প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরকে কেন্দ্র করে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। তবে বিদ্যমান পরিস্থিতি বিবেচনায় আগস্ট মাসে এই সফরের সম্ভাবনা অনেকটাই ক্ষীণ হয়ে পড়েছে। ভারত সরকার প্রধানমন্ত্রীকে দ্বিপক্ষীয় সফরের পাশাপাশি আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ সেশনে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার স্পষ্ট করেছে যে, প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ভারত সফরকে কেবল সৌজন্য সাক্ষাৎ বা কোনো আন্তর্জাতিক সম্মেলনের পার্শ্বসূচি হিসেবে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না ঢাকা।
কূটনৈতিক সূত্রগুলোর তথ্যমতে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সফরটি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে নিবিড় আলোচনা চললেও ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রকাশ্য বক্তব্যের পর পরিস্থিতি কিছুটা জটিল আকার ধারণ করেছে। এছাড়া ২১ আগস্ট ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনের একটি বিজ্ঞপ্তি নতুন করে জল্পনার জন্ম দিয়েছে। সেখানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য রাষ্ট্রীয় অভ্যর্থনার মহড়ার কারণে ‘চেঞ্জ অব গার্ড’ অনুষ্ঠান স্থগিতের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সফর নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অবস্থান অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ভারত সফরের আগে দুই দেশের মধ্যে একটি ইতিবাচক ও আস্থাপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হওয়া অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানিয়েছে। একইসঙ্গে অন্যান্য পলাতক আসামি ও বিভিন্ন মামলার অভিযুক্তদের ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়েও ভারতের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছে ঢাকা।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এ বিষয়ে বলেন, সফর নিয়ে সরকারের কোনো তাড়াহুড়া নেই। জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে উপযুক্ত সময়েই প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর করবেন। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক বজায় রাখতে বাংলাদেশ আগ্রহী, তবে জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না। দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের এই নতুন সমীকরণে এখন সব পক্ষের নজর পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কূটনৈতিক মহলের ধারণা, রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে সেপ্টেম্বরেই সফরটি অনুষ্ঠিত হতে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বরং দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ দ্বিপক্ষীয় সফর হওয়াই বাংলাদেশের অগ্রাধিকার। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এরপর আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহে সফরের সম্ভাবনা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা হলেও কোনো দেশই আনুষ্ঠানিকভাবে তারিখ ঘোষণা করেনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে এক ঘণ্টার মধ্যেই বিজ্ঞপ্তিটি প্রত্যাহার করা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এতে ধারণা করা হয়, সফরকে ঘিরে প্রস্তুতি থাকলেও সময়সূচি ও রাজনৈতিক সমন্বয় তখনো চূড়ান্ত হয়নি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে শেখ হাসিনা ইস্যু।
Leave a Reply