সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে হুথিদের চালানো ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রভাবে ঢাকা থেকে বড় ধরনের ফ্লাইট বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। হামলার কারণে রিয়াদ বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ রাখায় রবিবার (১১ অক্টোবর) সকাল পর্যন্ত হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সৌদি আরবগামী ৫টি ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক কাওছার মাহমুদ।
শনিবার (১০ অক্টোবর) হুথিদের এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে দুইজন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। হামলায় আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন। এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে রিয়াদ বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বিমান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করতে বাধ্য হয়। ইয়েমেনবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত হান্স গ্রুন্ডবার্গ এই প্রাণঘাতী হামলাকে ‘সংঘাতের গুরুতর বিস্তার’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন যে, এমন হামলা কেবল আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্যই হুমকি নয়, বরং ইয়েমেনে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়াকেও জটিল করে তুলছে। এই হামলায় দুজন বাংলাদেশিসহ ১২ জন নিহত হন।
এদিকে, এই সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানিয়েছে মিসর, কাতার ও ফিলিস্তিনের মতো দেশগুলো। মিসরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে আন্তর্জাতিক আইনের ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’ এবং নাগরিকদের নিরাপত্তার প্রতি অবজ্ঞা বলে নিন্দা জানিয়েছে। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই হামলা সৌদি আরবের সার্বভৌমত্বের পরিপন্থী এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বেসামরিক বিমান চলাচলের জন্য সরাসরি হুমকি। দোহা সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দেশটির গৃহীত যেকোনো বৈধ পদক্ষেপের প্রতি পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে।
ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও সৌদি আরবের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছে। তাদের বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব ও দেশের ভেতরে বসবাসকারী সকল নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রিয়াদের নেওয়া প্রতিটি পদক্ষেপের প্রতি ফিলিস্তিন সমর্থন দিয়ে যাবে। উল্লেখ্য, সহিংসতার এই চক্র আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।
Leave a Reply