ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে বিপর্যস্ত নেপালের পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশটির প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো ধরনের সহায়তা দিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। বৃহস্পতিবার সকালে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানালের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে তিনি এই প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
ফোনালাপে বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে নেপালের এই বিপর্যয়ে গভীর শোক ও সমবেদনা জানানো হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এই ঘটনাকে একটি ‘ভয়াবহ ট্র্যাজেডি’ হিসেবে উল্লেখ করে নিহতদের পরিবারের প্রতি বাংলাদেশের মানুষের সহমর্মিতা ও প্রার্থনার কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের কাছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্যক্তিগত শোকবার্তা পৌঁছে দেন।
আলাপকালে খলিলুর রহমান জানতে চান, নেপালে অবস্থানরত কোনো বাংলাদেশি নাগরিক হতাহত হয়েছেন কি না। তিনি জানান, এখন পর্যন্ত কোনো বাংলাদেশি নাগরিকের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে ভবিষ্যতে যদি এমন কোনো দুঃখজনক পরিস্থিতির উদ্ভব হয়, তবে দ্রুত বাংলাদেশকে অবহিত করার জন্য নেপাল সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল এই কঠিন সময়ে বাংলাদেশের সংহতি ও সহমর্মিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, নেপালের কর্তৃপক্ষ এখনো ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিরূপণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়নের পরই তারা নির্ধারণ করবেন যে ঠিক কী ধরনের সহায়তা তাদের প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬৫ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছেন দেড় হাজারের বেশি মানুষ, যাদের মধ্যে ৮০০ জনেরও বেশি বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। এছাড়া নেপালের এই বিপর্যয়ে তিন শতাধিক ভারতীয় নাগরিক নিখোঁজ হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে, যার মধ্যে কৈলাসের তীর্থযাত্রী রয়েছেন ৭৭ জন।
বর্তমানে প্রবল বৃষ্টিপাত এবং দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে, সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং প্রবল স্রোতে অনেক সেতু ভেসে গেছে। ইউএসজিএস-এর তথ্যমতে, নেপালের এই বিপর্যয়ের কারণ ভূমিকম্প নয়, বরং অন্য কোনো প্রাকৃতিক কারণ রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নেপালে বাংলাদেশি পর্যটকেরা কেমন আছেন, জানাল দূতাবাস।
Leave a Reply