ফ্রান্সজুড়ে শিক্ষার্থীদের চলমান বিক্ষোভ চরম সহিংস রূপ ধারণ করেছে। এই আন্দোলনের জেরে এখন পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ব্যক্তিকে আটক করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সহিংসতার ঘটনায় বিভিন্ন স্থানে বহু মানুষ আহত হয়েছেন। জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার বিষয়টি সরকারের কাছে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঢাকার কমিটিগুলো পুনর্গঠনে সতর্ক বিএনপি, নেতৃত্বে অভিজ্ঞদের পাশাপাশি তরুণরাও বিবেচনায়। রূপপুরের পথে পারমাণবিক জ্বালানির প্রথম চালান। ঢাকায় পঞ্চম ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’ শুরু।
দেশটির আইনমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানিন আরটিএল রেডিওকে জানিয়েছেন, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশকে এরই মধ্যে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন, এই বিক্ষোভে একটি সক্রিয় ও উগ্র সংখ্যালঘু গোষ্ঠী অংশ নিচ্ছে। অংশগ্রহণকারীদের বড় একটি অংশ আদৌ উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থী কি না, তা নিয়েও সরকারের পক্ষ থেকে সংশয় প্রকাশ করা হয়েছে। বাসে হামলা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনাগুলোকে দারমানিন নিছক বিক্ষোভ বলে মানতে নারাজ। উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ, প্রতিবাদ জাপানের। যখন মানুষ বাসে হামলা চালায় এবং স্কুলে আগুন দেয়, তখন সেটি আর শুধু বিক্ষোভের বিষয় থাকে না।’।
শিক্ষকদের সংকট নিরসন এবং জরাজীর্ণ স্কুল ভবন মেরামতের দাবিতে গত মাসে প্যারিস অঞ্চলে বিক্ষোভের সূচনা হয়। ধীরে ধীরে সেই অসন্তোষ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে জানিয়েছেন, শুক্রবার প্রায় ৪০০টির বেশি স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিক্ষকদের সংকট ও জরাজীর্ণ স্কুল ভবনের প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে।
এই আন্দোলনের নেপথ্যে রাজনৈতিক ইন্ধন রয়েছে বলে দাবি করেছেন সরকারসংশ্লিষ্টরা। প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নুর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের তথ্যানুযায়ী, নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর এক বৈঠকে গোয়েন্দারা জানিয়েছেন যে কট্টর বামপন্থী রাজনীতিকরাই মূলত এই আন্দোলন শুরুর পেছনে কাজ করছেন। এই গোষ্ঠীর মধ্যে ‘লা ফ্রঁস আঁসুমিজ’ দলের সদস্যরাও যুক্ত রয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক এই অস্থিরতা সামাল দিতে ফ্রান্স সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। স্কুলগুলোতে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য। অন্যদিকে, বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে তাদের মূল দাবিগুলো নিয়ে সরকারের সাথে আলোচনার তাগিদ অব্যাহত রয়েছে।
Leave a Reply