1. admin@deshibanglatv.com : dbtvlipu :
  2. deshibanglatv@gmail.com : dtvbangla :
  3. deshibanglatv0@gmail.com : newsdesk :
November 5, 2026, 12:28 pm

মার্কিন নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়: চাপে ট্রাম্প ও রিপাবলিকানরা

প্রতিবেদকঃ
  • হালনাগাদ সময়ঃ Wednesday, November 4, 2026
  • 21 দেখা হয়েছে

মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয় ও ট্রাম্পের ওপর আঘাত

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি দেশটির ভোটারদের এক স্পষ্ট প্রত্যাখ্যানের বার্তা দিয়েছে। কংগ্রেস নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের এই জোয়ার ছড়িয়ে পড়েছে এমনকি রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত একাধিক অঙ্গরাজ্যেও। নিউ ইয়র্ক টাইমস বুধবার (৪ নভেম্বর) জানায়, মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভোটারদের বারবার বলেছিলেন, ‘এমনভাবে ভোট দিন, যেন ব্যালটে আমার নাম আছে।’ প্রাপ্ত তথ্যমতে, এবারের শরতে বিভিন্ন স্থানে বক্তব্য রাখার সময় তিনি অন্তত ৪৭ বার ভোটারদের প্রতি এই একই আহ্বান জানিয়েছিলেন। জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয় নিয়ে মানুষের উদ্বেগ কমানোর পরিকল্পনার কথা বলার বদলে তিনি ওয়াশিংটনের রিফ্লেক্টিং পুলের সামনে দাঁড়িয়ে শেওলা ও পানির পাইপ নিয়ে কথা বলেন। রক্ষণশীল অর্থনৈতিক নীতির পক্ষে কাজ করা সংগঠন ক্লাব ফর গ্রোথের প্রেসিডেন্ট ডেভিড ম্যাকিনটোশ বলেন, ‘ট্রাম্পের সমালোচকেরা আগেও তাঁর রাজনৈতিক মৃত্যুর ঘোষণা দিয়েছেন। ট্রাম্প নিজেই এবারের নির্বাচনকে তাঁর শাসনামলের ওপর গণভোটের রূপ দিয়েছিলেন। তাঁর এই বক্তব্য শুনে অনেক রিপাবলিকানও বিরক্তি প্রকাশ করবেন। প্রার্থী বাছাই থেকে শুরু করে নির্বাচনের ইস্যু, কৌশল ও প্রচারের বার্তা—সবকিছুই নির্ধারণ করেছেন তিনি। এতে দুর্নীতি নিয়ে ভোটারদের উদ্বেগ আরো বেড়েছে।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের হোয়াইট হাউসবিষয়ক প্রধান সংবাদদাতা পিটার বেকার ‘হিস্টোরিক মিডটার্ম রাউট সার্ভস অ্যাজ আ সুইপিং রিপিউক অব ট্রাম্প এরা’ শীর্ষক তাঁর বিশ্লেষণ-নিবন্ধে এই নির্বাচনের পুঙ্খানুপুঙ্খ চিত্র তুলে ধরেছেন। পিটার বেকার ১৯৮৬ সালে প্রথম মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন কভার করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। তাঁর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশের অভ্যন্তরীণ সংকট ও ট্রাম্প প্রশাসনের বিতর্কিত নানা সিদ্ধান্ত সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের ডেমোক্র্যাটদের দিকে ঝুঁকে পড়তে বাধ্য করেছে। দুবার ট্রাম্পকে হোয়াইট হাউসে পৌঁছে দেয়া ভোটার জোটের ওপরও তাঁর আগের মতো নিয়ন্ত্রণ আর নেই।

পরাজয়ের কারণ ও ভোটারদের অসন্তোষ

বিশ্বজুড়ে জ্বালানির উচ্চমূল্য, ইরানের সাথে ট্রাম্প প্রশাসনের দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং ট্রাম্প ও তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের বিরুদ্ধে ক্ষমতায় থেকে বিপুল অর্থ উপার্জনের অভিযোগ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। বুধবার ভোর পর্যন্ত পাওয়া হিসাব অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদের আসনগুলোর জন্য জাতীয়ভাবে ডেমোক্র্যাটদের পাওয়ার ভোটের ব্যবধান প্রায় ১৩ শতাংশ হতে পারে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের হিসাব ও পরিসংখ্যান বলছে, অন্তত ১৯৭৬ সালের পর কংগ্রেস নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দল এত বড় ব্যবধানে বিজয়ী হতে পারেনি। ২০২৮ সালের নির্বাচনে জিততে হলে সেটিই হবে পথ। তবে নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণের কারণে এই ব্যবধান আসন সংখ্যায় ততটা প্রতিফলিত নাও হতে পারে। নিজেদের সুবিধামতো নির্বাচনী এলাকার সীমানা সাজিয়ে নেয়ায় এখন বিরোধী দলের পক্ষে অন্য দলের আসন কেড়ে নেয়া আগের চেয়ে কঠিন। এ ছাড়া ক্ষমতায় থেকে নিজের অর্থ উপার্জনের নৈতিকতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নও তিনি এড়িয়ে গেছেন।

ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন যখন দায়িত্বে ছিলেন, তখন ১৯৯৪ সালে এবং বারাক ওবামার শাসনামলে ২০১০ সালে রিপাবলিকানরা যে বড় জয় পেয়েছিল, এবারের ডেমোক্র্যাটদের জয়ের ব্যবধান তার চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে। সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের তৎকালীন রাজনৈতিক পরিচালক ডগলাস বি. সোসনিক এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিশেষ নজর রেখেছিলেন। ডগলাস সোসনিকের স্পষ্ট মতামত হলো, ‘এটি মূলত ট্রাম্প, রিপাবলিকান পার্টি এবং গত দুই বছরে তারা যা যা করেছে, তার প্রতি আমেরিকার ভোটারদের সরাসরি প্রত্যাখ্যান।’ সোসনিকের মতে, এই নির্বাচনের পরদিন থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি সম্পূর্ণ নতুন এক পর্যায়ে প্রবেশ করবে এবং পরবর্তী দুই বছর থাকবে রাজনৈতিক পরিবর্তনের বড় সময়। অনেক ভোটার জরিপকারী ও সাক্ষাৎকার গ্রহণকারীদের বলেছেন, ট্রাম্প তাঁদের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ঠকিয়েছেন। কাতারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের এলএনজি নিতে চায় ভারত। তাঁর কাছ থেকে দূরত্ব তৈরির সাহস অনেক রিপাবলিকান প্রার্থী দেখাতে পারেননি।

ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া ও দলের অভ্যন্তরীণ চিত্র

তবে মধ্যবর্তী নির্বাচনে দলের বড় ধরনের ভরাডুবির পরপরই নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ও ভাবমূর্তি সামাল দেয়ার জোরালো চেষ্টা করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি প্রকাশ্যেই দাবি করেছেন যে ডেমোক্র্যাটদের কাছে এই পরাজয় আসলে তাঁর বিরুদ্ধে ভোটারদের নিজস্ব কোনো অনাস্থা বা রায় নয়। মঙ্গলবার রাতে নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি ব্যালটে ছিলাম না। আর আমি ব্যালটে না থাকায় আমার সমর্থকেরা পর্যাপ্ত সংখ্যায় ভোটকেন্দ্রে এসে ভোট দেননি।’ একইসঙ্গে তিনি রিপাবলিকান দলের অন্যান্য প্রার্থীদের কাছে সর্বদা নিঃশর্ত আনুগত্যও দাবি করেছেন।

নির্বাচনী লড়াইয়ে রিপাবলিকান পার্টি ও সমর্থকদের অবস্থান তুলে ধরতে গিয়ে প্রচারক ও দলীয় ব্যক্তি গ্রোগান বলেন, ‘আজ রাতে ফলাফলে যা-ই ঘটুক না কেন, আমরা এখনো ট্রাম্পের দলেই অবিচল আছি।’ তবে সামগ্রিকভাবে ডেমোক্র্যাটদের শিবিরে প্রধান শক্তি হিসেবে কাজ করেছে ট্রাম্পবিরোধিতা। এ বছর তাদের রাজনীতির মূল চালিকাশক্তি ছিল ট্রাম্পের নীতি ও পদ্ধতির প্রতিরোধ। অন্যদিকে, শিকাগোর সাবেক ডেমোক্র্যাট মেয়র ও যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত রাহম ইমানুয়েল বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘সবচেয়ে বড় ঘটনা হলো, মাগা-সমর্থক নন এমন রিপাবলিকানরা ভোটার হিসেবে তাঁদের নিজস্ব দল থেকে পুরোপুরি সরে এসেছেন। এখন ২০২৭ সালে আমরা রাজনৈতিকভাবে কী করব, তার ওপরই দেশের মূল ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।’ এক দশকের বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার করে আসা ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে। এখন সেই সিদ্ধান্তের মূল্য দিতে হচ্ছে তাঁকে। তুলনামূলক বেশি জয়ের সম্ভাবনা থাকা প্রার্থীদের বাদ দিয়ে তিনি কেন প্যাক্সটন ও ডারলিন গ্রাহামকে বেছে নিয়েছিলেন, এখন সেই সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করা মানুষদের বিরুদ্ধে কঠোর ধরপাকড় দেখে তাঁরা ক্ষুব্ধ হয়েছেন।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও আগামী দিনের রাজনৈতিক গতিপথ

ঐতিহাসিক নজির টেনে বিশ্লেষকেরা বলছেন, ১৯৭৪ সালের বিখ্যাত ওয়াটারগেট-পরবর্তী সময়ে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের সময় প্রথমবারের মতো কংগ্রেসে নির্বাচিত হয়েছিলেন জেমস ব্ল্যানচার্ড। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতে গিয়ে ব্ল্যানচার্ড মন্তব্য করেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা আর রাজনৈতিকভাবে পেছনে ফিরতে পারব না।’ তাঁর এই বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন ও রিপাবলিকানদের ব্যাকফুটে চলে যাওয়ার বাস্তবতা স্পষ্ট করে। ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির পর ১৯৭৪ সালের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের পর মনে করা হয়েছিল, রিপাবলিকানদের দীর্ঘদিন রাজনৈতিক ক্ষমতার বাইরে থাকতে হবে।

আন্তর্জাতিক সংঘাত ও অভ্যন্তরীণ মূল্যস্ফীতিও নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বিজয়ে প্রভাব ফেলেছে।

বিশেষ করে ইরানের বিরুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যে ট্রাম্পের গৃহীত পদক্ষেপ ও আন্তর্জাতিক তেলের বাজারের ওঠানামা মার্কিন মধ্যবিত্তকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে নতুন ঊর্ধ্বগতি।

সেই সাথে, ট্রাম্পের ব্যক্তিগত পছন্দের প্রার্থীদের টেক্সাস ও সাউথ ক্যারোলাইনার মতো শক্ত ঘাঁটিতে পরাজয় প্রমান করে যে সাধারণ ভোটাররা ট্রাম্পের ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ ভালোভাবে নেননি।

ওয়াশিংটনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পছন্দের কিছু নির্মাণ প্রকল্পের প্রতি তাঁর অতিরিক্ত মনোযোগ সাধারণ ভোটারদের চাহিদার সাথে মিলছিল না।

তবে নির্বাচনে ধাক্কা খেলেও ট্রাম্পবাদের মতো জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক চিন্তাধারা মার্কিন অঙ্গনে সম্পূর্ণ মুছে যায়নি। অধ্যাপক লিন ভ্যাভরেক মন্তব্য করেছেন যে এর মানে মাগা জোট একেবারে ধ্বংস হয়ে যায়নি, তবে ট্রাম্পের একক জনপ্রিয়তার জোয়ার নিশ্চিতভাবেই কিছুটা ম্লান হয়েছে।

জাতীয় পর্যায়ের প্রধান বার্তা ও তথ্যসংক্ষেপ

  • নিউ ইয়র্ক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী শরৎকালীন প্রচারণায় ট্রাম্প অন্তত ৪৭ বার নিজেকে ব্যালটে কল্পনা করে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
  • ১৯৭৬ সালের পর প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটরা সর্ববৃহৎ জাতীয় ভোটের ব্যবধান (প্রায় ১৩ শতাংশ) অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
  • ১৯৯৪ সালে বিল ক্লিনটন ও ২০১০ সালে বারাক ওবামার সময়ে রিপাবলিকানদের ঐতিহাসিক বিজয়ের রেকর্ডও ভেঙে দিয়েছে এই মধ্যবর্তী ফল।
  • পরাজয়ের পর নিউ ইয়র্ক টাইমসকে ট্রাম্প সাফ জানান, তিনি সরাসরি ব্যালটে না থাকার কারণেই ভোটার উপস্থিতি কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
  • বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক তেলের দাম বৃদ্ধি, ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং ব্যবসায়িক আর্থিক স্বার্থের অভিযোগ ট্রাম্পের দলের এই পতনের পেছনে ভূমিকা রেখেছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২৬ দেশি বাংলা টিভি — সর্বসত্ব সংরক্ষিত
Developer By Zorex Zira