1. admin@deshibanglatv.com : dbtvlipu :
  2. deshibanglatv@gmail.com : dtvbangla :
  3. deshibanglatv0@gmail.com : newsdesk :
November 5, 2026, 9:41 am

উখিয়ায় সড়ক দখল করে অবৈধ বাজার ও পার্কিংয়ের দৌরাত্ম্য

প্রতিবেদকঃ
  • হালনাগাদ সময়ঃ Thursday, November 5, 2026
  • 3 দেখা হয়েছে

কক্সবাজারের সীমান্তবর্তী ব্যস্ততম উখিয়ার আরাকান সড়ক এখন অবৈধ পার্কিং ও ঝুপড়ি দোকানের দখলে। বিশেষ করে কুতুপালং এলাকায় সড়কের দুই পাশ জুড়ে গড়ে ওঠা অবৈধ বাজার ও পার্কিংয়ের কারণে যাতায়াত ব্যবস্থা চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এক মিনিটের পথ পাড়ি দিতে এখন ঘণ্টারও বেশি সময় ব্যয় করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। এই ভোগান্তিতে পড়েছেন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিয়োজিত যানবাহনের চালক, ভিআইপি বহনকারী গাড়ি, রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স, স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীরা। দীর্ঘদিন ধরে এই অরাজকতা চললেও প্রশাসনের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না থাকায় জনদুর্ভোগ বেড়েই চলেছে। উপজেলার কুতুপালং এলাকায় সড়কের দুই পাশে গড়ে উঠেছে অবৈধ বাজার, স্থাপনা ও পার্কিং। সরেজমিনে দেখা যায়, কুতুপালং সড়কের উভয় পাশে সারিবদ্ধভাবে অবৈধ বাজার বসানো হয়েছে এবং পার্ক করে রাখা হয়েছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ইজিবাইকসহ বিভিন্ন ছোট যানবাহন। এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কের এক পাশে সিএনজি, অন্য পাশে ঝুপড়ি দোকান—সব মিলিয়ে সড়কের অবস্থা একেবারে নাজুক। এই বাজারের রাস্তা এখন ব্যবসায়ী ও পার্কিংয়ের দখলে চলে যাওয়ায় আমাদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। টাকার বিনিময়ে এখানে বাজার বসিয়েছি।

কুতুপালং বাজারের ইজারা নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, হেলাল উদ্দিন মেম্বারের পরিবারের প্রভাবে সরকার নির্ধারিত মূল্যের দ্বিগুণেরও বেশি দামে বাজারটি ইজারা নেওয়া হয়।

পরবর্তীতে বোরহান উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি ২ কোটি ৪১ লাখ ৪০ হাজার টাকায় সরাসরি এই বাজারটি ইজারা নিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট প্রশাসনের নীরবতার সুযোগ নিয়ে সড়ক দখল করে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা চাঁদা তুলছে। সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতি দোকান থেকে ২৫০ থেকে ৪০০ টাকা এবং প্রতিটি গাড়ি পার্কিং বাবদ ৫০ থেকে ১০০ টাকা চাঁদা নেওয়া হচ্ছে। এসব অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের একাংশকে ম্যানেজ করে দখলদারিত্ব বজায় রাখা হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। সবচেয়ে হতাশাজনক বিষয় হলো, এসব অবৈধ দখলের ঘটনা চোখের সামনে ঘটলেও ট্রাফিক ও হাইওয়ে পুলিশসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কার্যকর ভূমিকা না থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা। প্রতিদিন প্রতি দোকান থেকে ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা করে এক ভাই সংগ্রহ করেন।

সড়কের ওপর অবৈধভাবে পণ্য বিক্রি করা ব্যবসায়ীদের একজন সৈয়দুর রহমান জানান, তিনি ২৫০ টাকা হাসিল বা টোল দিয়ে সড়ক দখল করে ব্যবসা করছেন। এদিকে কোটবাজারের এক দোকানদার জানান, মোটা অঙ্কের টাকা দিয়েই তারা সেখানে বসার সুযোগ পেয়েছেন এবং নির্দিষ্ট কাউকে টাকা দিতে হয়। গাড়ি পার্কিংয়ের দায়িত্বে থাকা এক লাইনম্যানও স্বীকার করেছেন যে, নির্দিষ্ট টাকা দেওয়ার মাধ্যমেই পার্কিং কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এই অবৈধ দখলদারিত্বের ফলে কুতুপালং ছাড়াও কোটবাজার, মরিচ্যা, বালুখালী, থাইংখালী ও পালংখালী বাজারের পরিস্থিতিও নাজুক হয়ে পড়েছে। কোটবাজারে সড়ক দখল করে ব্যবসা পরিচালনাকারী এক দোকানদার বলেন, আমরা অতিরিক্ত টাকা দিয়ে এই দোকান করি। সকালে রাস্তায় গাড়ি একেবারেই এগোতে চায় না।

স্থানীয়দের মতে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভূমি সহকারী কমিশনার নিয়মিত এ পথ দিয়ে যাতায়াত করলেও সরকারি গাড়িতে চলাচলের সময় তারা জনদুর্ভোগের এই চিত্রটি উপলব্ধি করছেন না। কুতুপালং উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, যানজটের কারণে তাদের স্কুলে পৌঁছাতে ব্যাপক দেরি হয়। জাবেদ নামের এক চাকরিজীবী জানান, অফিসে যাওয়ার জন্য হাতে দেড় ঘণ্টা সময় নিয়েও যানজটের কারণে তার প্রচুর সময় নষ্ট হচ্ছে। অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও রোগীদের চরম বিপাকে পড়তে হয় বলে জানান পথচারী আমিন। কুতুপালং এলাকার আমিন নামের এক পথচারী বলেন, বাজারে একটু যাওয়া মানেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে বসে থাকা। জরুরি রোগী নিয়েও অনেক সময় বিপাকে পড়তে হয়।

কুতুপালং বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক রুবেল এই অবৈধ দোকানপাট দ্রুত উচ্ছেদের দাবি জানিয়ে বলেন, বাজার ইজারাদারকে কঠোর নিয়ন্ত্রণে না আনলে যানজট নিরসন সম্ভব নয়। শাহপরী হাইওয়ে পুলিশের এসআই ফজলুল হক জানিয়েছেন, যানজট নিরসনে তারা বাজার সমিতি ও প্রশাসনের সহযোগিতায় খুব শীঘ্রই উচ্ছেদ অভিযান শুরু করবেন। তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের সুনির্দিষ্ট সমন্বয় ছাড়া স্থায়ী সমাধান করা কঠিন। কোটবাজার এলাকায় ট্রাফিক পুলিশ নিয়মিত কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার জানিয়েছেন, সড়ক দখল করে গড়ে তোলা অবৈধ ঝুপড়ি দোকান ও পার্কিং উচ্ছেদের জন্য খুব শীঘ্রই যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হবে। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয় এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, নিয়ম অনুযায়ী বাজারের মূল্যতালিকা টাঙানোর কথা থাকলেও অদৃশ্য কারণে তা করা হয়নি। তবে তার যোগদানের পর নতুন মূল্যতালিকা তৈরি করে অনুমোদনের জন্য কক্সবাজারে পাঠানো হয়েছে এবং অনুমোদন পাওয়া মাত্রই তা প্রকাশ্যে টাঙিয়ে দেওয়া হবে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২৬ দেশি বাংলা টিভি — সর্বসত্ব সংরক্ষিত
Developer By Zorex Zira