1. admin@deshibanglatv.com : dbtvlipu :
  2. deshibanglatv@gmail.com : dtvbangla :
  3. deshibanglatv0@gmail.com : newsdesk :
November 6, 2026, 7:12 am

সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট: ৭৪ পদের বিপরীতে কর্মরত মাত্র ২৩ জন

প্রতিবেদকঃ
  • হালনাগাদ সময়ঃ Sunday, August 16, 2026
  • 55 দেখা হয়েছে

সুনামগঞ্জের ২৫০ শয্যার জেলা সদর হাসপাতালে তীব্র চিকিৎসক ও জনবল সংকট দেখা দিয়েছে। গত শনিবার দুপুরে হাসপাতালটির শিশু ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, শয্যা, মেঝে ও বারান্দার প্রতিটি কোণ রোগী ও তাঁদের স্বজনদের ভিড়ে ঠাসা। ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি রোগীর চাপে চিকিৎসক ও নার্সরা সেবা দিতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন। ভ্যাপসা গরমে রোগী ও স্বজনদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শিশু ওয়ার্ডে শয্যা সংখ্যা ৫০টি হলেও সেখানে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল ২২৫ জন। নার্সদের ভাষ্যমতে, রোগীর সংখ্যা আরও বেশি, কিন্তু ভিড়ের কারণে অনেকের নামই নিবন্ধন খাতায় তোলা সম্ভব হয়নি। শুধু শিশু ওয়ার্ড নয়, পুরো হাসপাতালে রোগীর চাপ ভয়াবহ। শনিবার দুপুর পর্যন্ত ২৫০ শয্যার এই হাসপাতালে মোট ৮৯১ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। অথচ এখানে চিকিৎসকের ৭৪টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ২৩ জন, অর্থাৎ ৫১টি পদই শূন্য।

হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডের চিত্র একই রকম। শিশু ওয়ার্ডের বারান্দার মেঝেতে তিন মাস বয়সী মেয়ে জান্নাতকে নিয়ে চার দিন ধরে অবস্থান করছেন দিরাই থেকে আসা জহুরুল ইসলাম। অনেক অনুরোধ করে একটি বিছানা জোগাড় করতে পারলেও মেয়ের শ্বাসকষ্ট নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় আছেন। একই অবস্থা সদর উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের আবদুস সালামের। সাত মাস বয়সী ছেলেকে নিয়ে এক সপ্তাহ ধরে হাসপাতালে থাকলেও শয্যা পাননি তিনি। ভিড় এড়াতে দিনের বেলা ইনজেকশন দেওয়ার সময় হাসপাতালে এলেও রাতে আত্মীয়ের বাড়িতে থাকছেন তিনি।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শিশু ওয়ার্ডে ২২৫, হাম ওয়ার্ডে ১৪৪, ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ১২২, নারী ওয়ার্ডে ১৫৩, পুরুষ ওয়ার্ডে ৯৪, প্রসূতি ওয়ার্ডে ৬২ এবং অন্যান্য ওয়ার্ডে ১০১ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। এছাড়া বহির্বিভাগে প্রতিদিন ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ জন সেবা নিতে আসেন। অথচ ৪৮ জন মেডিকেল অফিসারের বিপরীতে বর্তমানে মাত্র ১২ জন কর্মরত আছেন। নার্সের ২৬৩টি পদের মধ্যে ৭০টি এবং টেকনোলজিস্টসহ অন্যান্য ১৩৬টি পদের মধ্যে ৮৮টিই শূন্য।

চিকিৎসক সংকটের মধ্যেই গত মাসে এখান থেকে পাঁচজন চিকিৎসককে সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজে বদলি করা হয়েছে, যেখানে এখনো হাসপাতাল কার্যক্রমই শুরু হয়নি। হাসপাতালের আরএমও মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জানান, আরও কয়েকজন চিকিৎসকের বদলি প্রক্রিয়াধীন। তত্ত্বাবধায়ক আহম্মদ হোসেন জানিয়েছেন, জনবল সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

নার্সিং সুপারিনটেন্ডেন্ট মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন বলেন, ধারণক্ষমতার চেয়ে তিন-চার গুণ বেশি রোগীর চাপ সামলাতে গিয়ে প্রায়ই অপ্রীতিকর পরিস্থিতির শিকার হতে হয়। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, সংকটের বিষয়টি না বুঝে অনেকে স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন।

সুনামগঞ্জ সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সভাপতি কানিজ সুলতানা এই পরিস্থিতিকে দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, যেখানে আরও চিকিৎসক প্রয়োজন, সেখানে কর্মরতদের বদলি করা অযৌক্তিক। তিনি সুনামগঞ্জের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।

একজন নার্স জানান, রোগী আরও আছে।

কর্মরত আছেন ১৯৩ জন, শূন্য পদ ৭০টি।

আবদুস সালাম বলেন, ‘খুবই খারাপ অবস্থা।

অনেক বিভাগে সিনিয়র ও জুনিয়র কনসালট্যান্ট নেই।

তাই ইনজেকশন দেওয়ার জন্য খালি দিনে আসি।’

মেঝেতে রাখা ১০ বছর বয়সী লাকির পাশে কাঁদছিলেন তার বাবা শাহ আলম।

একজন চিকিৎসক এসে স্যালাইন দিতে বলে গেছেন।

শাহ আলম বলেন, ‘মানুষের ভিড়, ঠেলাঠেলি লাইগা আছে।

তারপরও চুন থেকে পান খসলেই আমাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়।

সংকটের বিষয়টি অনেকে বুঝতে চান না, এটাই আমাদের দুঃখ।’

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২৬ দেশি বাংলা টিভি — সর্বসত্ব সংরক্ষিত
Developer By Zorex Zira