রাজধানীর পূর্বাচলে অবস্থিত পুলিশ হাউজিংয়ের একটি প্লটে অভিযান চালিয়ে ২৬ জন নারীসহ মোট ৮৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। সোমবার রাতে উত্তরা বিভাগের ডিবির অভিযানে ইয়াবা, মদ ও গাঁজাসহ বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। টোকিওতে ২৭ অক্টোবর তারেক-তাকাইচি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক। ইশরাকের পদত্যাগ / জবাবদিহির কঠোর বার্তা, নাকি অতিরিক্ত শাস্তি।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, প্লটটির মালিক পুলিশের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত ডিআইজি) আবদুল্লাহ আল জাহির, যিনি ২৪তম পুলিশ ব্যাচের কর্মকর্তা। সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গড়তে চাই: প্রধানমন্ত্রী। অর্থপাচার ও সন্ত্রাসী কাজে অর্থায়ন রোধে বিমা প্রতিষ্ঠানের জন্য যে নির্দেশনা বিএফআইইউর।
এর আগে তিনি পুলিশ সদর দপ্তরের মেইনটেন্যান্স অ্যান্ড রিপেয়ার শাখায় কর্মরত ছিলেন।
ঘটনার পরপরই তাকে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। ডিবির কর্মকর্তারা জানান, বাড়িটি এয়ারবিএনবি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ভাড়ায় দেওয়া হতো এবং সেখানে দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধ ডিজে পার্টি ও মাদক সেবনের আসর চলত।
ডিবির উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার ইলিয়াস কবির জানান, অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জাহির নিজেই এসব পার্টির প্রধান আয়োজক হিসেবে ভূমিকা রাখতেন। এছাড়া মাহবুব আলম নামের এক ব্যক্তি অনুষ্ঠানের সহ-আয়োজক হিসেবে কাজ করতেন। মাহবুবের ভাষ্য অনুযায়ী, আয়োজিত পার্টি থেকে আয়ের ৭০ শতাংশ পেতেন জাহির এবং বাকি ৩০ শতাংশ মাহবুব নিতেন। বর্তমানে গ্রেপ্তারকৃতদের সামারি ট্রায়ালের জন্য পাঠানো হয়েছে। ডিবির উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার ইলিয়াস কবির বলেন, পুলিশ হাউজিং-১ এর ওই প্লটে নিয়মিত ডিজে পার্টি ও মাদক সেবন চলতো।
তবে অভিযানের বিষয়ে নিজের দায় অস্বীকার করেছেন মালিক আবদুল্লাহ আল জাহির। তিনি দাবি করেন, তার প্লটে জন্মদিনের অনুষ্ঠান ও পারিবারিক সমাবেশের জন্য বুকিং নেওয়া হয়। তিনি বলেন, ‘এয়ারবিএনবির মাধ্যমে বুকিং নেওয়া হলেও আমাদের নিয়মে মাদক ও ডিজে পার্টি কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। যারা এসব নিয়ম ভেঙেছেন, তারাই অপরাধ করেছেন।’ তার ভাষ্যমতে, মাসে দুই থেকে তিনটি অনুষ্ঠান হলেও তিনি নিয়মিত আয়োজক নন। যাদের কাছে মাদক পাওয়া গেছে, তারা অপরাধ করেছেন।
অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জাহির আরও জানান, গতকাল যে অনুষ্ঠানটির ওপর অভিযান চালানো হয়েছে, সেটি কেবল জন্মদিনের অনুষ্ঠানের জন্য ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। অতিথিরা নিজেরা মাদক নিয়ে সেখানে প্রবেশ করেন। নিজের ভূমিকার সাফাই গেয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, বাড়ির মালিক হিসেবে তার অপরাধ কোথায় থাকতে পারে, কারণ তাদের নির্দেশিকায় মাদক ও ডিজে পার্টি নিষিদ্ধ করার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। এই বিধিনিষেধ লঙ্ঘনকারীদের কালো তালিকাভুক্ত করার পাশাপাশি জরিমানা করা হয়।
Leave a Reply