মাগুরার আলোচিত শিশু নির্যাতন ও প্রাণহানির মামলায় আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ সোমবার এই রায় ঘোষণা করেন। আদালতের এই আদেশে আসামির ডেথ রেফারেন্স গ্রহণ করা হয়েছে এবং তার করা আপিল ও জেল আপিল খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। হিটু শেখ ভুক্তভোগী আট বছর বয়সী শিশুটির বোনের শ্বশুর।
ঘটনার সূত্রপাত গত বছরের মার্চ মাসে, যখন শিশুটি তার বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল। ৬ মার্চ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাকে অচেতন অবস্থায় মাগুরার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হলে ১৩ মার্চ সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় ৮ মার্চ শিশুটির মা মাগুরা সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত শেষে গত বছরের ১৩ এপ্রিল মাগুরা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলাউদ্দিন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে গত বছরের ১৭ মে মাগুরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আসামি হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। একই রায়ে অন্য তিন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়। বিচারিক আদালতের এই রায় অনুমোদনের জন্য ২১ মে নথি হাইকোর্টে পৌঁছায়। এরপর ২৫ জুন আসামি হাইকোর্টে আপিল করেন, যা ১ জুলাই শুনানির জন্য গ্রহণ করা হয় এবং তার অর্থদণ্ড স্থগিত করা হয়।
প্রধান বিচারপতির নির্দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনসংক্রান্ত মামলাগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির জন্য গঠিত বিশেষ বেঞ্চে এই মামলার শুনানি শুরু হয় ১১ আগস্ট। রাষ্ট্রপক্ষ পেপারবুক উপস্থাপনের মাধ্যমে শুনানি শুরু করে, যা ২৩ ও ২৪ আগস্ট পর্যন্ত চলে। তিন দিনের শুনানি শেষে ২৫ আগস্ট আদালত রায়ের জন্য আজকের দিন ধার্য করেছিলেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ ইমাম হোসেন তারেক ও সৈয়দ ইজাজ কবীর। আসামিপক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে হাফিজুর রহমান খান শুনানি পরিচালনা করেন। উল্লেখ্য, বিচারিক আদালত ঘটনার ৭৩ দিনের মাথায় এই মামলার রায় ঘোষণা করেছিলেন, যা দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে আলোচিত ছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মাগুরার শিশুটিকে একা পেয়ে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা, বোন ছিলেন রান্নাঘরে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর আগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনসংক্রান্ত ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও বিবিধ বিষয়াদি হাইকোর্টে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে শুনতে গত ১০ জুন হাইকোর্টের সুনির্দিষ্ট ওই বেঞ্চ গঠন করে দেন প্রধান বিচারপতি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গঠিত বেঞ্চটি গত ১৪ জুন থেকে কার্যক্রম শুরু করে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মাগুরার সেই শিশুটি কি অভিশাপ দিয়েছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরে গত বছরের ১৭ এপ্রিল মামলাটি চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয় এবং গত বছরের ২০ এপ্রিল অভিযোগপত্র গ্রহণ করা হয়।
Leave a Reply