জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তাদের কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। দলটির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানিয়েছে, আজ মঙ্গলবার কিংবা আগামীকাল বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই নতুন কমিটির তালিকা প্রকাশ করা হবে। এই পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ায় নেতাদের কাজের দক্ষতা ও রাজনৈতিক পারফরম্যান্সকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দলটির নীতিনির্ধারকরা। এনসিপিতে কারা যোগ দিচ্ছেন, খতিয়ে দেখতে ‘ন্যাশনাল সার্চ কমিটি’ গঠন। সংসদের পাশাপাশি রাজপথে সক্রিয় হচ্ছে এনসিপি, সামনে লংমার্চ-মহাসমাবেশ। একলা চলার চিন্তা এনসিপিতে, কিসের ওপর ভর করে।
কমিটি পুনর্গঠিত হলেও এনসিপির শীর্ষ দুই পদে কোনো পরিবর্তন আসছে না। আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম এবং সদস্যসচিব আখতার হোসেন তাদের পূর্বের পদেই বহাল থাকছেন। তবে সাংগঠনিক কাঠামোর বাকি অংশে বড় ধরনের রদবদল আসছে। বর্তমানে দলীয় নেতৃত্বের ১১টি পদ ‘সুপার ইলেভেন’ হিসেবে পরিচিত, যা পুনর্গঠনের পর ছয়টি পদে সংকুচিত হয়ে ‘সুপার সিক্সে’ রূপ নেবে। এনসিপির বর্তমান সাংগঠনিক কাঠামোতে আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব এবং মুখ্য সমন্বয়ক, মুখ্য সংগঠক (২ জন); মুখপাত্র, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক (২ জন); জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব (২ জন) ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক—এই ১১টি পদ দলটির নেতৃত্বের ‘সুপার ইলেভেন’ হিসেবে পরিচিত। এই পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে নেতাদের পারফরম্যান্সকে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে মনিরা শারমিন বলেন, নিজেদের কার্যক্রমের মাধ্যমে এনসিপির অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছেন, অনেকে আবার সেভাবে সক্রিয় ছিলেন না৷ এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই দলীয় কাঠামোতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে৷।
নতুন এই ‘সুপার সিক্স’ বা শীর্ষ ছয়জনের তালিকায় জায়গা করে নিচ্ছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। এর মধ্যে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও হাসনাত আবদুল্লাহ জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পাবেন। অপরদিকে, সারজিস আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়াকে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব করা হচ্ছে।
২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নেতৃত্বে এনসিপি আত্মপ্রকাশ করে। তখন থেকেই নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী মুখ্য সমন্বয়ক, হাসনাত আবদুল্লাহ দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক এবং সারজিস আলম উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে দলে যোগ দিয়ে মুখপাত্রের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। জাতীয় নির্বাচন এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে এই নেতাদের ভূমিকা ও সক্রিয়তা দলের শীর্ষ পদে পরিবর্তনের এই সিদ্ধান্তকে ত্বরান্বিত করেছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। পরবর্তী সময়ে অনেকেই আমাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।
দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম ‘রাজনৈতিক পর্ষদের’ সদস্য সংখ্যা বর্তমানে ১৬ জন। পুনর্গঠিত কমিটিতে এই পর্ষদের বাকি ১০ সদস্যকে যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। তারা হলেন আবদুল্লাহ আল আমিন, আরিফুল ইসলাম আদীব, আতিকুর রহমান মোজাহিদ, আবদুল হান্নান মাসউদ, আলী আহসান জুনায়েদ, সারোয়ার তুষার, আকরাম হুসাইন, সালেহউদ্দিন সিফাত, মাহমুদা আলম মিতু এবং নুসরাত তাবাসসুম।
এনসিপির বর্তমান সাংগঠনিক কার্যক্রমে সংসদের আটজন প্রতিনিধি রয়েছেন। তারা হলেন নাহিদ ইসলাম, আখতার হোসেন, হাসনাত আবদুল্লাহ, আবদুল্লাহ আল আমিন, আতিকুর রহমান, হান্নান মাসউদ, মাহমুদা আলম এবং নুসরাত তাবাসসুম। এর মধ্যে মাহমুদা ও নুসরাত সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য হিসেবে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছেন। নতুন কাঠামোতে যুগ্ম আহ্বায়ক ও যুগ্ম সদস্যসচিবরা মূলত দলের বিভিন্ন সেল ও সহযোগী সংগঠনের দেখভাল করবেন।
দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন জানান, এনসিপি শুরুতে একটি আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে যাত্রা শুরু করলেও সময়ের সাথে সাথে অনেক নতুন মুখ দলে যুক্ত হয়েছে। কর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন এবং সাংগঠনিক গতিশীলতা নিশ্চিত করতে এই পুনর্গঠন প্রয়োজন ছিল। গত জানুয়ারি মাসে প্রথম যখন কাঠামোগত পরিবর্তনের আলোচনা শুরু হয়েছিল, তখন আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া ২০২৭ সালের শুরুর দিকে দলের প্রথম জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের লক্ষ্য থাকলেও তা আগের মেয়াদে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। এই পুনর্গঠনের মাধ্যমে দলটির অভ্যন্তরীণ কর্মতৎপরতা ও রাজনৈতিক অবস্থান আরও সুসংহত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অনেককে অ্যাকোমোডেট করার জন্য পরে কিছু পদ তৈরি করা হয়েছিল। এত দিন ধরে চলে আসা এই কাঠামো এখন পুনর্গঠন করা প্রয়োজন বলে দলের কাছে মনে হচ্ছে।’।
Leave a Reply