
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রাক্কালে তাকে শপথ পাঠ করানোর দায়িত্ব কার—তা নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এক ধরনের অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছিল। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকা হাফিজ উদ্দিন আহমদ নাকি স্পিকারের দায়িত্বে থাকা ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এই শপথ পড়াবেন, তা নিশ্চিত হতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে আনুষ্ঠানিক মতামত চেয়েছিল।
আইন মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, গত ১৩ আগস্ট আইন মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে একটি ব্যাখ্যা পাঠানো হয়েছে। সংবিধানের আলোকে দেওয়া ওই মতামতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে স্পিকারের দায়িত্বে থাকা ব্যারিস্টার কায়সার কামালই নতুন রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়ানোর জন্য সাংবিধানিকভাবে যথাযথ কর্তৃপক্ষ।
আইন মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বর্তমান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, বীর বিক্রম সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধানের ৭৪(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুসারে, স্পিকার যখন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন, তখন তার যাবতীয় দায়িত্ব ডেপুটি স্পিকার পালন করে থাকেন। সেই হিসেবে ডেপুটি স্পিকারই নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথ পাঠ করানোর জন্য সাংবিধানিক কর্তৃত্ব রাখেন।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে শুরুতে কিছুটা ধোঁয়াশা থাকলেও আইন মন্ত্রণালয়ের স্পষ্টীকরণের পর এখন সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আগামী শুক্রবার বঙ্গভবনের দরবার হলে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। অনুষ্ঠানটির সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
এই শপথ অনুষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও প্রধান বিচারপতিসহ রাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ২৪ জুলাই দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয়। সেই ধারাবাহিকতায় আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সব কিছু ঠিক থাকলে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন।
প্রসঙ্গত, রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণ ছাড়াও সম্প্রতি সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে প্রশাসনিক ও আর্থিক বিষয়ে নানা আলোচনা চলছে। এর মধ্যে করোনাকালে কার্গো ফ্লাইটের ৮৮৬ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ে বিমানের ব্যর্থতা এবং মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের জ্বালানি ব্যবহারের হার ৩০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্তের মতো বিষয়গুলোও সামনে এসেছে। এছাড়া আজ ডিসি সম্মেলন উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী, যেখানে ৪৯৮টি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাংলাদেশের আগের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনগুলো কেমন ছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাবার মৃত্যুর পর প্রথমবার গোল পেলেন মেসি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ৪৯৮ প্রস্তাব নিয়ে ডিসি সম্মেলন শুরু আজ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গাড়ির জ্বালানি ৩০ শতাংশ কম নেবেন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা।
Leave a Reply