পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে ১৭৭৬ সালের ২ জুলাই দ্য কন্টিনেন্টাল কংগ্রেস আনুষ্ঠানিকভাবে আমেরিকার স্বাধীনতার পক্ষে ভোট প্রদান করে এবং স্বাধীনতার ঘোষণা বা ডিক্লারেশন অব ইন্ডিপেন্ডেন্স অনুমোদন করে। পরবর্তীতে ৪ জুলাই এই ঘোষণা পাসের মধ্য দিয়ে বিশ্ব মানচিত্রে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের আত্মপ্রকাশ ঘটে। সময়ের পরিক্রমায় মেধা, উদ্ভাবনী শক্তি এবং সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সাড়ে ৩৪ কোটি জনসংখ্যা অধ্যুষিত প্রায় ৩৮ লাখ বর্গমাইল বা ৯৮ লাখ ৪১ হাজার ৪৫৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই দেশটি বিশ্বমঞ্চে এক অনন্য উচ্চতায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তবে এই দীর্ঘ পথচলায় অভ্যন্তরীণ ও বহির্বিশ্বের বিভিন্ন সশস্ত্র হামলায় অনেক দেশপ্রেমিক আমেরিকানকে জীবন উৎসর্গ করতে হয়েছে।
প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ কিংবা পার্ল হারবার হামলার মতো ঘটনাগুলো ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিলেও ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলা আমেরিকানদের মনে এক গভীর ও দগদগে ক্ষত তৈরি করেছে। তৎকালীন আল-কায়েদা প্রধান ওসামা বিন লাদেনের সরাসরি নির্দেশে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সকাল পৌনে ৯টায় ১৯ জন সন্ত্রাসী চারটি বাণিজ্যিক বিমান ছিনতাই করে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে আত্মঘাতী হামলা চালায়। এর মধ্যে আমেরিকান এয়ারলাইন্সের একটি বোয়িং ৭৬৭ বিমান, যাতে ২০ হাজার গ্যালন জেট জ্বালানি ছিল, তা নিউইয়র্ক সিটির ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের উত্তর টাওয়ারে আঘাত হানে। ১১০ তলাবিশিষ্ট এই আকাশচুম্বী ভবনের ৮০তম তলায় আঘাতের মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে টাওয়ারটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে গ্রাস হয়ে যায় এবং মুহূর্তের মধ্যে শত শত মানুষ প্রাণ হারান।
প্রথম বিমান হামলার ১৮ মিনিট পর ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ১৭৫ নামক আরেকটি বোয়িং ৭৬৭ বিমান ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের ৬০তম তলার কাছাকাছি সাউথ টাওয়ারে সজোরে আঘাত করে। সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ নর্থ টাওয়ারটিও ধূলিসাৎ হয়ে যায়। এই অমানবিক ও ভয়াবহ হামলায় ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে অবস্থানরতদের মধ্যে মাত্র ১৮ জন প্রাণে বেঁচে ফিরতে পেরেছিলেন বলে পরবর্তী তথ্যে জানা যায়। হামলার পরপরই পুরো এলাকা কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে এবং আহতদের আর্তনাদে চারপাশের পরিবেশ ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে।
এই ঘটনার পর শুরু হওয়া দীর্ঘ লড়াইয়ে মোল্লা ওমর ও সাদ্দাম হোসেন সরকারের পতন ঘটলেও ইরাকে চোরাগোপ্তা হামলা ও ভ্রাতৃঘাতী সংঘর্ষ ২০১৬ সাল পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে ২০১১ সালের ২ মে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে এক গোপন আস্তানায় অভিযান চালিয়ে আমেরিকান বাহিনী ওসামা বিন লাদেনকে হত্যা করতে সক্ষম হয়। এরপর জুন মাসে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আফগানিস্তান থেকে বিপুলসংখ্যক সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন এবং দীর্ঘ দুই দশক পর ২০২১ সালের আগস্টে আমেরিকার সকল সৈন্য আফগানিস্তানের ভূখণ্ড ত্যাগ করে। ১১ সেপ্টেম্বরের সেই ভয়াবহ হামলায় নিহতদের আত্মার শান্তি ও আহতদের সুস্থতা কামনা করছি এবং তাদের স্বজনদের প্রতি গভীর সহমর্মিতা প্রকাশ করছি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরাধীনতার লৌহশৃঙ্খল ছিন্ন করতে গিয়ে আধুনিক বিশ্ব-তিলোত্তমা যুক্তরাষ্ট্রের অগণিত বীর সন্তানকে বুকের তাজা রক্তের ঢল বইয়ে দিতে হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পাশাপাশি ৪ জুলাই ডিক্লারেশন অব ইন্ডিপেন্ডেন্স কংগ্রেসে পাস হওয়ার মধ্য দিয়েই বিশ্ব মানচিত্রে স্বাধীন-সার্বভৌম যুক্তরাষ্ট্র স্থান করে নেয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অদ্বিতীয় পরাশক্তি এবং রীতিমতো সর্বেসর্বা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরে রয়েছে কানাডা, পূর্বে আটলান্টিক মহাসাগর, দক্ষিণে মেক্সিকো উপসাগর ও মেক্সিকো এবং পশ্চিমে প্রশান্ত মহাসাগর। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আকার-আয়তনের বিচারে সমগ্র বিশ্বে রাশিয়া, কানাডা ও চীনের পর চতুর্থ বৃহত্তম রাষ্ট্রের স্থান দখল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিচিত্র বর্ণ-ধর্ম-সংস্কৃতি-গাত্রবর্ণ-ভাষা-কৃষ্টি জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ব অভিবাসীর আশ্রয়স্থল হিসেবেও স্বীকৃত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অবশ্য বিগত ২৫০ বছরে অভ্যন্তরীণ এবং বহির্বিশ্বের সশস্ত্র হামলায় অনেক দেশপ্রেমিক আমেরিকানকে আত্মাহুতি দিতে হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং পার্ল হারবার হামলার পরবর্তী ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের বিষাদময় হামলার দগদগে ক্ষত আমেরিকানদের মনের গভীরে অদ্যাবধি রাবণের চিতাসম অশান্তির অনল দাউদাউ করে প্রজ্জ্বলিত করে।
Leave a Reply