নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধসের ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার দুই দিন পেরিয়ে গেলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। কাদা, পাথর, বরফ ও বিশাল ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া জীবিতদের উদ্ধারে নেপালের বিভিন্ন দুর্গত এলাকায় ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে উদ্ধারকারীরা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে জীবিত কাউকে পাওয়ার আশা ক্ষীণ হয়ে এলেও নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নেপালের পুলিশের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ৪৬৯ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর বাইরেও প্রায় ৯৭৭ জন মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। নেপাল ও চীন মিলিয়ে এ ঘটনায় নিশ্চিত মৃতের সংখ্যা অন্তত ৪৭২ জনে পৌঁছেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বন্যার পানি ও ধ্বংসাবশেষ হিমালয়ের নদী ব্যবস্থার বিস্তীর্ণ অংশে ছড়িয়ে পড়ায় উদ্ধারকর্মীদের নদী ও পাহাড়ি উপত্যকার দুর্গম বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালাতে হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের বিস্তৃতি এত বেশি যে নিখোঁজদের সন্ধানে নদীর দীর্ঘ অংশজুড়ে তল্লাশি চালানো অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের তথ্যমতে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ৬৬৭ জন পর্যটক ও দর্শনার্থী নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের মধ্যে ১২৭ জন নেপালি এবং ৫৪০ জন বিদেশি নাগরিক। নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং জানিয়েছেন, নিখোঁজদের উদ্ধার ও মানুষের জীবন রক্ষাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
উদ্ধার অভিযান চলাকালীন নতুন এক বিপদের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, ‘আটকে পড়া হ্রদ’ থেকে নতুন করে বন্যার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় পরিস্থিতিটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং চীনা কর্মকর্তাদের ধারণা, হ্রদটিতে আগামী কয়েক দিনে প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি প্রবেশ করতে পারে। পানি বাড়তে থাকলে উদ্ধার অভিযান পরিচালনাকারীদের জন্যও নতুন ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ফলে উদ্ধারকারী দল এখন শুধু নিখোঁজদের সন্ধানই নয়, সম্ভাব্য দ্বিতীয় বিপর্যয় ঠেকাতেও সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করছে।
২০১৫ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর এটি নেপালের অন্যতম বড় বিপর্যয় হিসেবে দেখা দিয়েছে। হিমবাহ ধস ও আকস্মিক বন্যায় দেশটি আবারও বড় ধরনের জাতীয় দুর্যোগের মুখে পড়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকেও নেপাল ও চীনের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে। নেপালের বিভিন্ন নদী ও ভাটির এলাকায় উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে যাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিখোঁজদের সন্ধান পাওয়া সম্ভব হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যেভাবে শুরু ভয়াবহ বিপর্যয় বুধবার সকালে নেপাল-চীন সীমান্তের কাছে হিমালয় অঞ্চলে একটি হিমবাহের বড় অংশ ধসে পড়ে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মুহূর্তের মধ্যে পাহাড়ি নদীগুলো ফুলে-ফেঁপে ভয়াবহ স্রোতে পরিণত হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও অন্যান্য অবকাঠামো ভেসে যায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাঁদের মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দা, নিরাপত্তাকর্মী, পর্যটক, তীর্থযাত্রী ও বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কারণ প্রবল স্রোতে অনেক মরদেহ ও মানুষ মূল বিপর্যয়স্থল থেকে বহু দূরে ভেসে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ কারণে বোটেকোশি ও ত্রিশূলী নদীর পাশাপাশি ভাটির এলাকাতেও তল্লাশি বাড়ানো হয়েছে।
Leave a Reply