1. admin@deshibanglatv.com : dbtvlipu :
  2. deshibanglatv@gmail.com : dtvbangla :
  3. deshibanglatv0@gmail.com : newsdesk :
November 6, 2026, 10:44 am

রেশন থেকে কৃষক কার্ড: কেন প্রয়োজন একক ডিজিটাল পরিচয়পত্র?

প্রতিবেদকঃ
  • হালনাগাদ সময়ঃ Saturday, September 5, 2026
  • 42 দেখা হয়েছে

বাংলাদেশে দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন সময়ে নানা ধরনের কার্ড চালু করা হয়েছে। রেশন কার্ড, ভিজিএফ, ভিজিডি, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড—এসবের মাধ্যমে সরকারি সেবা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে নাগরিকের পরিচয় প্রমাণের জন্য জন্মনিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও কর শনাক্তকরণ নম্বর বা টিআইএন-এর মতো একাধিক নথির ব্যবহার রয়েছে। এই বিচ্ছিন্ন ব্যবস্থাকে একটি একক ডিজিটাল পরিচয়ের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

বাংলাদেশে কার্ডের মাধ্যমে খাদ্য বিতরণের ইতিহাস বেশ পুরোনো। ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের প্রেক্ষাপটে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার শহরাঞ্চলে বিধিবদ্ধ রেশনিং ব্যবস্থা চালু করে। পাকিস্তান আমল পেরিয়ে স্বাধীনতার পরও এই ব্যবস্থা চালু ছিল। তবে সময়ের সঙ্গে এই ব্যবস্থায় খাদ্যশস্যের অপচয়, আত্মসাৎ, ভুয়া বিতরণ এবং কালোবাজারে পণ্য বিক্রির মতো নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের সময় সরকারি ভর্তুকির খাদ্য প্রভাবশালী মহলের কাছে বেশি পৌঁছানোর অভিযোগও ছিল। ফলে নব্বইয়ের দশকের শুরুতে রেশনব্যবস্থা কার্যত বিলুপ্ত হয়ে যায়, যদিও সেনাবাহিনী ও পুলিশের মতো শৃঙ্খলা বাহিনীতে এটি এখনো বহাল আছে।

রেশনব্যবস্থা সংকুচিত হলেও সরকারি সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে কার্ডের ব্যবহার কমেনি। বরং ভিজিএফ, ভিজিডি, প্রতিবন্ধী ভাতা ও টিসিবির মাধ্যমে ভর্তুকি মূল্যে খাদ্যপণ্য বিতরণের জন্য আলাদা আলাদা কার্ডের প্রচলন হয়েছে। বর্তমান সরকার দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করেছে। গত ১০ মার্চ ১৪টি উপজেলায় এই কর্মসূচির পাইলট প্রকল্প শুরু হয়, যা সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে নির্বাচিত পরিবারগুলো মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা নগদ সহায়তা পাচ্ছে।

কৃষকদের জন্য চালু করা হয়েছে ‘স্মার্ট কৃষক কার্ড’। গত ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষের দিন এর প্রি-পাইলটিং কার্যক্রম শুরু হয়। এই কার্ডের মাধ্যমে ১ কোটি ৬৫ লাখ কৃষক সার, বীজ, কীটনাশক ভর্তুকি, কৃষিঋণ ও সেচ সুবিধাসহ ১০ ধরনের সেবা পাবেন। কৃষি মন্ত্রণালয় এটি বাস্তবায়ন করলেও এর আওতা শুধু ফসল উৎপাদনকারী কৃষকের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না; মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খামারিরাও এর সুবিধা পাবেন। এছাড়া প্রবাসী কার্ড ও ন্যাশনাল হেলথ কার্ড চালুর ঘোষণাও এসেছে বিভিন্ন সময়ে।

একাধিক কার্ডের ভিড়ে এখন প্রশ্ন উঠেছে, একটি পরিচয় দিয়েই কি সব সেবা পাওয়া সম্ভব? বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা বলছে, একক ডিজিটাল পরিচয় ব্যবস্থা অনেক বেশি কার্যকর। সিঙ্গাপুরের ‘সিংপাস’ দিয়ে স্বাস্থ্য, কর ও আবাসনসহ সব সরকারি সেবা নেওয়া যায়। ভারতের ‘আধার’ কার্ড ১২ অঙ্কের অনন্য নম্বর হিসেবে বায়োমেট্রিক তথ্যের মাধ্যমে কাজ করে। যুক্তরাজ্যও ‘গভ.ইউকে ওয়ান লগইন’ নামে একক ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করেছে, যার মাধ্যমে কর ও পাসপোর্টসহ বিভিন্ন সেবা পাওয়া যায়।

বিশ্বের এসব অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশ সরকার ‘ডিজিটাল সার্ভিস ট্রান্সফরমেশন ফর অ্যাকসেস অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স’ বা ডি-স্টার নামে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৬ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত। প্রকল্পের আওতায় ১৮ কোটি নাগরিকের জন্য পরিচয়পত্র তৈরির পরিকল্পনা থাকলেও কার্ড উৎপাদন ও মুদ্রণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২০ কোটি। এতে মোট ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে ৯ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা।

নতুন এই ‘এক-আইডি’ বা ইউনিফায়েড ডিজিটাল আইডেনটিটি ব্যবস্থায় জন্মের পর থেকেই একজন নাগরিককে স্থায়ী ডিজিটাল পরিচয় দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকার বলছে, এর ফলে এনআইডি, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো বিদ্যমান বিচ্ছিন্ন ব্যবস্থার সমন্বয় ঘটবে। ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান ডিজিটাল আইডি, ওয়ান ওয়ালেট’—এই মূলমন্ত্রে সরকার নাগরিকের সব সেবা ও ডিজিটাল লেনদেন একই প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসতে চায়। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নতুন প্রকল্প নেওয়ার আগে ১৮ বছরের কম বয়সীদেরও সমন্বিত পরিচয়ের আওতায় এনে বর্তমান ব্যবস্থাকেই কীভাবে একক পরিচয়ব্যবস্থায় রূপান্তর করা যায়, তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অন্যান্য সরকারি সেবায় সারা জীবন একই পরিচয় ব্যবহারের কথাও ভাবা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু বাংলাদেশে এক পরিচয়ের এই ভাবনা একেবারে নতুন নয়; বরং এর পেছনে রয়েছে কার্ডনির্ভর সরকারি সহায়তার দীর্ঘ ইতিহাস। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আর এত কার্ডের পর কেন আবার এক পরিচয়পত্রের (আইডি) প্রয়োজন দেখা দিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর পূর্ব পাকিস্তানেও এই ব্যবস্থা বহাল থাকে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: স্বাধীন বাংলাদেশে রেশনব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল স্ট্যাচুটরি রেশনিং বা বিধিবদ্ধ রেশনিং (এসআর)। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: রেশন কার্ডের মাধ্যমে নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষ কম দামে চাল, গমসহ বিভিন্ন খাদ্যশস্য কিনতে পারতেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: টাকা দিলেই অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছে ‘কল ডিটেল রেকর্ড, অবস্থানের তথ্য। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রশাসনিক দুর্নীতি, মজুতদারি ও খাদ্যশস্য পাচারের বিষয়ও আলোচনায় আসে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২৬ দেশি বাংলা টিভি — সর্বসত্ব সংরক্ষিত
Developer By Zorex Zira