ভারতে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের একটি মন্তব্য থেকে এর আগে ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’ বা ককরোচ জনতা পার্টির জন্ম হয়েছিল। এবার স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে করা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মন্তব্য থেকে সমাজমাধ্যমে নতুন করে জন্ম নিয়েছে ‘দিমাগী নকশাল পার্টি’। এই ব্যাঙ্গাত্মক পার্টির উদ্দেশ্য সম্পর্কে শুরুতে লেখা হয়েছিল, চিন্তা, গবেষণা ও প্রতিরোধ। ইনস্টাগ্রামে তৈরি হওয়া দিমাগি নকশাল পার্টি নামে একটি অ্যাকাউন্টে মাত্র ২৪ ঘন্টার মধ্যেই প্রায় ১ লক্ষ ৮৩ হাজার ইউজার ফলো করেছেন। এরপরেই হঠাৎ করে সেটি উধাও হয়ে যায়। পরবর্তীতে ইনস্টাগ্রামে নাম পাল্টে ককরোচ জনতা পার্টির অনুকরণে দিমাগি নকশাল জনতা পার্টি নামে নতুন একটি পেজ খোলা হয়েছে, যেখানে উদ্দেশ্য হিসেবে লেখা হয়েছে, ভাবনা, স্বাধীনতা ও জাতি প্রথম।
গত শনিবার ভারতের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, “দেশের অলিগলিতে মাওবাদীরা ঘাপটি মেরে বসে রয়েছে। জঙ্গলের বন্দুকধারী নকশালদের শেষ করা গেছে। কিন্তু দিমাগি বা বুদ্ধিজীবী নকশালরা সুযোগের অপেক্ষা করছে। হিংসা ছড়ানোর রাস্তা খুঁজছে, সমাজকে ভুল পথে চালানোর চেষ্টা করছে। এদের চিনতে হবে, একঘরে করতে হবে। বিকশিত রাষ্ট্র বানাতে যুবদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সুরক্ষিত ভারত তৈরি আমাদের সংকল্প।” প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের মাধ্যমে মূলত বুদ্ধিজীবী নকশালদের বোঝানো হয়েছে। মোদির এই বক্তব্যকে ভিন্নমতকে কলঙ্কিত করার প্রচেষ্টা বলে সমালোচনা করেছেন বিরোধী নেতারা। সাবেক অর্থমন্ত্রী তথা কংগ্রেস নেতা পি চিদম্বরম এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, ‘দিমাগি নকশাল হতে পেরে আমি গর্বিত’।
এই বার্তার পরেই নেটদুনিয়ায় জোর চর্চা শুরু হয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যের ব্যখ্যা করে বলেছেন, ভারতীয় সংবিধানকে উপেক্ষা করে যারা মাওবাদীদের সমর্থন করে, বিচ্ছিন্নতাবাদীদের পাশে দাঁড়িয়ে যারা ৩৭০ ধারাকে সমর্থন করে, চিকেনস নেক বন্ধ করে যারা উত্তরপূর্ব ভারতকে বিচ্ছিন্ন করে দিতে চায়, তাদেরই দিমাগি নকশাল বলা হয়। রিজিজুর এই মন্তব্যের আগেই সমাজমাধ্যমে দিমাগি নকশাল পার্টির উদয় হয়। এক্স হ্যান্ডেলেও এই নামে অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। দুটি অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রেই প্রতিষ্ঠাতার পরিচয় অজানা। বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠাতা হলেন দিমাগি ভারতীয়। আর সহ প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে বিদ্রুপ করে লেখা হয়েছে ৫৬ ইঞ্চি ছাতির কেউ। আসলে এক সময় মোদি তার ৫৬ ইঞ্চির ছাতির কথা গর্বের সঙ্গে বলেছিলেন।
এক্স অ্যাকাউন্টে কমেন্ট করে অভিনেতা প্রকাশ রাজ লিখেছেন, এরা লোকদের যা বলা হয়েছে তা অন্ধভাবে গ্রহণ করার পরিবর্তে প্রশ্ন করার আহ্বান জানিয়েছে। অভিনেতা মন্তব্য করেছেন, “দিমাগি বানো.. বেওয়াকুফ না। সাওয়াল করো.. গুলামি না”। ভারতে বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মীদের মধ্যে যারা নকশাল আন্দোলনকে সমর্থন করেন তাদের বিরুদ্ধে সরকার নানা ভাবে নির্যাতন করে মুখ বন্ধ করার চেষ্টা করে এসেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এদের বাক স্বাধীনতায় অর্গল পরাতে কারাগারেও পাঠানো হয়েছে অনেককে। বর্তমানে এই ব্যাঙ্গাত্মক অনলাইন আন্দোলনটি ভারতের রাজনৈতিক পরিসরে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যেখানে সরকারি বয়ানের বিপরীতে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন তোলার প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
Leave a Reply