নির্জন দুর্গ, পরিত্যক্ত হাসপাতাল কিংবা পুরোনো হোটেল—কিছু স্থানের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ভয়ংকর সব গল্প। কোথাও শোনা যায় অশরীরীর আনাগোনা, আবার কোথাও মাঝরাতে ভেসে আসে অদ্ভুত সব শব্দ। এসব গল্পের সত্যতা প্রমাণিত না হলেও রহস্যময় এই জায়গাগুলো দেখতে প্রতিবছর ভিড় করেন অনেক পর্যটক। ভূত-প্রেতে বিশ্বাস থাকুক বা না থাকুক, এসব স্থানে যারা গেছেন তাদের অনেকেই বিভিন্ন সময় অস্বাভাবিক অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। বিশ্বের এমন আটটি রহস্যময় স্থান সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক। প্রকল্প অনুমোদন / প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা পাবে পোশাক-জুতা, শিক্ষকরা পাবেন ট্যাব। মালদ্বীপের পর ভ্রমণপিপাসুদের নজরে ইন্দোনেশিয়ার যে নির্জন দ্বীপ।
রাজস্থানের জয়পুর ও আলওয়ার শহরের মাঝামাঝি আরাবল্লি পর্বতমালার কোলে অবস্থিত ভানগড় দুর্গ। সপ্তদশ শতকে রাজা মাধো সিং এটি নির্মাণ করেন। ভারতের অন্যতম ভৌতিক স্থান হিসেবে পরিচিত এই দুর্গটি বর্তমানে একটি জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। দুর্গের আশপাশে ছড়িয়ে আছে পুরোনো প্রাসাদ, মন্দির ও বাজারের ধ্বংসাবশেষ। এই জায়গাটি নিয়ে প্রচলিত রয়েছে নানা কিংবদন্তি। অনেক দর্শনার্থী এখানে অস্বাভাবিক কিছু দেখার দাবি করেছেন, এমনকি কেউ কেউ অচেনা কণ্ঠস্বর শোনার কথাও জানিয়েছেন। নিরাপত্তারক্ষীরা অবশ্য এসব দাবি অস্বীকার করে থাকেন। পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে সূর্যাস্তের পর থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত দুর্গটিতে প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত বা নিষিদ্ধ রাখা হয়েছে। শিল্পাঞ্চলে ড্রোন দিয়ে বিজিবির নজরদারি, এপিসিসহ ৩৩ প্লাটুন মোতায়েন। জিম্বাবুয়ের হয়ে টেস্ট অভিষেকের দুয়ারে ‘পাকিস্তানি পাইলট’ নাকভি।
যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ার ইস্টার্ন স্টেট পেনিটেনশিয়ারি একসময় বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল কারাগার হিসেবে স্বীকৃত ছিল। তবে হাসপাতালটি কেবল চিকিৎসাকেন্দ্র ছিল না।
১৮২৯ সালে যাত্রা শুরু করা এই কারাগারটি টানা ১৪২ বছর সক্রিয় ছিল।
এখানে স্লিক উইলি সাটন ও আল ক্যাপোনের মতো কুখ্যাত অপরাধীরা বন্দি ছিলেন।
দীর্ঘ সময় ধরে এখানে বন্দিদের ওপর চালানো নির্যাতন, রোগব্যাধি ও আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। কারাগারের অনেক কর্মী ও দর্শনার্থী অস্বাভাবিক অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। যেমন—গ্যারি জনসন নামের এক তালাচাবি মিস্ত্রি একবার চার নম্বর সেল ব্লকে কাজ করার সময় অদ্ভুত শক্তির উপস্থিতি অনুভব করেছিলেন। তার ভাষ্যমতে, মনে হয়েছিল কেউ তাকে পর্যবেক্ষণ করছে এবং পরে তিনি একটি কালো ছায়াকে দ্রুত অদৃশ্য হতে দেখেন। যদিও কারাগার কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক কোনো ভৌতিক স্বীকৃতির দাবি করে না। একে অপরের ওপর বাজি ধরেছিলেন, হারলেন দুজনই। পরে কক্ষটির প্রবেশপথ নতুন করে তৈরি করা হয়। পরে বাড়িটিকে ১০টি অ্যাপার্টমেন্টে ভাগ করা হয়।
সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি এলাকায় ১৯৩৫ সালে ব্রিটিশদের নির্মিত ওল্ড চাঙ্গি হাসপাতাল একসময় আহত জাপানি সেনা ও যুদ্ধবন্দিদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হতো। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানি সামরিক বাহিনী এটি নিয়ন্ত্রণ করত এবং কথিত আছে যে এখানে একটি নির্যাতনকেন্দ্রও ছিল। একটি কক্ষে মেঝেতে রক্তের দাগ ও দেয়ালে শিকল থাকার প্রচলিত গল্প থেকে এমন ধারণার জন্ম হয়েছে। স্থানীয়দের বিশ্বাস, যুদ্ধে নিহতদের আত্মা এই পরিত্যক্ত হাসপাতালে ঘুরে বেড়ায়। বর্তমানে জায়গাটি সাধারণের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। গ্রীষ্মে কেন অপরিচিতদের বাড়ির পেছনের বাগানে আমন্ত্রণ জানান এস্তোনিয়ানরা।
কানাডার বানফ ন্যাশনাল পার্কের ভেতরে অবস্থিত ফেয়ারমন্ট বানফ স্প্রিংস হোটেল প্রায় ১৩০ বছর ধরে সেবা দিয়ে আসছে। উইনস্টন চার্চিল থেকে শুরু করে মেরিলিন মনরোর মতো বিখ্যাত ব্যক্তিরা এখানে আতিথ্য গ্রহণ করেছেন। হোটেলটিকে ঘিরে অনেক ভৌতিক গল্প রয়েছে, যার মধ্যে ৮৭৩ নম্বর কক্ষের ঘটনাটি সবচেয়ে আলোচিত। কথিত আছে, এখানে একই পরিবারের তিন সদস্যকে হত্যা করা হয়েছিল। এছাড়া ১৯৩০-এর দশকে হোটেলের সিঁড়ি থেকে পড়ে এক নববধূর মৃত্যুর গল্পটি আজও লোকমুখে প্রচলিত। হোটেল কর্মী ও অতিথিদের অনেকেই সিঁড়িতে বা নাচের ঘরে ওই নারীর আত্মা দেখার দাবি করেছেন। ২০১৪ সালে কানাডার রয়্যাল কানাডিয়ান মিন্ট এই ঘটনার ওপর ভিত্তি করে স্মারক মুদ্রা ও ডাকটিকিট প্রকাশ করেছিল। তাদের অনেককেই সেখানে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়।
ইতালির ভেনিস শহরের অদূরে পোভেলিয়া দ্বীপকে অনেকে ‘ভূতের দ্বীপ’ বলে অভিহিত করেন। ইতিহাসের অন্ধকার অধ্যায়ে দ্বীপটি কবরস্থান এবং ১৯২০-এর দশকে মানসিক হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহৃত হতো। কথিত আছে, প্লেগ রোগের প্রাদুর্ভাবের সময় আক্রান্তদের সেখানে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হতো। হাসপাতালের এক চিকিৎসক রোগীদের ওপর নিষ্ঠুর পরীক্ষা চালাতেন এবং পরবর্তীকালে তিনি নিজেই আত্মহত্যা করেন বলে জানা যায়। বর্তমানে এই দ্বীপটি পরিত্যক্ত এবং পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত নয়। প্রায় ৬ দশমিক ৮ হেক্টর আয়তনের দ্বীপটি সেন্ট মার্কস স্কয়ার থেকে নৌকায় প্রায় ১০ মিনিটের দূরত্বে। রোগের বিস্তার ঠেকাতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের বিচ্ছিন্ন করে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কথিত আছে, প্লেগে আক্রান্ত এবং মানসিক বা শারীরিক সমস্যায় ভোগা মানুষদের জোর করে এই দ্বীপে পাঠানো হতো।
দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনের ক্যাসল অব গুড হোপ একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা, যা ভৌতিক গল্পের জন্যও পরিচিত। অষ্টাদশ শতকের শেষ দিকে সেখানে বসবাসকারী লেডি অ্যান বার্নার্ডের আত্মা আজও দুর্গে ঘুরে বেড়ায় বলে বিশ্বাস করা হয়। দুর্গের অন্ধকার কারাগার ও করিডর ঘিরে নানা কিংবদন্তি রয়েছে, যেখানে অনেকেই পায়ের আওয়াজ বা মানুষের কণ্ঠস্বর শোনার দাবি করেছেন। এক সময় বন্দিদের অন্ধকার কারাকক্ষে শিকল দিয়ে বেঁধে পানি ঢেলে শাস্তি দেওয়ার প্রচলিত গল্পগুলো এখনো পর্যটকদের মাঝে আলোচিত হয়। এছাড়া দুর্গের ঘণ্টা নিজে থেকে বেজে ওঠা বা বড় কালো কুকুরের উপস্থিতির দাবিও শোনা যায়। সাধারণ মানুষের প্রবেশের অনুমতি নেই। চতুর্দশ শতক থেকে ইতালিতে প্লেগ রোগে বহু মানুষের মৃত্যু হয়।
নিউইয়র্কের ১৪ ওয়েস্ট টেনথ স্ট্রিটের বাড়িটি ‘হাউস অব ডেথ’ নামে পরিচিত। বিশ্বাস করা হয়, এখানে ২২টি আত্মা রয়েছে। বিখ্যাত লেখক মার্ক টোয়েন ১৯০০ থেকে ১৯০১ সাল পর্যন্ত এই বাড়িতে বসবাস করতেন। অনেকের দাবি, সেখানে আজও সাদা চুলের এক ব্যক্তিকে দেখা যায়, যিনি নিজেকে মার্ক টোয়েন বলে পরিচয় দেন। বাড়িটিতে লিসা নামের এক শিশুকে দত্তক নেওয়া আইনজীবী জোয়েল স্টেইনবার্গের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ ছিল এবং ১৯৮৭ সালে এখানেই শিশুটির মৃত্যু হয়। এছাড়া অভিনেত্রী জ্যান ব্রায়ান্ট বার্টেল এই বাড়িতে বসবাসের সময় অস্বাভাবিক অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হন এবং বিষয়টি নিয়ে একটি বইও লেখেন। সেখানে তিনি একটি ভয়ংকর ছায়ার কথা উল্লেখ করেছেন। ১৯৭১ সাল পর্যন্ত কারাগারটি চালু ছিল। এখানেই ঘটে এক শিশুর মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড।
স্কটল্যান্ডের এডিনবরা দুর্গে রয়েছে মৃত্যু, মৃত্যুদণ্ড ও নির্যাতনের দীর্ঘ ইতিহাস। পর্যটকদের কেউ কেউ দুর্গের দেয়াল থেকে অদৃশ্য শক্তির ধাক্কা পাওয়ার দাবি করেছেন, আবার অনেকেই সেখানে গোবরের তীব্র গন্ধ অনুভব করেন। প্রচলিত গল্প অনুযায়ী, এক বন্দি গোবর বহনের গাড়িতে লুকিয়ে পালানোর সময় দুর্ভাগ্যবশত পড়ে গিয়ে নিহত হন, যা স্থানীয়দের কাছে ‘ডাং প্রিজনার’ হিসেবে পরিচিত। এছাড়া দুর্গের সুড়ঙ্গে ‘ঘোস্টলি পাইপার বয়’ নামের এক কিশোরের ব্যাগপাইপ বাজানোর শব্দ এবং ড্রামার বয় নামের এক বালকের উপস্থিতির কিংবদন্তিও রয়েছে। পোস্তগোলায় সড়ক ছেড়ে চায়ের দোকানে ট্রাক, নিহত ২।
Leave a Reply