1. admin@deshibanglatv.com : dbtvlipu :
  2. deshibanglatv@gmail.com : dtvbangla :
  3. deshibanglatv0@gmail.com : newsdesk :
November 6, 2026, 9:40 am

সীতাকুণ্ড পৌরসভায় সিইওর দীর্ঘকালীন অবস্থান ও সরকারি ভবন ব্যবহারের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন

প্রতিবেদকঃ
  • হালনাগাদ সময়ঃ Saturday, August 29, 2026
  • 33 দেখা হয়েছে
সীতাকুণ্ড পৌরভবনের দাপ্তরিক কক্ষে প্রায় এক যুগ ধরে বসবাস করছেন পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম। বদলি আদেশ অমান্য করা ও অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের ঘটনায় উঠেছে নানা প্রশ্ন।

সীতাকুণ্ড পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সময় ধরে পৌরভবনের দাপ্তরিক কক্ষকে ব্যক্তিগত বাসভবন হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় এক যুগ ধরে তিনি এই কক্ষেই থাকছেন বলে নিজেই স্বীকার করেছেন। নজরুল ইসলামের দাবি, ব্যক্তিগত কোনো সুবিধার জন্য নয়, বরং রাতের বেলায় পৌরভবনের নিরাপত্তার খাতিরেই তিনি সেখানে অবস্থান করছেন। তবে সরকারি ভবনের দাপ্তরিক কক্ষ আবাসিক ব্যবহারের এই বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

পৌরসভার প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও সরকারি সম্পদ ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পেছনে বড় কারণ হলো গত জুন ও জুলাই মাসে আসা চার লাখ টাকার বেশি বিদ্যুৎ বিল। নজরুল ইসলামের ভাষ্যমতে, এই বিলের মধ্যে কেবল পৌরভবন নয়, বরং পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ডের সড়কবাতির খরচও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তিনি জানান, পৌরসভায় কার্ড মিটার না থাকায় বিদ্যুৎ বিভাগ গড় হিসাবের ভিত্তিতে বিল তৈরি করে এবং দুই মাসের বিল একসঙ্গে আসায় তা চার লাখ টাকা ছাড়িয়েছে। তবে এই ব্যাখ্যার বিপরীতে প্রশ্ন উঠেছে যে, মোট বিলের মধ্যে পৌরভবনের নিজস্ব ব্যয় এবং সড়কবাতির ব্যয়ের খাতভিত্তিক হিসাব কেন প্রকাশ করা হয়নি। এছাড়া, দাপ্তরিক কক্ষে এসি ও ফ্যানসহ ব্যক্তিগত ব্যবহারের বিদ্যুৎ খরচ সরকারি তহবিলের মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়েছে কি না, তা নিয়েও ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।

সাবেক কাউন্সিলর শামসুল আলম আজাদের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮ সালে যোগদানের পর থেকে নজরুল ইসলাম বিভিন্ন সময়ে বদলি হলেও বারবার সীতাকুণ্ডে ফিরে এসেছেন এবং ২০১৫ সাল থেকে প্রায় একটানা এখানেই কর্মরত রয়েছেন। স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে গত ২১ মে ২০২৪ তারিখে তাকে গাজীপুরের কালীগঞ্জ পৌরসভায় বদলি করা হয়েছিল। কিন্তু সেই আদেশ অমান্য করে তিনি সীতাকুণ্ডেই অবস্থান করছেন। যদিও ওই বদলি আদেশ পরবর্তী সময়ে কোনো প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় স্থগিত বা বাতিল হয়েছে কি না, তা সরকারি নথিপত্র ছাড়া নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।

পৌরসভার প্রশাসনিক কার্যক্রমেও অস্থিরতার অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় যুবদল নেতা জিয়া উদ্দিন জিয়ার মতে, নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম ও নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুন্নবীর মধ্যে দায়িত্ব ও ক্ষমতা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছে। সীতাকুণ্ড উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডা. কমল কদর এই পরিস্থিতির নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। তিনি বলেন, একজন কর্মকর্তা কীভাবে বছরের পর বছর একই কর্মস্থলে থাকেন এবং বদলি আদেশের পরও সেখানে অবস্থান করেন, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

সর্বশেষ নতুন এক আদেশে নজরুল ইসলামকে নরসিংদীর শিবপুর পৌরসভায় বদলি করা হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাকে নতুন কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। নির্ধারিত সময়ে যোগদান না করলে ২ সেপ্টেম্বর থেকে তিনি স্ট্যান্ড রিলিজ হিসেবে গণ্য হবেন। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, ব্যক্তি বা রাজনৈতিক বিরোধের ঊর্ধ্বে উঠে সরকারি নথিপত্রের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করা হোক। বিদ্যুৎ বিলের মিটার রিডিং, অর্থ পরিশোধের ভাউচার, দাপ্তরিক কক্ষ ব্যবহারের অনুমোদন এবং বদলি আদেশের পরবর্তী প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলো যাচাই করা জরুরি। অভিযোগ সত্য হলে দায় নির্ধারণ এবং অসত্য হলে তা পরিষ্কার করতে একটি নিরপেক্ষ তদন্তই এখন সময়ের দাবি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নজরুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ বছর ধরে পৌরসভার অফিসে আমি বসবাস করে আসছি, এটা ঠিক। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে আমি নাইট গার্ডের মতো পৌরসভাকে পাহারা দিয়ে রেখেছি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাঁদের মতে, পৌরভবন জনগণের অর্থে পরিচালিত সরকারি প্রতিষ্ঠান।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২৬ দেশি বাংলা টিভি — সর্বসত্ব সংরক্ষিত
Developer By Zorex Zira