ইরানের সঙ্গে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারলে আজ রোববারই দেশটিতে নতুন করে সামরিক হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, তার প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে। তবে তেহরান যদি আলোচনার মাধ্যমে কোনো চুক্তিতে রাজি হয়, তবে সামরিক পদক্ষেপ এড়িয়ে যাওয়ার পথ এখনো খোলা আছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। আড়াই দিন বন্ধের পর চালু বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট। বাংকারবিধ্বংসী বোমা নিয়ে আরব সাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, হামলার পরিকল্পনায় ইরানও।
পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন থেকে ইরানকে বিরত রাখতে আগের সামরিক অভিযানগুলো অপর্যাপ্ত ছিল বলে দাবি করেন ট্রাম্প। তিনি এই সংকটের একটি স্থায়ী সমাধান খুঁজছেন। শনিবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সামরিক হামলার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে ভাবা হচ্ছে এবং হয়তো আগামী দিনেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। তবে অভিযানের পরিকল্পনার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানান তিনি। আল জাজিরা ও আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য হামলা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা বিষয়টি বিবেচনা করছি, হয়তো আগামীকালই। বিনিময়ে দেশটির ওপর থেকে কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার কথা ছিল।
ট্রাম্পের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা করাই তেহরানের জন্য সামরিক হামলা এড়ানোর একমাত্র উপায়। চুক্তিতে পৌঁছালেও ইরান সেটি মেনে চলবে কি না, তা নিয়ে নিজের সংশয় গোপন করেননি তিনি। তিনি বলেন, হয় তাদের চুক্তিতে আসতে হবে, নতুবা তাকেই সামরিকভাবে বিষয়টি সম্পন্ন করতে হবে। তার দৃঢ় বিশ্বাস, যেকোনো পরিস্থিতিতেই শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের জয় হবে। ইরান থেকে কর্মী সরানোর খবর অস্বীকার রাশিয়ার।
ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এর আগে বি-২ বোমারু বিমান ব্যবহার করে যে হামলা চালানো হয়েছিল, তা দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে ব্যর্থ হয়েছে বলে তার দাবি। ট্রাম্প আরও দাবি করেন যে, যুদ্ধের আগের তুলনায় বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনের পরিমাণ বেড়েছে, যদিও তিনি এ দাবির পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান প্রদান করেননি। এর আগে বি-২ বোমারু বিমান ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র যে অভিযান চালিয়েছিল, তা দীর্ঘমেয়াদে এই লক্ষ্য নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট নয় বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। যে ২ পদ্ধতিতে ‘উচ্চকক্ষের’ সদস্য নির্বাচনের প্রস্তাব এলো সংসদীয় বিশেষ কমিটির বৈঠকে।
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এক প্রতিক্রিয়ায় আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার জন্য সরাসরি ওয়াশিংটনকে দায়ী করেছেন। মার্কিন কর্মকর্তাদের ‘কাপুরুষ’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, তারা পুরো প্রক্রিয়াটি এলোমেলো করে দিয়েছেন। তবে সব তিক্ততা সত্ত্বেও তেহরান এখনো কূটনৈতিক সমাধানের পথ উন্মুক্ত রাখতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন তিনি। অর্থাৎ, ওয়াশিংটনের সঙ্গে বিরোধ থাকা সত্ত্বেও কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রাখার কথা বলেছে তেহরান।
এদিকে ইরানে ট্রাম্পের সামরিক তৎপরতা নিয়ে নিজ দেশের অভ্যন্তরেও সমালোচনা বাড়ছে। ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস ভ্যান হলেন আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আরেকটি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে পরিণত হতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, আট মাস ধরে চলমান এই সংঘাতের পরও রিপাবলিকানরা কেবল বোমাবর্ষণের মাধ্যমেই বিজয় দেখছেন, যা ভিয়েতনাম বা ইরাকের মতো অতীত অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি হতে পারে। ভিয়েতনাম থেকে ইরাক—অতীতের যুদ্ধগুলোর পরিণতির কথা উল্লেখ করে ভ্যান হলেন বলেন, এই যুদ্ধ এখনই বন্ধ হওয়া উচিত। এ-সংক্রান্ত বিপরীত খবরকে ‘ভুয়া’ বলেও উল্লেখ করেছে দূতাবাস।
অন্যদিকে, বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে সমালোচনা করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তিনি বলেন, তার আমলে কূটনৈতিক উদ্যোগে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা সম্ভব হয়েছিল, যেখানে কোনো ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের প্রয়োজন পড়েনি। ওবামার মতে, বর্তমান অস্থিরতার কারণে বিশ্ববাজারে তেল ও ডিজেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সাধারণ মানুষের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তেলের দাম বাড়ার জন্য যুদ্ধকে দায় ওবামার।
২০১৫ সালে ওবামা প্রশাসনের সময় সম্পাদিত জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ) চুক্তিটি ছিল ইরান ও বিশ্বশক্তির মধ্যে এক মাইলফলক। তবে ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রকে ওই চুক্তি থেকে প্রত্যাহার করে নিলে ইরান আবার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বাড়াতে শুরু করে।
তেহরানে অবস্থিত রুশ দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরান থেকে তাদের কূটনীতিক বা বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত বিশেষজ্ঞদের সরিয়ে নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। দূতাবাস কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, কেন্দ্রটিতে কার্যক্রম স্বাভাবিক নিয়মে চলছে এবং তাদের লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার খবরটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
উল্লেখ্য, বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের সময় বেশ কয়েকবার হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। জুলাই মাসে প্রাপ্ত স্যাটেলাইট চিত্রেও স্থাপনাটির ভেতরে ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন দেখা গিয়েছিল।
বিদেশের কারাগারে বর্তমানে ১৫ হাজারের বেশি বাংলাদেশি নাগরিক বন্দী অবস্থায় রয়েছেন, যাদের জন্য পর্যাপ্ত সরকারি সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
ফুটবল বিশ্বে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি মেসিকে নিয়েও হতাশাজনক পরিস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। বদলি হিসেবে মাঠে নেমেও মায়ামিকে জয় এনে দিতে পারেননি লিওনেল মেসি। অন্যদিকে, অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদকে জয় এনে দেওয়ার পর আলভারেজ তার ভুল স্বীকার করে নিয়েছেন। ‘ভিনিসিয়ুস আইনে’ লাল কার্ড দেখলেন নেইমার। অ্যাতলেতিকোকে জিতিয়ে আলভারেজ বললেন, ‘ভুলটা আমারই ছিল’।
Leave a Reply