জাতীয় নির্বাচনের আদলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোকেও অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, নির্বাচন কমিশন থেকে পুলিশকে কোনো ধরনের বেআইনি নির্দেশনা দেওয়া হবে না। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর রাজারবাগে ‘নির্বাচনি দায়িত্ব পেশাদারত্বের সঙ্গে সম্পাদনের লক্ষ্যে পুলিশের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সিইসি বলেন, জাতীয় নির্বাচন যেভাবে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনও একই মানদণ্ডে পরিচালনা করতে চায় কমিশন। এ লক্ষ্যে পুলিশের সহায়তা চেয়ে তিনি জানান, নির্বাচন কমিশন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ প্রতিশ্রুতি রয়েছে একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়ার। তিনি আরও যোগ করেন, জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের ওপর মানুষের হারানো আস্থা অনেকাংশে পুনরুদ্ধার হয়েছে এবং সিভিল সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিও জনমানুষের আস্থা ফিরে এসেছে।
পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে সিইসি জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দায়িত্বে যারা থাকবেন, তাদের প্রশিক্ষণের জন্য আইজিপিকে অনুরোধ জানানো হয়েছিল। সেই অনুযায়ী দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে পুলিশ বাহিনীর কিছু সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের জন্য তাদের গাড়ির স্বল্পতা রয়েছে। জুলাই-আগস্টের অস্থিরতায় অনেক গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার সবগুলোর রিপ্লেসমেন্ট এখনো সম্ভব হয়নি। এই প্রশিক্ষণের জন্য প্রায় ২২ কোটি টাকা ব্যয় হবে, যা তাদের নিয়মিত ফান্ড থেকেই মেটাতে হবে বলে তিনি জানান।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সিইসি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি জাতীয় নির্বাচনের সময়ের চেয়ে কোনো অংশে খারাপ নয়, বরং উন্নতির দিকে রয়েছে। পুলিশের ওপর তার পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং আইজিপিও তার বাহিনীর সক্ষমতার বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন। তিনি জানান, অতীতে যারা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করেছেন, এবারও তারাই দায়িত্ব পাবেন। এছাড়া বিজিবি ও আনসার বাহিনীও পর্যায়ক্রমে প্রশিক্ষণের আওতায় আসবে বলে তিনি জানান।
নির্বাচনকালীন মনিটরিং ব্যবস্থা সম্পর্কে সিইসি বলেন, সহিংসতা রোধে সিসি ক্যামেরা, বডি-ওর্ন ক্যামেরা, ডিজিটাল ও অনলাইন মনিটরিংয়ের মাধ্যমে রিয়েল-টাইম তদারকি করা হবে, যাতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়। তবে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বা কৌশল এখনই প্রকাশের সময় আসেনি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যথাযথ সময় এলে শিগগিরই তা ঘোষণা করা হবে। এছাড়া দলীয় প্রতীকবিহীন এই নির্বাচনে প্রার্থীদের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী যারা যোগ্য বিবেচিত হবেন, তারাই মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন। আইন অমান্যকারী বা অযোগ্যদের মনোনয়ন বৈধ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
পরিশেষে সিইসি বলেন, সাংবিধানিক ও আইনি দায়িত্ব পালনে নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ বাহিনী একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য স্থানীয় সরকার নির্বাচন জাতিকে উপহার দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আমরা জাতীয় নির্বাচন যেভাবে করেছি, যত সুন্দরভাবে করেছি, একইভাবে অন্তত একই মানে স্থানীয় সরকার নির্বাচনটাও করতে চাই। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সিইসি বলেন, সব সরকারি সংস্থা, নির্বাচন কমিশন এবং আমাদের প্রশাসন তারা প্রমাণ করেছে যে তারা ডেলিভারি করতে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২৪ জুলাই-আগস্টের সময়ে অনেক গাড়ি তাদের পুড়ে গেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আপনারা তো চব্বিশের আগস্টের পরের পরিস্থিতি দেখেছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তারা যদি তাদের কমিটমেন্ট পূরণ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকেন, তাহলে তারা পারবেন।
Leave a Reply