1. admin@deshibanglatv.com : dbtvlipu :
  2. deshibanglatv@gmail.com : dtvbangla :
  3. deshibanglatv0@gmail.com : newsdesk :
November 6, 2026, 8:14 am

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্মিলিত দায়িত্বের ওপর জোর দিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

প্রতিবেদকঃ
  • হালনাগাদ সময়ঃ Sunday, August 23, 2026
  • 45 দেখা হয়েছে

রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সম্মিলিতভাবে রাজনৈতিক ও নৈতিক দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, বাংলাদেশের একার পক্ষে এই বিশাল সংকটের বোঝা বহন করা সম্ভব নয়। রোববার (২৩ আগস্ট) রাজধানীতে ডিপ্লোমেটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) এবং অক্সফাম ইন বাংলাদেশের যৌথ আয়োজনে ‘রোহিঙ্গা সংকটের ১০ বছর: মানবিক সহায়তা থেকে টেকসই সমাধানের পথে’ শীর্ষক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের পাশে মানবিকতার খাতিরে দাঁড়িয়েছে, তবে এই দায়িত্ব কেবল বাংলাদেশের একার নয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের প্রায় ১০ বছর পার হওয়া কেবল ফিরে দেখার সময় নয়, বরং নতুন করে উদ্যোগ গ্রহণ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার সময়। একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য ১০ বছর পরিকল্পনার সময়সীমা হতে পারে, কিন্তু শরণার্থী শিবিরে বেড়ে ওঠা শিশুর জন্য এটি একটি পুরো শৈশব, যা হারিয়ে যাচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই সংকটকে কোনোভাবেই ২০ বছরে গড়াতে দেওয়া যাবে না।

২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের ব্যাপক অনুপ্রবেশের পর থেকে বাংলাদেশ নিজস্ব সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও ১২ লাখেরও বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। প্রতিমন্ত্রী জানান, এই বিপুল জনসংখ্যার চাপে বাংলাদেশের পরিবেশ, অবকাঠামো এবং স্থানীয় জনসেবার ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। তবুও বাংলাদেশ খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা ও সুরক্ষার মতো মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করে যাচ্ছে। তবে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, বাংলাদেশ মানবিক সহায়তা দিতে পারলেও এই সংকটের মূল সমাধান তাদের একার পক্ষে সম্ভব নয়।

২০২৬ সালের জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যানের আওতায় অর্থায়ন হ্রাসের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, খাদ্য ও পুষ্টির মতো মৌলিক বিষয়গুলো বিলাসিতা নয়, বরং জীবনধারণের অপরিহার্য উপাদান। অর্থায়নের ঘাটতি দেখা দিলে তা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী ও স্থানীয়দের পাশাপাশি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। আন্তর্জাতিক অংশীদারদের প্রতি তার আহ্বান, মানবিক সহায়তায় ক্লান্তি যেন মানবিক পরিত্যাগে রূপ না নেয়।

কক্সবাজারের স্থানীয় জনগণের ওপর সৃষ্ট চাপের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে স্থানীয়দের সহায়তাকে ঐচ্ছিক নয়, বরং অপরিহার্য অংশ হিসেবে দেখতে হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো আন্তর্জাতিক অংশীদারদের অবদানের প্রশংসা করলেও তিনি পুনরায় উল্লেখ করেন যে, সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে এবং এর টেকসই সমাধানও সেখানেই খুঁজে বের করতে হবে।

রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনই বাংলাদেশের চূড়ান্ত লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, শরণার্থী শিবির কখনোই স্থায়ী মাতৃভূমির বিকল্প হতে পারে না। দ্বিপক্ষীয় চুক্তির ভিত্তিতে যাচাই প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সঠিক তথ্য ও বিশ্বাসযোগ্য যাচাই প্রক্রিয়া বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে আস্থা তৈরির জন্য অত্যন্ত জরুরি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, চীনের পক্ষ থেকে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো দ্রুত বাস্তবায়িত হবে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ জাতিসংঘ ও আঞ্চলিক বিভিন্ন ব্যবস্থার সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে। ১৯৭৮ ও ১৯৯২ সালের সফল প্রত্যাবাসনের অভিজ্ঞতার আলোকে বর্তমান সরকারও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে সক্ষম হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, বিশ্ব যেন এই সংকটকে ভুলে না যায়, তা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমকে তথ্য-প্রমাণ ও বাস্তব তথ্যের ভিত্তিতে কাজ চালিয়ে যেতে হবে। পরিশেষে তিনি ত্রাণনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে সক্ষমতা বৃদ্ধি, সংহতি থেকে দায়িত্ব ভাগাভাগি এবং মানবিক ব্যবস্থাপনা থেকে রাজনৈতিক সমাধানের দিকে এগিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

উক্ত সংলাপে ডিক্যাব সভাপতি একেএম মঈনউদ্দীন এবং অক্সফাম ইন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন কান্ট্রি ডিরেক্টর অনিল পান্ত সূচনা বক্তব্য রাখেন। এছাড়া শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, চীনের ডেপুটি চিফ অব মিশন লিউ ইউইন, আইওএম বাংলাদেশের চিফ অব মিশন ড. লরা টম-বন্ডে, অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ এবং কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সভাপতি আবু মুর্শেদ চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্টরা আলোচনায় অংশ নেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একজন তরুণের জন্য এটি হারিয়ে যাওয়া শিক্ষা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একটি পরিবারের জন্য এটি একটি দশক ঘরহীন জীবন এবং একটি পুরো জনগোষ্ঠীর জন্য অনিশ্চয়তার মধ্যে একটি প্রজন্ম বেড়ে ওঠা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি বলেন, ‘আমরা ১০ বছরকে ২০ বছরে পরিণত হতে দিতে পারি না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের ব্যাপক অনুপ্রবেশের পর থেকে বাংলাদেশ তার সীমান্ত ও হৃদয় উন্মুক্ত রেখেছে উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিজস্ব উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ, সীমিত ভূমি ও উচ্চ জনঘনত্ব সত্ত্বেও বাংলাদেশ বর্তমানে ১২ লাখেরও বেশি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একই সঙ্গে শরণার্থী শিবিরে জন্ম নেওয়া শিশু এবং ২০১৭ সালের পর রাখাইন থেকে আসা রোহিঙ্গাদের বিষয়টিও যাচাই প্রক্রিয়ায় বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি বলেন, দায়িত্ব ভাগাভাগি শুধু সহানুভূতি প্রকাশ বা সংহতির বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি বলেন, ‘আপনারা শুধু সংকটের সংবাদ পরিবেশন করছেন না, বিশ্ব কীভাবে এই সংকটকে দেখবে, তা গড়ে তুলতেও ভূমিকা রাখছেন।’ দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা, তথ্য-প্রমাণ ও বাস্তব তথ্যের গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২৬ দেশি বাংলা টিভি — সর্বসত্ব সংরক্ষিত
Developer By Zorex Zira