জাপানের টোকিওতে সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশন আয়োজিত স্বাস্থ্যবিষয়ক এক সেমিনারে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতের উন্নয়নে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও চিকিৎসক ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি জানান, সরকার স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করাকে বর্তমানে সর্বোচ্চ নীতিগত অগ্রাধিকার দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, সবার জন্য সাশ্রয়ী চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন, পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং পিছিয়ে থাকা জনপদগুলোর জন্য স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সুযোগ সম্প্রসারণে নিরলস কাজ করছে। একই সঙ্গে কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষা এবং পরিবারভিত্তিক সামাজিক সহায়তা কর্মসূচির মতো উদ্ভাবনী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যা মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, মানুষের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করা ব্যক্তিগত ও পেশাগতভাবে তার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে দুই দেশ অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতা বিনিময়ের মাধ্যমে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একে অপরের সহযোগী হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। শিশুদের সুস্বাস্থ্য এবং তাদের বিকাশে বাংলাদেশ ও জাপান অভিন্ন প্রতিশ্রুতি নিয়ে কাজ করছে বলেও তিনি জানান। তিনি আরও বলেন, শিশুদের সুস্থ পরিবেশে বেড়ে ওঠা এবং তাদের সম্ভাবনার পূর্ণ বিকাশ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ও জাপান উভয় দেশই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ক্রমাগত বিকশিত হচ্ছে।
বিশ্বব্যাপী আন্তঃসংযোগের এই যুগে স্বাস্থ্য কূটনীতির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে ডা. জুবাইদা বলেন, ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ লক্ষ্য অর্জনে স্বাস্থ্য কূটনীতি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশে মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্যের উন্নয়নের ক্ষেত্রে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অবদানের কথা তিনি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। চিকিৎসক হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি বলেন, যথাযথ নীতিমালা ও আধুনিক চিকিৎসাকেন্দ্র গড়ে তোলার মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে বড় ধরণের উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে।
সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশন শিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় যে কাজ করছে, তার প্রশংসা করে তিনি বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার আহ্বান জানান। উদীয়মান স্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলায় আরও বেশি সম্পদ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসার জন্য তিনি ফাউন্ডেশনের প্রতি অনুরোধ জানান। ডা. জুবাইদা রহমান আশ্বস্ত করে বলেন, টেকসই স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য যে কোনো উদ্যোগ বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকার পূর্ণ সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত রয়েছে।
Leave a Reply