সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচে ইন্টার মিলানের বিপক্ষে ২-১ গোলে জয় পেয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। তবে ম্যাচের ফলাফল ছাপিয়ে আলোচনায় উঠে এসেছে গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়ার অসাধারণ পারফরম্যান্স। ম্যাচে ইন্টার মিলান ২১টি শট নিলেও মাত্র ৭টি ছিল লক্ষ্য বরাবর, যার প্রতিটিই রুখে দিয়েছেন বেলজিয়ামের এই তারকা। অথচ এতগুলো গুরুত্বপূর্ণ সেভ করেও ম্যাচসেরার পুরস্কারটি তাঁর হাতে ওঠেনি, বরং সেটি পেয়েছেন গোলদাতা ফেদে ভালভের্দে।
এই বিষয়টি মোটেও ভালোভাবে নেননি ইন্টার মিলানের কোচ জোসে মরিনিও। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, খেলাটি ৬-৫ বা ৬-৬ গোলে শেষ হতে পারত। তিনি আরও যোগ করেন, আমি এমন খামখেয়ালি ম্যাচ পছন্দ করি না। আমার চাওয়া দল ৫, ৬ বা ৭ গোল করুক, যেখানে কোনো অসাধারণ গোলরক্ষকের প্রয়োজনীয়তা না পড়ুক। কোর্তোয়া আজ ম্যাচসেরা না হলে কবে হবে, এমন প্রশ্নও তোলেন পর্তুগিজ এই কোচ। ম্যাচে মরিনিওর দল মাত্র ৩৫.৬ শতাংশ বল দখলে রাখতে পেরেছিল।
কোর্তোয়ার পারফরম্যান্স নিয়ে মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন খোদ ফেদে ভালভের্দেও। তিনি বলেন, বিশ্বাস হচ্ছে না ম্যাচসেরার পুরস্কারটা আমি পেয়েছি। এটা কোর্তোয়ার প্রাপ্য, সে আমাদের বাঁচিয়ে দিয়েছে। ইন্টার স্ট্রাইকার লাওতারো মার্তিনেজও স্বীকার করেছেন যে, কোর্তোয়া বিশ্বের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক এবং বারবার তাঁর দেয়ালের সামনেই তাদের আক্রমণ ব্যর্থ হয়েছে।
ইন্টার মিলানের বিপক্ষে এই ম্যাচটি ছিল চ্যাম্পিয়নস লিগে কোর্তোয়ার শততম ম্যাচ। এর আগে তিনি আতলেতিকো মাদ্রিদের হয়ে ১২টি, চেলসির হয়ে ১৬টি এবং রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ৭২টি ম্যাচ খেলেছেন। বেলজিয়ামের প্রথম এবং সব মিলিয়ে অষ্টম গোলরক্ষক হিসেবে তিনি এই মাইলফলক স্পর্শ করলেন। ২০১৩-১৪ মৌসুমে অভিষেকের পর থেকে এই প্রতিযোগিতায় আর কোনো গোলরক্ষক তাঁর চেয়ে বেশি সেভ করতে পারেননি।
চ্যাম্পিয়নস লিগে অন্তত ১০০ ম্যাচ খেলা ৫৬ জন খেলোয়াড়ের তালিকায় কোর্তোয়ার অবস্থান বেশ উজ্জ্বল। গোলরক্ষকদের এই অভিজাত তালিকায় তাঁর আগে রয়েছেন ইকার ক্যাসিয়াস (১৭৭), ম্যানুয়েল নয়্যার (১৬১), জিয়ানলুইজি বুফন (১২৪), পিওতর চেক (১১১), ইয়ান ওবলাক (১০৬), ভিক্টর ভালদেজ (১০৬) এবং অলিভার কান (১০৩)। এছাড়া একমাত্র গোলরক্ষক হিসেবে তিনি মাদ্রিদের দুটি ভিন্ন ক্লাবের হয়ে (আতলেতিকো মাদ্রিদ ২০১৪ এবং রিয়াল মাদ্রিদ ২০২২ ও ২০২৪) চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল খেলার অনন্য রেকর্ড গড়েছেন।
ম্যাচের ১৬তম মিনিটে হাকান চালাহানগ্লুর একটি জোরালো ফ্রি-কিক ঠেকানোর সময় কোর্তোয়ার স্থিরতা ছিল দেখার মতো। তিনি নিজের জায়গা থেকে একচুলও নড়েননি। এ বিষয়ে মুভিস্টারকে কোর্তোয়া জানান, অতীতে এল ক্লাসিকোতে রাশফোর্ডের ফ্রি-কিক এবং বিশ্বকাপে লামিনের শটের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি শিখেছেন যে, গোলরক্ষকের পোস্ট ছেড়ে নড়া উচিত নয়। তিনি বলেন, এখন কেউ যদি মানবদেয়ালের ওপর দিয়ে গোল করে ফেলে, তবে হাততালি দেওয়া ছাড়া উপায় নেই, কিন্তু আমি আর আমার পোস্ট ছেড়ে নড়ব না।
রিয়াল মাদ্রিদের রক্ষণভাগের দুর্বলতা নিয়ে পরোক্ষভাবে খোঁচা মারতে ছাড়েননি মরিনিও। তিনি মনে করেন, ইন্টার মিলানের আক্রমণভাগের আরও উন্নতির প্রয়োজন ছিল। তবে দিনশেষে কোর্তোয়ার দৃঢ়তায় রিয়াল মাদ্রিদ পূর্ণ পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়তে সক্ষম হয়েছে। চ্যাম্পিয়নস লিগের এই লড়াইয়ে একদিকে যেমন কোর্তোয়ার সেভ নিয়ে আলোচনা চলছে, অন্যদিকে গোলগড়ে হলান্ডের পারফরম্যান্সও সমানভাবে পাদপ্রদীপের আলোয় রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে পর্তুগিজ এই কোচের ম্যাচ নিয়ে বলা কথার তির তাই গিয়ে লাগল রিয়ালের রক্ষণে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অবশ্য শুধু নিজ দলের রক্ষণভাগই নয়, ম্যাচসেরা বেছে নেওয়া নিয়েও খোঁচা মারেন মরিনিও। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ঠিক এ বিষয়েই অবধারিতভাবে উঠে আসে থিবো কোর্তোয়ার প্রসঙ্গ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই কোচের খেলানোর ধাঁচ জানা থাকলে বল দখলে রাখার পরিসংখ্যান কোনো ব্যাপার নয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু দলের গোলকিপারকে যদি ছোট–বড় মিলিয়ে সাতটি সেভ করতে হয়, তাহলে মরিনিওর খানিকটা মাথা গরম হওয়াই স্বাভাবিক। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সংবাদ সম্মেলনে সেটা আরও স্পষ্ট হলো রিয়ালের গোলকিপার থিবো কোর্তোয়া ম্যাচসেরা না হওয়ায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পোস্টে ৩৪ বছর বয়সী থিবো কোর্তোয়া আছেন আগের মতোই। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: হাত দুটি এখনো শিশুকে কোলে নেওয়া মায়ের মতোই বিশ্বস্ত।
Leave a Reply