয়ারের একটি বিশেষ তথ্য। জোয়া জানান, সেই সময় পর্যন্ত ক্যাটরিনার কোনো অন-স্ক্রিন চুম্বনের অভিজ্ঞতা ছিল না। চিত্রনাট্য পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ক্যাটরিনার সাথে আলোচনা করেছিলেন জোয়া। পরিচালক তাকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে দৃশ্যটি গল্পের প্রয়োজনে রাখা হয়েছে। ক্যাটরিনা বিষয়টি পেশাদারিত্বের সাথে গ্রহণ করেছিলেন এবং চিত্রনাট্যের খাতিরে দৃশ্যটির প্রয়োজনীয়তা তিনি বুঝতে পেরেছিলেন।

ছবির শুরুতে অর্জুন চরিত্রটি ছিল কাজপাগল ও হিসাবনিকাশে ব্যস্ত, যে বর্তমানকে উপভোগ করার সময় পেত না। অন্যদিকে লায়লা ছিল প্রাণবন্ত ও স্বাধীনচেতা। লায়লার এই চুম্বন কেবল একটি রোমান্টিক মুহূর্ত নয়, বরং অর্জুনের জীবনের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দেওয়ার একটি প্রতীক। লায়লা যেন তাকে মনে করিয়ে দেয় যে, জীবনকে কেবল ভবিষ্যতের জন্য জমিয়ে না রেখে বর্তমানকেও উদযাপন করা জরুরি।

উল্লেখ্য যে, রিতেশ সিধওয়ানি ও ফারহান আখতার প্রযোজিত এই ছবিতে হৃতিক রোশন ও ক্যাটরিনা কাইফ ছাড়াও অভিনয় করেছেন ফারহান আখতার, অভয় দেওল ও কালকি কোচলিন। তিন বন্ধুর স্পেন ভ্রমণের গল্প নিয়ে নির্মিত এই সিনেমাটি বন্ধুত্ব, প্রেম ও ভয় জয়ের এক অনন্য আখ্যান। মুক্তির ১৫ বছর পেরিয়ে গেলেও ছবিটি আজও দর্শকদের মাঝে সমান জনপ্রিয়, যার অন্যতম কারণ হলো জীবনের গভীর দর্শন ও আবেগপূর্ণ মুহূর্তগুলোর নিখুঁত সমন্বয়।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২৬ দেশি বাংলা টিভি — সর্বসত্ব সংরক্ষিত
Developer By Zorex Zira