1. admin@deshibanglatv.com : dbtvlipu :
  2. deshibanglatv@gmail.com : dtvbangla :
  3. deshibanglatv0@gmail.com : newsdesk :
November 6, 2026, 7:17 am

র‌্যাব বিলুপ্ত করে নতুন ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ আইন সংসদে পাস

প্রতিবেদকঃ
  • হালনাগাদ সময়ঃ Thursday, September 10, 2026
  • 50 দেখা হয়েছে

জাতীয় সংসদে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’ পাস হয়েছে, যার মাধ্যমে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) বিলুপ্ত করে পুলিশের অধীনে নতুন এই বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের পথ প্রশস্ত হলো। বৃহস্পতিবার বিরোধী দলের বিভিন্ন আপত্তির মুখে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে বিলটি উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। এর আগে ৩ সেপ্টেম্বর বিলটি সংসদে উত্থাপনের পর সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়েছিল এবং ৯ সেপ্টেম্বর চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি কমিটির প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপন করেন।

নতুন এই ইউনিটের হাতে তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা থাকলেও র‌্যাবের জনবল, সম্পদ, রেকর্ড এবং দায়-দেনা সরাসরি এসআরবিতে হস্তান্তরের বিধান নিয়ে বিরোধী সদস্যরা তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, কার্যকর স্বাধীন নজরদারি ও জবাবদিহির ব্যবস্থা নিশ্চিত না করা হলে এই নতুন বাহিনী কেবল র‌্যাবেরই পুনরাবৃত্তি হতে পারে। বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বিলটির বিরোধিতা করে বলেন, র‌্যাব বিলুপ্ত করে নতুন নামে একই ধরনের বাহিনী গঠন জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করবে না।

বিলের ৪ ধারা অনুযায়ী, পুলিশ বাহিনীর অধীনে এসআরবি নামে একটি বিশেষায়িত ইউনিট থাকবে, যার সদর দপ্তর হবে ঢাকায়। সরকার পুলিশ ও অন্যান্য শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের প্রেষণে নিয়োগের মাধ্যমে এই ইউনিট গঠন করবে। ইউনিটের মহাপরিচালক হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে কাউকে নিয়োগ দেওয়া হবে। ১০ ধারা অনুযায়ী, জননিরাপত্তা রক্ষা, সন্ত্রাসবাদ, সংঘবদ্ধ অপরাধ, মাদক, সাইবার অপরাধ, গুম ও ভূমিদস্যুতার মতো গুরুতর অপরাধ দমনে এই ইউনিট কাজ করবে।

তল্লাশি ও গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে এসআরবিকে ফৌজদারি কার্যবিধি ও প্রচলিত আইন অনুসরণ করতে হবে। ১২ ও ১৩ ধারার বিধান অনুযায়ী, ইউনিটের সাব-ইন্সপেক্টর বা তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তদন্তের ক্ষমতা পাবেন। তবে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি বা জব্দ করা আলামত এসআরবির কাছে রাখা যাবে না; বরং অনতিবিলম্বে নিকটবর্তী থানা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। আদালত, সরকার বা পুলিশ মহাপরিদর্শকের নির্দেশে এসআরবি ফৌজদারি অপরাধের তদন্ত করতে পারবে।

শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিষয়ে ১৭ ধারায় কঠোর বিধান রাখা হয়েছে। কর্তব্যরত অবস্থায় নেশাগ্রস্ত থাকা, সহকর্মীর ওপর আঘাত, অনুমতি ছাড়া দায়িত্বস্থল ত্যাগ, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার আদেশ অমান্য করা, বলপূর্বক অর্থ আদায় বা অবৈধ মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকাকে শৃঙ্খলা লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করা হবে। শাস্তিস্বরূপ বরখাস্ত, অপসারণ, বাধ্যতামূলক অবসর, পদাবনতি বা বেতন-ভাতা বাজেয়াপ্তের মতো ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। তবে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ ছাড়া কোনো সদস্যকে শাস্তি দেওয়া যাবে না এবং বিভাগীয় আদেশের বিরুদ্ধে ৩০ দিনের মধ্যে আপিলের সুযোগ থাকবে।

এসআরবি সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তের জন্য একটি অভিযোগ প্রতিকার কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। এতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ সদর দপ্তর, বিচার বিভাগ এবং মানবাধিকার বিশেষজ্ঞের প্রতিনিধিত্ব থাকবে। তবে বিরোধী সদস্যরা এই কমিটির নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের মতে, এসআরবি কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে এই কমিটি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে না। তারা অবসরপ্রাপ্ত হাইকোর্ট বিচারপতির নেতৃত্বে একটি স্বাধীন কমিটি এবং মানবাধিকার কমিশন ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিত্ব রাখার দাবি জানান।

আটকের বিষয়ে বিলে বলা হয়েছে, শৃঙ্খলা লঙ্ঘনের অভিযোগে কোনো সদস্যকে আটক করা যাবে। তবে ১৫ দিনের বেশি আটক থাকলে প্রতি সাত দিন অন্তর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে প্রতিবেদন দিতে হবে। প্রাথমিক প্রমাণ না থাকলে আটক সদস্যকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার বিধানও রয়েছে। এছাড়া, বেসামরিক ব্যক্তিদের আটকের সময়সীমা নির্ধারণ এবং বেআইনি আদেশ মানতে অস্বীকারকারী সদস্যদের সুরক্ষার বিষয়েও বিরোধী সদস্যরা স্পষ্ট বিধানের দাবি জানিয়েছিলেন।

প্রশিক্ষণের বিষয়ে বিলে উল্লেখ থাকলেও এর মানদণ্ড ও মেয়াদ বিধি দ্বারা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। বিরোধী সদস্যরা প্রশিক্ষণ শেষে সনদ পাওয়ার আগে তদন্তের ক্ষমতা না দেওয়ার প্রস্তাব করেন। আইনটি কার্যকর হওয়ার সাথে সাথে র‌্যাব গঠনসংক্রান্ত বিদ্যমান বিধানগুলো রহিত হবে এবং র‌্যাবের যাবতীয় দায়-দেনা ও সম্পদ এসআরবিতে হস্তান্তরিত হবে। এই রেকর্ড ও সম্পদ হস্তান্তরের বিষয়টি নিয়েও বিরোধী সদস্যরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, কারণ গুমসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধের মামলায় এসব নথিপত্র গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ জন্য রাজনৈতিক দল, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিচারক, আইনজীবী, ভুক্তভোগী পরিবার ও মানবাধিকার সংগঠনসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বিস্তৃত পরামর্শের প্রস্তাব দেয়া হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ক্ষমতা প্রয়োগে স্বচ্ছতা, তদারকি ও কার্যকর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি ইউনিটের প্রশাসনিক, আর্থিক ও অপারেশনাল ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ ছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, মানবপাচার, অপহরণসহ মানবতাবিরোধী কাজে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করবে ইউনিটটি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিলের ১৪ ধারায় বলা হয়েছে, ‘গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে বা জব্দকৃত আলামত অনতিবিলম্বে নিকটবর্তী থানা কর্তৃপক্ষের হেফাজতে সোপর্দ বা হস্তান্তর করিবেন।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ ছাড়া দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা, অস্ত্র-গোলাবারুদ বা সরঞ্জাম ক্ষতি বা হারানো, বলপূর্বক অর্থ আদায়, বেআইনিভাবে জমি দখল, সম্পদ চুরি বা ধ্বংস, অপরাধীকে আটক করতে ব্যর্থ হওয়া এবং জুয়া বা অবৈধ মাদকের সঙ্গে জড়িত হওয়াও শৃঙ্খলা লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রতিটি হাজতখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষের তথ্য গেজেটে প্রকাশ এবং হেফাজতের বিস্তারিত রেজিস্টার সংরক্ষণের প্রস্তাবও দেন তারা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে র‌্যাবের জনবল, আদেশ, ক্ষমতা, বিদ্যমান সুবিধা, তহবিল, নগদ ও ব্যাংকের অর্থ, দায়, চুক্তি, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি, হিসাববহি, রেজিস্টার, রেকর্ডপত্র ও সংশ্লিষ্ট দলিল এসআরবির অনুকূলে ‘তৎক্ষণাৎ স্থানান্তরিত এবং ন্যস্ত বা অর্পিত’ হবে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২৬ দেশি বাংলা টিভি — সর্বসত্ব সংরক্ষিত
Developer By Zorex Zira