যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্ব উপকূলে আঘাত হেনেছে শক্তিশালী এক ঝড়। এর তাণ্ডবে নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে গাছ চাপা পড়ে নিউইয়র্ক সিটি আবাসন কর্তৃপক্ষের একজন কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও চারজন। স্থানীয় অগ্নিনির্বাপণ বিভাগ জানিয়েছে, আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাদের আঘাত খুব বেশি গুরুতর নয়। শুক্রবার বিকেল থেকে নিউইয়র্ক নগরীতে গাছ ভেঙে পড়া ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অন্তত ৯০০টি ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। নিউইয়র্ক নগরীতে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল থেকে গাছ ভেঙে পড়া ও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ৯০০টির বেশি খবর পাওয়া গেছে। নিউইয়র্কের পার্ক ও বিনোদন বিভাগের কর্মীরা ঝুঁকিপূর্ণ গাছ ও ডাল সরাতে দীর্ঘ সময় কাজ করছেন।
ঝড়টি গত ২৬ সেপ্টেম্বর শনিবার ধীরগতিতে উত্তর-পূর্ব উপকূলের দিকে অগ্রসর হয়। এর প্রভাবে নিউ জার্সি ও ডেলাওয়ারের আটলান্টিক উপকূলে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৯৭ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ম্যাসাচুসেটসের বিভিন্ন অঞ্চলে বাতাসের ঝাপটার গতি ছিল ঘণ্টায় ৬৯ থেকে ৮৯ কিলোমিটারের মধ্যে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপকূলীয় ও উপসাগরীয় এলাকায় বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। নিউ জার্সির সি ব্রাইট এলাকার মেয়র ব্রায়ান কেলি জানিয়েছেন, সেখানে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ৮০ কিলোমিটার হতে পারে এবং কিছু রাস্তায় পানির উচ্চতা ৬ ফুট পর্যন্ত ওঠার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া উপকূলের বিভিন্ন স্থানে ঢেউয়ের উচ্চতা ২০ ফুট পর্যন্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নিউ জার্সির বিভিন্ন উপকূলীয় ও উপসাগরীয় এলাকায় শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত থেকে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা করা হয়। নিউ জার্সির সার্ফ সিটি এলাকায় রাস্তাঘাটে পানি উঠে কয়েকটি বাড়িতেও পানি ঢুকে পড়ে। নিচু এলাকার শত শত বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। ঝোড়ো বাতাসে গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি পড়ে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।
প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে বিভিন্ন স্থানে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে বোস্টনে নির্ধারিত দুটি খেলার সময়সূচি এগিয়ে শুক্রবার আয়োজন করা হয়েছিল। এছাড়া রোববার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আরও একটি ম্যাচ ফ্লোরিডায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ঝড়ের প্রভাবে যোগাযোগ ব্যবস্থাও ব্যাহত হয়েছে। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় প্রায় ৪৫ জন অতিথি এক জায়গায় আটকা পড়ার খবর পাওয়া গেছে, যদিও বর-কনে নিরাপদে দ্বীপে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন। ঝড়ের প্রভাবে ব্যাপক বৃষ্টিপাত ও জলোচ্ছ্বাসে নিচু এলাকাগুলোতে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কর্তৃপক্ষ উপকূলীয় বাসিন্দাদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে। ঝড়ের কারণে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাতেও প্রভাব পড়েছে।
Leave a Reply