
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় পায়রা নদীতে মা ইলিশ রক্ষায় সরকারি নিষেধাজ্ঞাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চলছে মাছ ধরার মহোৎসব। মাধবখালী ইউনিয়ন থেকে মজিদবাড়িয়া পর্যন্ত প্রায় ৩৫ কিলোমিটার বিস্তৃত নদীতে রামপুর, ভিকাখালী, পিপড়াখালী, মনোহরখালী, গোলখালী, চরখালী, মাটিভাংগা ও ভুতুম্মাসহ অন্তত ১০টি পয়েন্টে অসাধু জেলেরা দিন-রাত ইলিশ শিকারে মেতে উঠেছেন। রামপুর থেকে ভিকাখালী পর্যন্ত এলাকাটিতেই ৫০ থেকে ৬০টি নৌকায় চলছে মা ইলিশ ধরার কার্যক্রম। প্রকাশ্যে এভাবে ইলিশ শিকার করতে পারত না। শুক্রবার বিকেলে উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়নের রামপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, জেলেদের ইলিশ শিকারের মহোৎসব। এর মধ্যে রামপুর ও কাকড়াবুনিয়া এলাকার দূরত্ব একটু বেশি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত বছরের তুলনায় এবার প্রশাসনের অভিযান অত্যন্ত ঢিলেঢালা এবং অকার্যকর। রামপুর গ্রামের বাসিন্দা জলিলুর রহমান শিকদার জানান, কোস্ট গার্ড, মৎস্য বিভাগ বা নৌ-পুলিশ অভিযানের প্রস্তুতি নিলে কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী কিংবা মাঝিরা আগেভাগেই জেলেদের সতর্ক করে দেন। ফলে অভিযানের আগেই জেলেরা নিরাপদ দূরত্বে সরে পড়েন। সরেজমিন দেখা গেছে, প্রশাসনের স্পিডবোটের শব্দ পেলেই জেলেরা দ্রুত জাল গুটিয়ে নৌকা নিয়ে কিনারে আশ্রয় নিচ্ছেন, আবার টহলদল চলে গেলে পুনরায় মাছ ধরা শুরু করছেন। এদিকে নদীর পাড়ে ইলিশ কেনার জন্য ক্রেতাদের ভিড় জমলেও পরিচিত ছাড়া জেলেরা মাছ বিক্রি করছেন না। স্থানীয়দের অভিযোগ, এ বছর মা ইলিশ ধরা রুখতে নিষেধাজ্ঞাকালীন প্রশাসনের তৎপরতা এতটা ঢিলেঢালা, যা নজিরবিহীন। বিগত বছরগুলোতে প্রশাসনের কড়া নজরদারি ছিল। জেলেদের ধাওয়া না করে স্পিডবোট নদীর মাঝখানে এসে অল্প সময় ভাসমান অবস্থায় থেকে, পুনরায় চলে যায়।
নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারী জেলেদের দাবি, তারা সরকারি অনুদান পান না। তাদের অভিযোগ, প্রকৃত জেলেরা বঞ্চিত হলেও পেশার বাইরের অনেকে বিভিন্ন উপায়ে নাম লিখিয়ে অনুদান নিচ্ছেন। এই ক্ষোভ থেকে অনেকেই আইন মানছেন না বলে জানান। তবে এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করেছেন দায়িত্বশীলরা। পায়রাকুঞ্জ নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান জানান, বিশাল এলাকা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন এবং স্পিডবোট পৌঁছানোর আগেই জেলেরা পালিয়ে যান। নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি মনে হয় তারা জানেনই না। অন্য পেশায় যারা আছেন, তারাই বিভিন্ন উপায়ে জেলে তালিকায় নাম দিয়ে অনুদান পেয়ে যান।’। পায়রাকুঞ্জ নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান জানান, পায়রা নদীর ৩৫ কিলোমিটারের বিশাল এলাকা তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে হয়।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান জানিয়েছেন, জনবল ও নৌযানের স্বল্পতার কারণে কার্যকর অভিযান চালানো যাচ্ছে না। বর্তমানে রামপুর থেকে কাকড়াবুনিয়া পর্যন্ত মাত্র একটি টিম কাজ করছে। অন্যদিকে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ রাসেল বলেন, কিছু অসাধু জেলে মা ইলিশ ধরছে এমন অভিযোগ পাওয়ার পর রামপুর এলাকায় অভিযান চালানো হয়েছে এবং কিছু জাল জব্দ করা হয়েছে। মা ইলিশ রক্ষায় আইন প্রয়োগের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি জানান। তার পরও নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে নৌ-পুলিশ মা ইলিশ রক্ষায় সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান বলেন, সার্বক্ষণিক মা ইলিশ রক্ষার জন্য অভিযান পরিচালনা করতে যে পরিমাণ লোকবল ও নৌযান প্রয়োজন, সেগুলো মৎস্য বিভাগের নেই।
Leave a Reply