ফুলতলা উপজেলার দামোদর গ্রামের বাসিন্দা মো. মনিরুজ্জামান জামাদ্দার ষাটের কোঠায় পৌঁছেও ভুলতে পারেননি তার ছাত্রজীবনের স্মৃতি। ১৯৮৩ সালে খুলনা সিটি কলেজে ভর্তি হওয়ার পর থেকে দীর্ঘ সময় তাকে ফুলতলা থেকে নগরীতে যাতায়াত করতে হয়েছে। সেই সময় ২১ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়ার প্রধান মাধ্যম ছিল টাউন সার্ভিস। মনিরুজ্জামান জানান, ফুলতলা থেকে রূপসা ফেরিঘাট পর্যন্ত প্রায় ২১-২২টি স্টপেজে বাস থামত এবং পাঁচ মিনিট পরপর গাড়ি পাওয়া যেত। প্রথমদিকে শিক্ষার্থীদের ভাড়া ছিল এক টাকা, যা পরে দুই টাকায় উন্নীত হয়। বাসের নম্বর ছিল ২৭০। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, তখনকার সেই ঐতিহ্য ও ভালোবাসা এখনকার শিক্ষার্থীরা পাচ্ছে না। পড়াশোনা শেষে তিনি নিজেও পরিবহন ব্যবসায় যুক্ত হয়েছিলেন, কিন্তু সময়ের বিবর্তনে সেই টাউন সার্ভিস আজ বিলুপ্ত।
খুলনা সিটি করপোরেশন এলাকার জনসংখ্যা বর্তমানে প্রায় ১৮ লাখ প্রাক্কলন করে উন্নয়ন পরিকল্পনা করা হচ্ছে। অথচ এই বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য নেই কোনো নিয়মিত গণপরিবহন। নগরীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাতায়াতের জন্য শিক্ষার্থী ও স্বল্প আয়ের মানুষকে এখন সিএনজি বা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও অটোরিকশা চালকদের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে ভাড়া নিয়ে প্রায়ই যাত্রীদের সাথে বাগবিতণ্ডা হয়।
খুলনা পলিটেকনিক কলেজের শিক্ষার্থী দীপা ব্যানার্জি জানান, ফুলতলা থেকে খুলনা শহরের দূরত্ব প্রায় ২৩ কিলোমিটার এবং রূপসা খেয়াঘাট প্রায় ২৬ কিলোমিটার। গত ৫ এপ্রিল থেকে দৌলতপুর-খুলনা রুটে সিএনজি ও থ্রি-হুইলার চালক ইউনিয়ন ভাড়া বৃদ্ধি করায় সাধারণ মানুষের কষ্ট আরও বেড়েছে। বিআরটিএ নিবন্ধিত প্রায় ১ হাজার ২৫০টি সিএনজিচালিত অটোরিকশা এই রুটে চললেও তা পর্যাপ্ত নয়।
২০০৫ সালে নগরীতে প্রায় ৬০টি বাস চললেও ২০১৭ সালের দিকে তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৬ সালে বিআরটিসি পাঁচটি দোতলা বাস এবং ২০১৯ সালে বাস মালিক সমিতি চারটি বাস চালু করলেও রক্ষণাবেক্ষণ ও যাত্রী সংকটের কারণে সেগুলো টেকসই হয়নি। পরিবহন ব্যবসায়ীদের মতে, একই রুটে অটোরিকশা চলাচল করায় টাউন সার্ভিসগুলো যাত্রী পায় না, যা সরকারি নীতির দুর্বলতার ফল। সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল গাফফার বিশ্বাস জানান, বাস মালিকরা বিনিয়োগ করতে চাইলেও অটোরিকশা চালকদের বাধার মুখে তারা নিরুৎসাহিত হন।
খুলনা সচেতন নাগরিক কমিটির সহসভাপতি গৌরাঙ্গ নন্দী বলেন, একটি শহরের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো সহজ ও সাশ্রয়ী পরিবহন ব্যবস্থা। তিনি সরকারের প্রতি দ্রুত গণপরিবহন চালুর আহ্বান জানান। বিশেষ করে ইলেকট্রিক বাস চালুর উদ্যোগকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।
সিটি করপোরেশনের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, রাজনৈতিক বিবেচনায় অতীতে গণপরিবহন চালুর উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তবে খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু জানিয়েছেন, নগরবাসীর যানজট নিরসন ও শিক্ষার্থীদের স্বস্তির জন্য তিনি নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। তিনি মনে করেন, নগর পরিবহন নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য একটি সাশ্রয়ী ও প্রয়োজনীয় বাহন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: রিয়ালের তিন তারকার রসায়ন নিয়ে যা বললেন মরিনহো। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু খুলনা নগরীতে পড়াশোনার সেই দিনগুলোর কথা মনে হলে এখনো তার চোখেমুখে অন্যরকম আনন্দ ফুটে ওঠে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সেশনজটের কারণে অনার্স শেষ করতে সময় লেগে যায় ১৯৯৩-৯৪ সাল পর্যন্ত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কখনো জরুরি প্রয়োজনে কেউ রাস্তার পাশে হাত তুললে দুই স্টপেজের মাঝখান থেকেও বাস থামিয়ে তাকে তুলে নেওয়া হতো। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ‘আমরা মজা করে বাসগুলোকে বলতাম মুড়ির টিন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফুলতলা থেকে শান্তিরাম মোড় বা রয়েল মোড় পর্যন্ত এই ভাড়াতেই যাতায়াত করতাম,’ বলেন তিনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য এটি ছিল স্বস্তি ও নির্ভরতার জায়গা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দাঁড়িয়ে যাওয়ার জন্যও অনেক সময় ঠেলাঠেলি করতে হতো।
Leave a Reply