বাণিজ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন, গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ এবং বৈদেশিক বিনিয়োগসহ বিভিন্ন খাতে দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্ব জোরদার করার লক্ষ্যে একমত হয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। মঙ্গলবার টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত শীর্ষ বৈঠক শেষে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে দুই নেতা এই দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। এই সফরের অংশ হিসেবে দুই দেশের মধ্যে একাধিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা ভবিষ্যতের অংশীদারিত্বকে আরও বেগবান করবে। এর আগে জাপানের স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক শুরু হয়। তার আগে, জাপানের স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছালে তারেক রহমানকে স্বাগত জানান দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার অংশীদারিত্ব কয়েক দশকের বন্ধুত্বের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।
এর আগে স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১১টায় জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছালে তারেক রহমানকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান সানায়ে তাকাইচি। আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এরপরই দুই প্রধানমন্ত্রী রুদ্ধদ্বার দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেন। আলোচনায় দুই দেশের সম্পর্ককে ‘কৌশলগত অংশীদারত্ব’ স্তরে উন্নীত করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এছাড়া শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়েও একটি যৌথ ঘোষণা আসে। আমাদের বন্ধুত্ব পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস এবং শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার একটি অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির ওপর প্রতিষ্ঠিত।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেন, গত ৫০ বছরে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ক্রমান্বয়ে সুদৃঢ় হয়েছে। বাংলাদেশকে জাপানের দীর্ঘমেয়াদী এবং বিশ্বস্ত উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, কৌশলগত অংশীদারত্বের এই নতুন অধ্যায় দুই দেশের সম্পর্কের দিগন্ত আরও প্রশস্ত করবে। তিনি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে জাপানের ধারাবাহিক অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের সাথে দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের কথা তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশের জনগণের হৃদয়ে জাপান সবসময়ই বিশেষ স্থান দখল করে আছে। তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পরপরই স্বীকৃতিদানকারী দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল জাপান। বিগত পাঁচ দশকে বাংলাদেশের অবকাঠামো ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে জাপানের ভূমিকা অনস্বীকার্য। আজকের বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়েও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে বলে তিনি জানান।
জাপানি বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পরবর্তী ধাপের অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা প্রযুক্তি স্থানান্তর, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উৎপাদনশীল বিনিয়োগের মাধ্যমে উভয় দেশের জন্য একটি সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে চাই। আমাদের লক্ষ্য হলো দুই দেশের এই বন্ধুত্বের সম্পর্ককে অর্থনৈতিক সুযোগ কাজে লাগানোর শক্তিশালী ইঞ্জিনে রূপান্তর করা। আগামী প্রজন্মের জন্য একটি দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই উত্তরাধিকার গড়ে তুলতেই সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। আমরা এই স্থায়ী বন্ধুত্বকে গভীরভাবে উপলব্ধি করি।
Leave a Reply