1. admin@deshibanglatv.com : dbtvlipu :
  2. deshibanglatv@gmail.com : dtvbangla :
  3. deshibanglatv0@gmail.com : newsdesk :
November 6, 2026, 6:38 am

জ্বালানি ও প্রযুক্তিসহ পাঁচ খাতে জাপানি বিনিয়োগ চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রতিবেদকঃ
  • হালনাগাদ সময়ঃ Wednesday, October 28, 2026
  • 55 দেখা হয়েছে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতে জাপানি কোম্পানিগুলোকে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। আজ টোকিওতে জেট্রো হলে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরাম’ সংলাপে মূল বক্তব্যে তিনি এই প্রস্তাব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পারস্পরিক স্বার্থ ও সুবিধার ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা এবং নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ সৃষ্টির জন্য জাপানি বিনিয়োগকারীরা এই ক্ষেত্রগুলোকে বিবেচনায় নিতে পারেন। বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৮ কোটিরও বেশি মানুষের বাজার, ২৭ বছরের মধ্যম বয়সের উদ্যমী তরুণ শ্রমশক্তি এবং ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণি বাংলাদেশের বড় সম্পদ। তিনি বলেন, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সামগ্রিক জ্বালানি খাতের উন্নয়নে বাংলাদেশের স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে। বাংলাদেশ তার মহাকাশবিষয়ক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে চায়। জাপানি কোম্পানিগুলো দেশে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধান করতে পারে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আসুন, দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে আরও শক্তিশালী অংশীদারত্বে রূপান্তর করি। বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতায় জাপান বৈদেশিক বাণিজ্য সংস্থা (জেট্রো) ও জাপান-বাংলাদেশ বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা কমিটির (জেবিসিসিইসি) যৌথ আয়োজনে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। মিৎসুই অ্যান্ড কোম্পানি (এশিয়া প্যাসিফিক) প্রাইভেট লিমিটেডের ঢাকা শাখার শাখা মহাব্যবস্থাপক ও কান্ট্রি চেয়ারপারসন কেনিচিরো কাওয়ামোতো ‘টুগেদার ফর আ ব্রাইটার বাংলাদেশ’ শীর্ষক উপস্থাপনা দেন।

প্রধানমন্ত্রী যে পাঁচটি খাতকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন তা হলো: মোটরযান উৎপাদন, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও মহাকাশ গবেষণা, আধুনিক রেলপথ ও সরবরাহ ব্যবস্থা এবং কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সরকারের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, যিনি দেশের উচ্চ প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনাময় খাতগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। রেলপথ ও সরবরাহব্যবস্থাকে আরেকটি অগ্রাধিকার খাত হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশালসহ দেশের প্রধান শহরগুলোকে সংযুক্ত করে দেশব্যাপী উড়ালপথে উচ্চগতির রেল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার প।

ফোরামের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম ও অংশগ্রহণ

  • ব্যবসায়িক আলোচনা: অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও জাপানের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতারা বিনিয়োগের সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সহযোগিতার রূপরেখা নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন।
  • উদ্বোধনী ও আনুষ্ঠানিকতা: জেট্রোর প্রেসিডেন্ট সুসুমু কাতাওকা অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন এবং জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্পবিষয়ক সংসদীয় উপমন্ত্রী শিনজি ওয়াকায়ামা অতিথি বক্তা হিসেবে যোগ দেন।
  • সমঝোতা ও ঘোষণা: অনুষ্ঠানে দুই দেশের মধ্যে বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বিনিময় করা হয় এবং নতুন বিনিয়োগ ও সহযোগিতামূলক প্রকল্পের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
  • অর্থনৈতিক দিকনির্দেশনা: বাংলাদেশে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলার কৌশল ও সম্ভাবনা নিয়ে বক্তব্য রাখেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
  • সংস্কার কার্যক্রম: বিনিয়োগ সহজতর করার লক্ষ্যে সরকার যেসব সংস্কার ও নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, তা তুলে ধরেন ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন।

বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৩৫০টি জাপানি প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। তবে প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের পরিমাণ এখনো ৫০ কোটি মার্কিন ডলারের নিচে, যা আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। গত অর্থবছরে জাপানে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ছিল ১৩৬ কোটি ডলার, বিপরীতে জাপান থেকে ২শ ১৬ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করা হয়েছে। এই বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও উচ্চতর পর্যায়ে নিয়ে যেতে এবং আগামী ৩০ থেকে ৫০ বছরের অংশীদারিত্ব গড়তে এই আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সময়ে জাপান থেকে বাংলাদেশ ২১৬ কোটি মার্কিন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে।’। উন্নয়ন সহযোগিতার গণ্ডি পেরিয়ে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, দু’দেশের সম্পর্ককে আরও উচ্চতর পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে। এ উদ্যোগের জন্য জাতীয় রেল নেটওয়ার্কের মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন, যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের চাহিদা বিশ্লেষণ, রুটের অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর কারিগরি ও বিনিয়োগ স। এ ক্ষেত্রে মহাকাশবিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও স্যাটেলাইট প্রকৌশলে জাপানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশটির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতার সুযোগ অনুসন্ধানে বাংলাদেশ আগ্রহী। পরে দেশে ফিরে তাঁরা অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগান। এখন আমরা আপনাদের আমাদের শিল্পকারখানা গড়ে তোলা, নতুন সুযোগ সৃষ্টি এবং একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।’।

স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাপান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দেশগুলোর একটি।

তাঁর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জাপান সফরের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁরা দুই দেশের সম্পর্ক গভীর করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

এ বছর দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা বাংলাদেশের জন্য প্রথম কোনো দেশের সাথে এ ধরনের চুক্তি।

এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্য জাপানি বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। অন্যদিকে, ইস্পাত, মোটরযানের যন্ত্রাংশ ও ইলেকট্রনিক উপাদানসহ জাপানি পণ্য বাংলাদেশে অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা পাবে।

বিনিয়োগের উপযোগী পরিবেশের নিশ্চয়তা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, টয়োটা আগামী ২০২৯ সালের মধ্যে বাংলাদেশে পূর্ণাঙ্গ মোটরযান উৎপাদন শুরুর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এ উদ্যোগকে সরকার সব ধরনের সহায়তা দেবে। এছাড়া জ্বালানি খাতে এলএনজি অবকাঠামো ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জেরা (JERA)-এর সঙ্গে বাংলাদেশ বর্তমানে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষ ১০টি ভোক্তা অর্থনীতির একটি হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমি পুরোপুরি বুঝতে পারি, ব্যবসা পরিচালনার জন্য নিশ্চয়তা প্রয়োজন। এই দুটো নিশ্চিত করার উপযোগী পরিবেশ তৈরি করাই আমাদের দায়িত্ব।’।

প্রযুক্তি পার্ক ও মহাকাশ গবেষণার সম্ভাবনার পাশাপাশি আড়াইহাজারে অবস্থিত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের জন্য তিনি জাপানি কোম্পানিগুলোকে আমন্ত্রণ জানান। এতে জাপানি কোম্পানি, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিনিয়োগকারীদের সম্পৃক্ততায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ক্লাউড কম্পিউটিং, রোবোটিকস ও ইলেকট্রনিকস উৎপাদনকেন্দ্রিক একটি উদ্ভাবনমুখী তথ্যপ্রযুক্তি পার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সুমিতোমো করপোরেশন কর্তৃক নির্মিত এই অঞ্চলে জাপানি মানদণ্ড নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের বিষয়ে তিনি বলেন, নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ, দক্ষ অবকাঠামো এবং শুল্ক ও করব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। এসব সমস্যার সমাধান এবং আরও ভালো ফলাফল নিশ্চিত করতে কাজ করছি।’।

পরিশেষে, দক্ষ জনশক্তি তৈরির লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের জাপানি ভাষা শিক্ষায় গুরুত্ব দেওয়ার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২৬ দেশি বাংলা টিভি — সর্বসত্ব সংরক্ষিত
Developer By Zorex Zira