1. admin@deshibanglatv.com : dbtvlipu :
  2. deshibanglatv@gmail.com : dtvbangla :
  3. deshibanglatv0@gmail.com : newsdesk :
November 6, 2026, 5:01 am

অভিজ্ঞতা: চাকরির প্রতিশ্রুতিতে কম্বোডিয়ায় স্ক্যাম সেন্টারে বিক্রি, ফিরে এসে

প্রতিবেদকঃ
  • হালনাগাদ সময়ঃ Wednesday, October 28, 2026
  • 55 দেখা হয়েছে

সাম্প্রতিক পরিস্থিতির তথ্য

  • হালনাগাদ হচ্ছে কিশোর গ্যাংয়ের তালিকা: পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ অভিযানের কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে।
  • পাচার ও স্ক্যাম সেন্টার: চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে কম্বোডিয়ায় নিয়ে বাংলাদেশিদের প্রতারণামূলক কাজে বিক্রির অভিযোগ।
  • অ্যাম্বুলেন্স পুল গঠন: রোগী পরিবহনের সুবিধার্থে সরকার নতুন অ্যাম্বুলেন্স পুল তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
  • খেলার মাঠে বিপত্তি: আলোকস্বল্পতার কারণে খেলা বন্ধ ও হৃদয়ের চোট পেয়ে মাঠ ছাড়া।

কম্বোডিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ তথ্যে উঠে এসেছে, ২০২৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ৩ হাজার ৩৬৪ জন বাংলাদেশিকে দেশটি থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। আইইডিসিআর কার্যালয়ে ঢুকে পরিচালককে মারধর, অভিযোগ ড্যাবের বিরুদ্ধে। কম্বোডিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ-মুখপাত্র টাচ সোখাকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ১৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশটি থেকে ৯৬ দেশের মোট ৭২ হাজার ৪২৬ বিদেশি নাগরিককে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

এর মধ্যে ৮৫২ জনকে অনলাইনে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে চিহ্নিত করা হয়েছে। স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়লেন হৃদয়, আলোকস্বল্পতায় খেলা বন্ধ।

মন্ত্রণালয় আরও জানায়, শুধু ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে দেশটি থেকে ৮৫টি দেশের ৫২ হাজার ২২৪ জনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে, যার মধ্যে ১৮ হাজার ৩৯৩ জন অনলাইন স্ক্যামের সাথে সম্পৃক্ত ছিল। মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, শুধু ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসেই ৮৫ দেশের ৫২ হাজার ২২৪ বিদেশিকে ফেরত পাঠিয়েছে। তাদের মধ্যে ৩৮টি দেশের ১৮ হাজার ৩৯৩ জনের অনলাইন প্রতারণার সঙ্গে সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।

তবে এই তালিকায় ঠিক কতজন পাচারের শিকার হয়ে জোরপূর্বক অপরাধে যুক্ত হয়েছিলেন, তা সরকারি বিবৃতিতে পরিষ্কার করা হয়নি।

ভুক্তভোগীদের একজন তোফায়েল আহমেদ দেশে ফিরে নিজের ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। ডেটা এন্ট্রির কাজের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে কম্বোডিয়ায় নেওয়া হয়েছিল। দালালদের তিনি ৭ লাখ ৭০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পরই তাকে ২ হাজার ডলারে একটি চীনা প্রতারক চক্রের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। তোফায়েল জানান, কাজের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে না পারলে তাকে বৈদ্যুতিক শক ও শারীরিক নির্যাতন করা হতো। সেখানে তাকে ইংরেজি ভাষা, টাইপিং দক্ষতা এবং মানুষকে বিনিয়োগে প্রলুব্ধ করার ক্ষমতার ওপর পরীক্ষা নেওয়া হয়। তোফায়েলের অভিযোগ, দালালরা তাকে প্রায় ২ হাজার ডলারে চীনাদের ওই চক্রের কাছে বিক্রি করে দিয়েছিল এবং তাকে বলা হয়েছিল, মুক্তি পেতে হলে এই টাকা তাকেই শোধ করতে হবে। প্রথমবার ব্যর্থ হলেও, দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় তিনি ইন্টারভিউতে উত্তীর্ণ হন।

তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, আমাকে যারা সেখানে পাঠিয়েছিল, তাদের আগেই বলেছিলাম কোনো স্ক্যাম সেন্টারে কাজ করব না। কিন্তু তারা বলেছিল, আমার কোনো উপায় নেই, কাজ করতেই হবে। পরে ১১ ফুট উঁচু দেয়াল টপকে তিনি পালিয়ে প্রাণ বাঁচান। বর্তমানে থাইল্যান্ডে বাংলাদেশ মিশনের মাধ্যমে ১ হাজার ৭৯৬ জন বাংলাদেশি দেশে ফেরার জন্য সহায়তা চেয়ে আবেদন করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে কয়েকশ বাংলাদেশি এখন দেশে ফেরার চেষ্টা করছেন। থাইল্যান্ডে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশন কম্বোডিয়া থেকে দেশে ফেরার জন্য ১ হাজার ৭৯৬ বাংলাদেশির কাছ থেকে সাহায্যের আবেদন পেয়েছে। তিনি ওই স্ক্যাম সেন্টারে এক মাস ২৭ দিন ছিলেন এবং রাত ১০টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত নাইট শিফটে কাজ করতেন।

ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৫ হাজার ৯৬৩ বাংলাদেশি কম্বোডিয়ায় যাওয়ার ছাড়পত্র নিয়েছেন। জুন মাস পর্যন্ত ৫৮৩ জনকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে, যার মধ্যে ১০৯ জন সরাসরি স্ক্যাম সেন্টার থেকে উদ্ধার হয়েছেন। পাচারকারীরা কম্পিউটার অপারেটর বা কাস্টমার সার্ভিসের নামে প্রতি মাসে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা বেতনের প্রলোভন দিয়ে থাকে। কম্বোডিয়ায় বাংলাদেশি নাগরিকদের পাচারের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই এই পরিসংখ্যান সামনে এলো। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) উপাত্ত উল্লেখ করে ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৫ হাজার ৯৬৩ বাংলাদেশি কম্বোডিয়ায় কাজের অনুমতি বা ক্লিয়ারেন্স নিয়েছেন। ব্র্যাকের তথ্যমতে, ৩০০ থেকে ৪০০ জন ইতোমধ্যে ফিরে এলেও আনুমানিক ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ বাংলাদেশি ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন। গত ২০ অক্টোবর আরও ৩০ বাংলাদেশি দেশে ফেরেন। তোফায়েল জানান, তিনি বিএমইটি স্মার্ট কার্ড পাওয়ার পর ৩০ এপ্রিল কম্বোডিয়া যান। এরপর তাকে রাতে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরে একটি স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। তোফায়েল বলেন, ‘এটা একটা স্ক্যাম সেন্টার, আমি বুঝতে পারি। পালানোর পথ খুঁজতে থাকা তোফায়েল মিথ্যা বলে পাসপোর্ট উদ্ধার করতে পারেন। তিনি সুপারভাইজারকে বলেছিলেন, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য তার পাসপোর্ট প্রয়োজন। এক রাতে আড়াইটার দিকে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেলে তিনি পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পান।

দালালদের প্রতারণার শিকার হয়ে সেখানে যাওয়ার পর পাসপোর্ট ও মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে বন্দি রাখা হয়।

ব্র্যাকের শরিফুল হাসান এই পরিস্থিতিকে ‘সাইবার দাসত্ব’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

তোফায়েলের মতো অনেকেই বৈধ কাগজপত্র হারিয়ে অবৈধ অভিবাসী হিসেবে মানবেতর জীবনযাপন করেছেন।

শেষ পর্যন্ত দূতাবাসের হস্তক্ষেপে অনেকেই দেশে ফেরার সুযোগ পাচ্ছেন।

তোফায়েলসহ ভুক্তভোগীরা চান, সাধারণ মানুষ যেন দালালের খপ্পরে পড়ে আর সর্বস্ব না হারায় এবং বিষয়টি নিয়ে যেন কর্তৃপক্ষ ও গণমাধ্যম জোরালো ভূমিকা পালন করে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২৬ দেশি বাংলা টিভি — সর্বসত্ব সংরক্ষিত
Developer By Zorex Zira