কক্সবাজারের রামু উপজেলার জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের ঘোনার পাড়ার মরহুম উলা মিয়ার পরিবারটি বর্তমানে নারী শিক্ষার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তাঁর ১৬ সন্তানের মধ্যে ১৩ মেয়ে ও ৩ ছেলে, যাদের প্রায় সবাই উচ্চশিক্ষিত। বিশেষ করে তাঁর আট মেয়ে বর্তমানে বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। চার দশক আগে যখন মেয়েদের স্কুলে পাঠানো নিয়ে সমাজে নানা সামাজিক বাধা ছিল, তখন উলা মিয়া দৃঢ় সংকল্প নিয়েছিলেন যে ছেলে-মেয়ে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করবেন। তাঁর সেই স্বপ্ন আজ বাস্তবে রূপ নিয়েছে।
শিক্ষকতায় নিয়োজিত এই আট বোন হলেন হুসনে আরা বেগম, সাবেকুন্নাহার কাজল, মুজিবুন্নাহার, রিজিয়া আক্তার, সেলিনা আক্তার, তাহমিদা ইয়াছমিন, ফাহমিদা ইয়াছমিন এবং শারমিন আফরোজ নওরীন। বড় মেয়ে হুসনে আরা বেগম জানান, তাঁর বাবা সবসময় বলতেন মেয়েদের শিক্ষিত হতে হবে। বাবার সেই স্বপ্ন পূরণ করতেই তাঁরা শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন এবং গ্রামের শিশুদের পাঠদান করতে পেরে তাঁরা গর্বিত।
উলা মিয়ার বড় ছেলে ও রামু সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ছলিম উল্লাহ জানান, তাঁর বাবা বিশ্বাস করতেন শিক্ষাই প্রকৃত সম্মান। তখনকার সময়ে যখন পাত্রপক্ষের সহায়-সম্পত্তি দেখে বিয়ে দেওয়ার চল ছিল, তখন তাঁর বাবা পাত্রের শিক্ষাগত যোগ্যতাকে প্রাধান্য দিতেন। তাঁর বোনেরা যেমন শিক্ষিত, তেমনি তাঁদের স্বামীরাও নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত।
জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল শামসুদ্দিন চৌধুরী প্রিন্স বলেন, উলা মিয়ার ত্যাগ ও দূরদর্শিতার কারণে ওই এলাকায় নারী শিক্ষার হার উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাঁর পরিবারটি পুরো উপজেলার জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। একই পরিবারের আটজন সদস্যের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক হওয়ার ঘটনাটি বিরল বলে উল্লেখ করেন রামু উপজেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. হানিফ মিয়া। তিনি জানান, এই পরিবারের সাফল্যে তাঁরা গর্বিত এবং এটি অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণা।
একজন বাবার জেদ, মায়ের নিরলস ত্যাগ আর সন্তানদের অধ্যবসায়ের এই গল্প কেবল একটি পরিবারের সাফল্যের কাহিনী নয়, বরং এটি একটি প্রজন্মকে বদলে দেওয়ার ইতিবাচক উদাহরণ। শিক্ষার আলোয় আলোকিত এই পরিবারটি রামুর অসংখ্য পরিবারের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। নারী শিক্ষার প্রসারে এমন উদ্যোগ সমাজের প্রচলিত রক্ষণশীল ধারণা বদলে দিতে এবং একটি শিক্ষিত ও আলোকিত সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর মধ্যে ৮ মেয়েই এখন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ছেলেরাও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাঁর দেখানো পথেই আজ আট বোন হাজারো শিশুর জীবন গড়ছে।
Leave a Reply