প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব এবং আত্মমর্যাদা রক্ষার ওপরই বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতে বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার সম্পর্ক সুদৃঢ় করা বর্তমান বাংলাদেশের অন্যতম মূল লক্ষ্য। রোববার সাভারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কয়েকটি ব্যাটালিয়ন ও রেজিমেন্টকে জাতীয় পতাকা প্রদানকালে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড বা জাতীয় পতাকা কেবল একটি প্রতীক নয়; এটি একটি ইউনিটের ইতিহাস, শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব ও আত্মত্যাগের নিদর্শন। পতাকার মর্যাদা সমুন্নত রাখা প্রত্যেক সৈনিকের পবিত্র দায়িত্ব। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরোচিত হামলার মুখে অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের তৎকালীন উপঅধিনায়ক মেজর জিয়াউর রহমানের ‘উই রিভোল্ট’ ঘোষণা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের অংশ। সেই স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জন্ম হয়েছে। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক সেই জাতীয় পতাকা আপনাদের হাতে তুলে দেয়া হলো।
তারেক রহমান আরও বলেন, কোনো কোনো সময় সশস্ত্র বাহিনীর ইমেজ বা ভাবমূর্তি বিনষ্টের অপচেষ্টা করা হয়েছে, তবে তা সফল হয়নি। একটি আধুনিক সশস্ত্র বাহিনীর প্রকৃত শক্তি কেবল অস্ত্র বা জনবল নয়; বরং শৃঙ্খলার পাশাপাশি নেতৃত্ব, নৈতিকতা ও জনগণের আস্থার ওপরই বাহিনীটির ভিত্তি দাঁড়িয়ে থাকে। তিনি সেনাসদস্যদের সংবিধান, দেশের আইন এবং মানবিক মূল্যবোধের প্রতি অবিচল থেকে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
বর্তমান সরকারের প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী জানান, সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নের পাশাপাশি দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে অস্ত্র ও গোলাবারুদ দেশেই উৎপাদন করা সম্ভব হয়। তিনি প্রযুক্তিনির্ভর ও পেশাদার বাহিনী গড়ার ওপর জোর দিয়ে বলেন, প্রযুক্তি মানুষের বিকল্প হতে পারে না। তাই সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীকে সমন্বিতভাবে কাজ করার সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে সরকার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাচ্ছে। সর্বোপরি চেইন অব কমান্ড।আমরা সশস্ত্রবাহিনীকে আরো প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষ, শৃঙ্খলাবদ্ধ, পেশাদার এবং সর্বাধুনিক হিসেবে গড়ে তোলার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছি।’।
Leave a Reply