প্রজনন মৌসুমে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত পর্যটক প্রবেশসহ সব ধরনের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল বন বিভাগ। দীর্ঘ তিন মাসের এই বিরতি শেষে গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে সুন্দরবনের দুয়ার আবারও পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার চতুর্থ দিনেই বাগেরহাটের মোংলা করমজল পর্যটনকেন্দ্রে প্রকৃতিপ্রেমীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। শনিবার সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে এই পর্যটনকেন্দ্র।
এদিন করমজল ঘাটে একের পর এক পর্যটকবাহী নৌযান ভিড়তে দেখা যায়। পরিবার-পরিজন নিয়ে আসা দর্শনার্থীরা ফুটট্রেইলে হাঁটা, ছবি তোলা এবং সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগে ব্যস্ত সময় পার করেন। দীর্ঘ বিরতির পর পর্যটকদের এই আনাগোনায় পুরো এলাকায় প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। ঢাকা থেকে আসা পর্যটক শাওন খান জানান, সুন্দরবন দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় তিনি খোলার খবর পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। সুযোগ পাওয়া মাত্রই পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসেছেন এবং এখানকার পরিবেশ ও সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। আরেক পর্যটক গোলাম রাব্বানী বলেন, সুন্দরবনে আসার জন্য তিনি অনেকদিন ধরে অপেক্ষা করছিলেন। বাচ্চাদের নিয়ে এসে তার ভালো লাগছে এবং পর্যটকদের ভিড় দেখে বোঝা যাচ্ছে যে সবাই এই মুহূর্তটির অপেক্ষায় ছিলেন।
করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজাদ কবির জানান, ১ সেপ্টেম্বর থেকে পর্যটকদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। শুরুতে বৈরী আবহাওয়ার কারণে পর্যটকের সংখ্যা কিছুটা কম থাকলেও, এখন আবহাওয়া অনুকূলে আসায় দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বাড়ছে। পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে বন বিভাগের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
দীর্ঘ তিন মাসের নিষেধাজ্ঞার পর পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে আসায় স্থানীয় নৌযান মালিক, মোংলার হোটেল-রেস্তোরাঁ এবং পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন। প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্যের আধার সুন্দরবনের প্রতি মানুষের এই গভীর আকর্ষণ আবারও প্রমাণিত হলো। তবে সুন্দরবনের এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রাখতে পর্যটকদের সচেতনতা এবং বন বিভাগের বেঁধে দেওয়া নিয়মকানুন মেনে চলা এখন সবচেয়ে জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Leave a Reply