1. admin@deshibanglatv.com : dbtvlipu :
  2. deshibanglatv@gmail.com : dtvbangla :
  3. deshibanglatv0@gmail.com : newsdesk :
November 6, 2026, 8:13 am

বাস্তবায়ন হবে তো: আসন্ন নির্বাচনে প্রবাসীদের ভোটাধিকার

প্রতিবেদকঃ
  • হালনাগাদ সময়ঃ Wednesday, August 12, 2026
  • 103 দেখা হয়েছে

২০২৬ সালের এপ্রিলের শুরুতে সম্ভাব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দেশে নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এই নির্বাচনে দেশের বাইরে বসবাসরত প্রায় এক কোটি থেকে এক কোটি ৪০ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশির ভোটাধিকার প্রয়োগের বিষয়টি বর্তমানে বড় আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। প্রবাসীরা দীর্ঘকাল ধরে দেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্স ও বিনিয়োগের মাধ্যমে বিশাল অবদান রেখে চললেও তাদের ভোটাধিকারের বিষয়টি কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ ছিল। এবার দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষিতে প্রবাসী বাংলাদেশিরা তাদের দীর্ঘদিনের এই দাবির বাস্তব রূপায়নের প্রত্যাশা করছেন। প্রশ্ন উঠেছে, এবারের নির্বাচনে বিদেশে বসবাসরত প্রায় ১ কোটি থেকে ১ কোটি ৪০ লাখ বাংলাদেশি কি তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। প্রবাসীরা বলছেন, তারা রেমিট্যান্স ও বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসলেও এর স্বীকৃতি মিলছে না।

যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাংলাদেশিরা মনে করছেন, আসন্ন নির্বাচন বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসীদের একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করার বড় সুযোগ। এলএসসিআই-এর চেয়ারম্যান এবং সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ ইউকে-র আহ্বায়ক নাসরুল্লাহ খান জুনায়েদ জানান, বাংলাদেশের সংবিধান প্রবাসীদের ভোটাধিকারের গ্যারান্টি দিলেও প্রায় ৫৫ বছর ধরে তা উপেক্ষিত। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৮ শতাংশই প্রবাসী এবং প্রতিটি সংসদীয় আসনে গড়ে প্রায় ৫০ হাজার ভোটার থাকতে পারেন। প্রতিবেশী ভারত, মালদ্বীপ ও ভুটানের মতো দেশগুলো প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করেছে এবং অনেক দেশে প্রবাসীদের জন্য সংসদীয় আসনও সংরক্ষিত আছে বলে তিনি জানান।

দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিয়ে কাজ করা ইউকে বাংলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম জানান, ওয়ান ইলেভেনের সময় সেনাসমর্থিত সরকার এ বিষয়ে উদ্যোগ নিলেও আইনি জটিলতায় তা ব্যর্থ হয়। বিগত নির্বাচন কমিশনগুলো আইন থাকা সত্ত্বেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, সরকার প্রবাসীদের কাছ থেকে রেমিট্যান্স নিলেও তাদের অধিকার বাস্তবায়নে আন্তরিক ছিল না। এবারের নির্বাচন থেকেই সকল জটিলতা নিরসন করে ভোটাধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছি। তবু তাদের ভোটাধিকার নিয়ে এখনও নেই কোনও কার্যকর ব্যবস্থা।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকারের বিষয়টি নিয়ে ইতিবাচক খবর দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। গত ১০ জুলাই প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ ঘোষণা করেছেন যে, প্রবাসী বাংলাদেশিরা এবারের নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন। তিনি জানান, পোস্টাল ব্যালট পদ্ধতির সীমাবদ্ধতা দূর করতে এবার আইটি সমর্থিত পোস্টাল ব্যালট পদ্ধতি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন ভবনের সভাকক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে এসব কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, এখানে আমাদের একজন কমিশনারের কাছ থেকে আরেকটা সিদ্ধান্ত এসেছে, আমরা যদি সব মার্কা শুধু ছাপিয়ে দুই মাস আগেই পাঠিয়ে দেই এবং চূড়ান্ত মার্কাতে যদি শুধু ভোটটা দিয়ে পাঠিয়ে দেয়, তাহলে হয় কিনা। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি টেকনিক্যাল কমিটি আবার এটা রিভিউ করুক।

নির্বাচন কমিশনার জানান, আগের পদ্ধতিতে একজন ভোটারকে সশরীরে রিটার্নিং অফিসারের কাছে আবেদন করতে হতো, যা ছিল সময়সাপেক্ষ। এখন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ভোটাররা নিজ অবস্থান থেকেই আবেদন করতে পারবেন। এছাড়া ব্যালট পেপার পাঠানোর ক্ষেত্রেও জটিলতা কমিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সহকারী রিটার্নিং অফিসারের উপস্থিতিতে তা পাঠানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মাধ্যমে পোস্টাল ব্যালটের ওয়েস্টেজ রেট কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, যা বর্তমানে প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হয়। গ্লোবাল ওয়েস্টেজ রেট হচ্ছে অ্যারাউন্ড ২৪ শতাংশ। আরেকটা ব্যাপার হচ্ছে—যে ব্যালটটা পাঠানো হতো ভোটারের কাছে, সেটা প্রথমে রিটার্নিং অফিসারের কাছে যেতো তারপর তিনি পাঠাতেন।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রবাসীদের ভোট গ্রহণের জন্য ৪৮ কোটি টাকার একটি বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। কমিশনার সানাউল্লাহ জানিয়েছেন, কমিশন প্রক্সি ভোট দেওয়ার পদ্ধতি থেকে পুরোপুরি সরে এসেছে। অনলাইন পদ্ধতির মাধ্যমে ভোটগ্রহণের ট্রায়াল পর্যায়ে পৌঁছানোর লক্ষ্য রয়েছে কমিশনের। এ পদ্ধতিতে প্রতিটি ভোট গ্রহণে প্রায় ৭০০ টাকা ব্যয় হবে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে।

প্রবাসীদের ভোটে অন্তর্ভুক্ত করার এই উদ্যোগটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রতিশ্রুতি রক্ষার একটি মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। চূড়ান্তভাবে এই প্রক্রিয়া সফল হলে প্রবাসীরা প্রথমবারের মতো জাতীয় নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবেন, যা তাদের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হবে। এই নির্বাচনই নির্ধারণ করবে, দেশ তার নাগরিকদের প্রতি তাদের অবস্থান নির্বিশেষে— গণতান্ত্রিক প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে প্রস্তুত কিনা।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২৬ দেশি বাংলা টিভি — সর্বসত্ব সংরক্ষিত
Developer By Zorex Zira