1. admin@deshibanglatv.com : dbtvlipu :
  2. deshibanglatv@gmail.com : dtvbangla :
  3. deshibanglatv0@gmail.com : newsdesk :
November 6, 2026, 5:49 am

কাপ্তাই সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পে যুক্ত হলো ৬ কোটি ৩৭

প্রতিবেদকঃ
  • হালনাগাদ সময়ঃ Tuesday, October 13, 2026
  • 49 দেখা হয়েছে

রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে স্থাপিত দেশের প্রথম অনগ্রিড সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নবায়নযোগ্য জ্বালানির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। প্রায় ৫০ বছর ধরে অব্যবহৃত পড়ে থাকা পাহাড়ের ১৯ একর জমিতে ২০১৯ সালে গড়ে তোলা হয় ৭.৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার এই প্রকল্পটি। প্রায় ১১১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই কেন্দ্রটি এখন নিরবচ্ছিন্নভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত কেন্দ্রটি থেকে প্রায় ৬ কোটি ৩৭ লাখ ইউনিট সৌর বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে, যার বাণিজ্যিক বাজারমূল্য আনুমানিক ৭৪ কোটি টাকা। কাপ্তাই কর্ণফুলী জল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, ১৯৬২ সালে কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পর কাপ্তাই বাঁধের পাশে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা প্রায় ২২ একর জমির ১৯ একর জমিতে প্রায় ১শ’ ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৯ সালে। 1962, 22, 19, 11, 2019, 7, 4. সূর্যের আলোর মাধ্যমে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হওয়ার সাথে তা পরিণত হচ্ছে দেশের অর্থনৈতিক সম্পদে।

কাপ্তাই কর্ণফুলী জল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, এই প্রকল্পের সাফল্যকে সামনে রেখে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে। বর্তমানে কেন্দ্রটির সাথে আরও ১ মেগাওয়াট যুক্ত করার পাশাপাশি নতুন করে ৭.৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার আরেকটি প্রকল্প নির্মাণের প্রক্রিয়া চলছে। এর টেন্ডার কার্যক্রম ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি জানান, ব্রিকফিল্ড এলাকায় নতুন এই পাওয়ার প্লান্ট স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে।

প্রকল্পের কার্যকারিতা সম্পর্কে কাপ্তাই সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এটি অত্যন্ত লাভজনক একটি উদ্যোগ। এর রক্ষণাবেক্ষণ খরচ খুবই সামান্য, মূলত প্যানেলগুলো পরিষ্কার রাখলেই চলে। আবহাওয়া কিছুটা প্রতিকূল থাকলেও উৎপাদন পুরোপুরি থেমে থাকে না। পাহাড়ের পরিত্যক্ত এলাকায় এ ধরনের প্রকল্পের ব্যাপক প্রসারের সুযোগ রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। রক্ষনাবেক্ষণ বলতে শুধুমাত্র পরিস্কার রাখতে হয়। পাহাড়ের পরিত্যক্ত এলাকায় এই প্রকল্পগুলোর প্রসার আরো বাড়ানো গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে।

সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহারের অন্যতম বড় সুবিধা হলো প্রচলিত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো। প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বলেন, সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য তেল, গ্যাস কিংবা কয়লার প্রয়োজন হয় না। এতে একদিকে যেমন জ্বালানি আমদানির ব্যয় কমে বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হচ্ছে, তেমনি কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে পরিবেশ সুরক্ষাতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কমানোর সম্ভাবনা, অন্যদিকে কার্বন নি:সরণ কমিয়ে পরিবেশ সুরক্ষার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ের এই অভিজ্ঞতা দেশের অন্যান্য অনাবাদি জমিতেও কাজে লাগানো সম্ভব। দেশের এক-দশমাংশ আয়তনজুড়ে থাকা তিন পার্বত্য জেলার অব্যবহৃত পাহাড়ী অঞ্চলকে সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পের আওতায় আনা গেলে জাতীয় বিদ্যুৎ চাহিদার একটি বড় অংশের জোগান দেওয়া সম্ভব।

এই সম্ভাবনাময় খাতকে আরও বেগবান করতে পরিকল্পিত বিনিয়োগ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ছাদভিত্তিক সৌর বিদ্যুৎ, কৃষিভিত্তিক সোলার পার্ক এবং অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে বিনিয়োগ বাড়লে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও সুসংহত হবে। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে পাহাড়ের এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে নবায়নযোগ্য শক্তির অংশ বাড়ানোর দিকেই মনোযোগী হচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২৬ দেশি বাংলা টিভি — সর্বসত্ব সংরক্ষিত
Developer By Zorex Zira