1. admin@deshibanglatv.com : dbtvlipu :
  2. deshibanglatv@gmail.com : dtvbangla :
  3. deshibanglatv0@gmail.com : newsdesk :
November 6, 2026, 7:50 am

উপজেলা নির্বাচনে পোস্টার ও মিছিল নিষিদ্ধ: নতুন আচরণবিধি জারি করল নির্বাচন কমিশন

প্রতিবেদকঃ
  • হালনাগাদ সময়ঃ Monday, September 7, 2026
  • 51 দেখা হয়েছে

আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে আরও অবাধ, সুষ্ঠু ও প্রতিযোগিতামূলক করার লক্ষ্যে নতুন নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা-২০২৬ জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গত ৩ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের স্বাক্ষরে এই নতুন বিধিমালার গেজেট প্রকাশিত হয়। এবারের বিধিমালায় প্রার্থীদের প্রচারণার ধরনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো পোস্টার ব্যবহার ও মিছিল-শোডাউন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কেউ নির্বাচনী প্রচারণায় পোস্টার ব্যবহার করতে পারবেন না। এছাড়া দেয়াল, গাছ, বিদ্যুতের খুঁটি, সরকারি স্থাপনা, সেতু, কালভার্ট বা যেকোনো সরকারি স্থানে প্রচারসামগ্রী লাগানো কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের প্রকাশ্য মিছিল বা শোভাযাত্রা করা যাবে না। এমনকি ট্রাক, বাস, মোটরসাইকেল, ট্রেন বা নৌযান ব্যবহার করে শোডাউন করাও নির্বাচনী অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

প্রচারের ক্ষেত্রে হেলিকপ্টার বা যেকোনো আকাশযান ব্যবহারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। তবে প্রার্থীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রচার চালাতে পারবেন। এক্ষেত্রে প্রার্থীকে কোন কোন মাধ্যম ব্যবহার করা হবে, তা আগেভাগেই রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানাতে হবে। ডিজিটাল প্রচারণায় ব্যয় হওয়া অর্থ প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাবের অন্তর্ভুক্ত করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

ডিজিটাল প্রচারণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর অপব্যবহার ঠেকাতে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। কোনো প্রার্থী বা তার সমর্থকরা এআই ব্যবহার করে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর, বিদ্বেষপূর্ণ বা ব্যক্তিগত চরিত্রহননমূলক কোনো কনটেন্ট প্রচার করতে পারবেন না। নির্বাচনী পরিবেশ বিঘ্নিত করতে পারে এমন যেকোনো কনটেন্ট তৈরি বা প্রচার করাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

ভোটারদের প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে অর্থ, খাদ্য, পানীয় বা উপহার বিতরণের ওপরও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এছাড়া ধর্মীয় উপাসনালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা সরকারি অফিসে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো যাবে না। পেশিশক্তির ব্যবহার বা কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে কুৎসা রটানোও নতুন বিধিমালার আওতায় নিষিদ্ধ।

সরকারি সুযোগ-সুবিধা ব্যবহারের ক্ষেত্রেও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। কোনো প্রার্থী সরকারি যানবাহন, প্রচারযন্ত্র বা অন্য কোনো সরকারি সম্পদ নির্বাচনী কাজে ব্যবহার করতে পারবেন না। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণের ওপরও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। নির্বাচনের দিন ভোটারদের কেন্দ্রে আনা-নেওয়ার জন্য যানবাহন ভাড়া বা ব্যবহার করা যাবে না।

নতুন এই বিধিমালায় নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা আরও সুনির্দিষ্ট ও জোরদার করা হয়েছে। কোনো প্রার্থী বা তার নির্বাচনী এজেন্ট আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে কমিশন তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নিতে পারবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতা রাখা হয়েছে।

বিধিমালা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া নির্বাচনী ব্যয়সীমা অতিক্রম করা, অর্থ বা পেশিশক্তির ব্যবহার এবং সরকারি সুবিধা নিয়ে প্রচারণা চালানোকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে। এই নতুন বিধিমালার মূল উদ্দেশ্য হলো প্রার্থীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা এবং নির্বাচনী প্রচারণায় শৃঙ্খলা বজায় রাখা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নির্বাচনী প্রচারণায় নির্ধারিত সীমার বাইরে ক্যাম্প স্থাপন ও মাইক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বিধিমালায় নির্দিষ্ট নিয়ম মানতে হবে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২৬ দেশি বাংলা টিভি — সর্বসত্ব সংরক্ষিত
Developer By Zorex Zira